Dhaka ০৬:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
প্রেসিডেন্ট পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা আটোয়ারীতে ৭ শিক্ষক পাস করাতে পারেননি ৩ শিক্ষার্থীকে ধুনটে উধাও গৌরাঙ্গ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে জিনজিরায় পরিবেশ অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযান: অবৈধ ওয়াশিং ও ডাইং কারখানার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, বন্ধের নির্দেশ হত্যা ও ডাকাতি মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত লুৎফুর গ্রেপ্তার: চট্টগ্রামে লামা পুলিশের ঝটিকা অভিযান আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে ডিবির পুলিশ পরিদর্শক আনচারুল করিমকে সিএমপির সর্বোচ্চ পুরস্কার মেধাবীদের সম্মান জানাল, নজিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নাগরপুরে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগে মানববন্ধন ভাঙ্গুড়ায় ১৮০ পিস ইয়াবা ও ৬৯ হাজার টাকা নিয়ে মাদক ব্যবসায়ী আটক জিতব কি হারব সেটা নয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া নির্বাচন চাই না: ১১ দলীয় জোট

চট্টগ্রামে গ্যাসের নামে শুরু হয়েছে পকেট কাটা

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৩:৫১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৩ সময় দেখুন

মোঃ সৈয়দ মিয়া : চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে গ্যাসের সংকট তীব্রতর হতে শুরু করেছে। যা পাওয়া যাচ্ছে তার আবার চাপ কম। ঘরে জ্বলছে না চুলা, সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা। শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন প্রায় স্থবির। সাধারণ মানুষের নাওয়া-খাওয়া, আসা-যাওয়া বন্ধ হবারই পথে।

এমন পরিস্থিতিতে শুরু হয়েছে আরেক ভোগান্তি। গণপরিবহনসহ সংশ্লিষ্ট যানবাহনগুলোতে গ্যাস সংকটের নাম দিয়ে ভাড়া বাড়ানোর প্রবণতা শুরু হয়েছে। আর এর সরাসরি শিকার হচ্ছেন ভোক্তা সাধারণ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী গণপরিবহনগুলো দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা ভোগ্যপণ্য, কাঁচাবাজারসহ শাকসবজির মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রতি বৃহস্পতিবার নগরীর চান্দগাঁও থেকে পতেঙ্গা কাঠগড়ে যান রেহেনা বেগম। আজ তার সাথে মেয়ে-নাতিনাতনিরাও যাচ্ছেন। সিএনজি অটোরিকশা চালক তার কাছে ৭০০ টাকা ভাড়া চান। অথচ বিগত সময়ে তিনি ৩৩০ টাকা/৩৫০ টাকা ভাড়াতেই যাতায়াত করেছেন। জিজ্ঞেস করতেই সিএনজি চালক তাকে বলেন, খালা সারারাত জেগে গ্যাস নিছি। গ্যাসের চাপ কম। টাংকিতে গ্যাসের চেয়ে বেশি ঢুকতাছে হাওয়া। এই গ্যাসের বরকত নাই।

আরও পড়ুনঃ  লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত চট্টগ্রামের গ্রামাঞ্চল, উৎপাদনের পরও ঘরে নেই বিদ্যুৎ

লোকমান আলী প্রতিদিন ১ নম্বর রুটের বাসে করে চান্দগাঁও থেকে কোর্টবিল্ডিং আসেন ১২ টাকা ভাড়ায়। তবে গত দুইদিন ধরে তাকে ভাড়া দিতে হচ্ছে ২০ টাকা। বাসের চালক গাড়িতে উঠার সময়ই বলে দিচ্ছেন,‘উঠানামা ১০ টাকা, কোতোয়ালি মোড় ২০ টাকা ভাড়া।’ কি আর করা কর্মক্ষেত্রে তো আসতেই হচ্ছে- এভাবে ভোগান্তির কথা বলে গেলেন এই আইন পেশাজীবী।
গ্যাস সংকটে পরিবহন ভাড়া বেড়ে গেছে অজুহাত দেখিয়ে বিভিন্ন পণ্যদ্রব্যের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। চাল,ডাল,চিনি,পেঁয়াজ,রসুন, শাকসবজি বলতে গেলে প্রায় সব পণ্যের দামই বেড়ে গেছে।

