
মোঃ সৈয়দ মিয়া চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী চন্দনা শীলকে (২২) শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি স্বামী শিমুল শীলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৭, চট্টগ্রাম। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত থেকে শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নিহত চন্দনা শীলের স্বামী ও মামলার প্রধান আসামি শিমুল শীল (২৪), তাঁর ভাই পীযুষ শীল প্রকাশ প্রিতম (২৩), নজরুল ইসলাম (৩৮) ও মো. ইলিয়াস (৩৫)। এসআরবি-৭ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ অক্টোবর সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার ২ নম্বর বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের টেরিয়াইল স্কুলের পেছনে মানু মিয়া চৌধুরীর বাড়ির পাশে জমির আইলে এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। প্রথমে পরিচয় শনাক্ত করা না গেলেও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি চন্দনা শীলের বলে নিশ্চিত করেন।
নিহত চন্দনা সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম সৈয়দপুর এলাকার তেজেন্দ্র দাশের মেয়ে। প্রায় এক বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বড় কুমিরা এলাকার দিলীপ শীলের ছেলে শিমুল শীলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে চন্দনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। তাঁর স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা যৌতুক হিসেবে চার লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টাকা দিতে চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা। যৌতুকের টাকার চাপ সামলাতে চন্দনা স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিকের কাজ শুরু করেন। মৃত্যুর আগের দিনও নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে যান এবং যৌতুকের টাকা নিয়ে কান্নাকাটি করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আশ্বস্ত করে স্বামীর বাড়িতে পাঠান। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন ৯ অক্টোবর টেরিয়াইল বাজার এলাকায় চন্দনার সঙ্গে আসামিদের কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। পরে টেরিয়াইল স্কুলের পেছনে একটি জমির আইলে নিয়ে তাঁর দুই হাত ওড়না দিয়ে বেঁধে এবং একই ওড়না গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর ২৩, তারিখ ৯ অক্টোবর ২০২৬। এতে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয় এসআরবি-৭, চট্টগ্রাম জানায়, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তারে ছায়া তদন্ত এবং নজরদারি অব্যাহত ছিল। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিদের সীতাকুণ্ড এলাকায় অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সীতাকুণ্ডের বড় দারোগারহাট এলাকায় কুমিরা হাইওয়ে থানার সামনে থেকে প্রধান আসামি শিমুল শীলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে টেরিয়াইল বাজারের লাকি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে পীযুষ শীল প্রকাশ প্রিতমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী অভিযানে রাত ১১টা ২৫ মিনিটে বারবকুণ্ডের মান্দারীটোলা এলাকা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর শনিবার রাত ১২টা ১৫ মিনিটে সীতাকুণ্ডের ফকিরহাট এলাকা থেকে মো. ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-৭। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশিত হয়
প্রতিবেদকের নাম 



















