
মোঃ সৈয়দ মিয়া চট্টগ্রাম ব্যুরো: পতেঙ্গায় অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক চক্রের প্রধান ‘মালা ভাবি’র আস্তানায় ডিবি’র অভিযান: আড়ালে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়া?বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন চরপাড়া এলাকায় মাদক কারবার ও নারী সাপ্লাই সিন্ডিকেটের অন্যতম মূলহোতা কথিত ‘মালা ভাবি’র আস্তানায় ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির টের পেয়ে সুচতুর মালা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বুধবার ( ৭ অক্টোবর, ২০২৬) রাত আনুমানিক ১০টার পর নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিসি বন্দর) দিকনির্দেশনায় এসআই মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে ডিবির একটি চৌকস দল পতেঙ্গার চরপাড়া এলাকার ওই বিতর্কিত বাসায় এ অভিযান পরিচালনা করে।
মূলহোতা পলাতক, দুই নারীকে মুচলেকা দিয়ে ত্যাগ: অভিযানকালে ঘটনাস্থলে সাংবাদিক ও ডিবির দল উপস্থিত হলেও মূল অভিযুক্ত মালা বেগম আগেই চম্পট দেয়। পরবর্তীতে আস্তানা থেকে আটককৃত দুই নারীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হয়। মালার অপরাধ চক্র ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, দেশের তিনটি প্রথম সারির জাতীয় দৈনিক ও বিভিন্ন মাল্টিমিডিয়া মাধ্যমে মালা বেগমের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, ভিডিও ও অডিও প্রমাণসহ একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পর পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
বাড়িওয়ালার দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও অতিরিক্ত অ্যাডভান্সের অজুহাত: ঘটনার পর ওই বাড়ির মালিক আব্দুল আলীমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনিও গা-ঢাকা দেন। পরবর্তীতে আব্দুল আলীমের স্ত্রীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, “আমরা তাদের অনৈতিক ও অবৈধ ব্যবসার বিষয়টি জানতে পেরে বাসা ছেড়ে দিতে বলি। কিন্তু মালা বেগম বিপুল পরিমাণ অ্যাডভান্স টাকা দিয়েছিল, যা বর্তমানে ফেরত দেওয়ার মতো অর্থ আমাদের হাতে নেই। তাই তাদের বের করে দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না।” অন্যদিকে বাড়িটির অন্যান্য শরিকদের সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বাড়িওয়ালার ভাই অভিযোগ করে জানান, “পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি ভাগ হওয়ার পর আমার ভাই আব্দুল আলীম রুমগুলোর মালিক হয়। সে জেনে-শুনেই অতিরিক্ত অ্যাডভান্সের লোভে মালা বেগমকে ঘর ভাড়া দেয়। তাদের এই অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে আমাদের পরিবারের সদস্যরা অতিষ্ঠ। আমার ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যাতায়াতের সময় লজ্জিত ও বিব্রত হয়।
৯৯৯-এ অভিযোগের পরও মিলেনি প্রতিকার, বিএনপির কার্যালয় ঘেঁষেই অপরাধ: স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ একাধিকবার কল করে অভিযোগ জানিয়েও দৃশ্যমান প্রশাসনিক সহায়তা পাননি। ঘটনাস্থল চরপাড়ার মোড়ের এক ব্যবসায়ী জানান, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদকের কারবার চালিয়ে আসছে। অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, মালা বেগমের এই বিতর্কিত আস্তানার ঠিক ডান পাশের ভবনটির ওপরের তলাতেই অবস্থিত বিএনপি কার্যালয়। চোখের সামনে অনৈতিক কার্যক্রম ও অপরাধের সমারোহ থাকলেও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীলরা নীরব ভূমিকা পালন করছেন বলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ। এ বিষয়ে ডিবি কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত মালা বেগমকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো মূল্যে এই অপরাধ সিন্ডিকেট উপড়ে ফেলা হবে
প্রতিবেদকের নাম 



