আরও পড়ুনঃ  চৌদ্দগ্রামে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে গৃহবধূসহ ৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

সন্তানকে চান্দগাঁওয়ের একটি কিন্ডারগার্টেনে দিয়ে বাসায় ফেরার পথে নগরীর চান্দগাঁও পাঠানিয়া গোদা কাঁচাবাজারে যান গৃহিনী রোকসানা বেগম। পরিচিত একটি মুদি দোকানে গিয়ে তিনি নিউট্রিমোর ব্র্যান্ডের সয়াবিনের বড়ির একটি প্যাকেট কিনেন। ৫০ টাকার নোট দিলে দোকানদার তাকে ১৫ টাকা ফেরত দেন। রোকসানা জানেন এই পণ্যের মূল্য ৩০ টাকা। কিন্তু আজ তাকে দিতে হল ৩৫ টাকা।
জিজ্ঞেস করলে দোকানদার তাকে বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে গাড়িভাড়া বেড়ে গেছে। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাচ্ছে আপা। আগামীতে অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  নাগেশ্বরী দয়াময়ী পাইলট একাডেমিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬২ জন

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) বলছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৫০ মিলিয়ন থেকে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এতদিন জাতীয় গ্রিড থেকে দৈনিক বরাদ্দ দেওয়া হত ২৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে ১৯০ মিলিয়ন থেকে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।
কেজিডিসিএল’র উপমহাব্যবস্থাপক (বিতরণ উত্তর) প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিক খান বলেন, বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। দৈনিক বরাদ্দ ২৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও মিলছে ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। আমরা সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছি। সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

প্রেসিডেন্ট পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা

চট্টগ্রামে গ্যাসের নামে শুরু হয়েছে পকেট কাটা

আপডেটের সময়: ০৩:৫১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

মোঃ সৈয়দ মিয়া : চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে গ্যাসের সংকট তীব্রতর হতে শুরু করেছে। যা পাওয়া যাচ্ছে তার আবার চাপ কম। ঘরে জ্বলছে না চুলা, সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা। শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন প্রায় স্থবির। সাধারণ মানুষের নাওয়া-খাওয়া, আসা-যাওয়া বন্ধ হবারই পথে।

এমন পরিস্থিতিতে শুরু হয়েছে আরেক ভোগান্তি। গণপরিবহনসহ সংশ্লিষ্ট যানবাহনগুলোতে গ্যাস সংকটের নাম দিয়ে ভাড়া বাড়ানোর প্রবণতা শুরু হয়েছে। আর এর সরাসরি শিকার হচ্ছেন ভোক্তা সাধারণ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী গণপরিবহনগুলো দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা ভোগ্যপণ্য, কাঁচাবাজারসহ শাকসবজির মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রতি বৃহস্পতিবার নগরীর চান্দগাঁও থেকে পতেঙ্গা কাঠগড়ে যান রেহেনা বেগম। আজ তার সাথে মেয়ে-নাতিনাতনিরাও যাচ্ছেন। সিএনজি অটোরিকশা চালক তার কাছে ৭০০ টাকা ভাড়া চান। অথচ বিগত সময়ে তিনি ৩৩০ টাকা/৩৫০ টাকা ভাড়াতেই যাতায়াত করেছেন। জিজ্ঞেস করতেই সিএনজি চালক তাকে বলেন, খালা সারারাত জেগে গ্যাস নিছি। গ্যাসের চাপ কম। টাংকিতে গ্যাসের চেয়ে বেশি ঢুকতাছে হাওয়া। এই গ্যাসের বরকত নাই।

আরও পড়ুনঃ  প্রাইভেট পড়ালে এমপিও বাতিল: প্রতিমন্ত্রী পুতুল

লোকমান আলী প্রতিদিন ১ নম্বর রুটের বাসে করে চান্দগাঁও থেকে কোর্টবিল্ডিং আসেন ১২ টাকা ভাড়ায়। তবে গত দুইদিন ধরে তাকে ভাড়া দিতে হচ্ছে ২০ টাকা। বাসের চালক গাড়িতে উঠার সময়ই বলে দিচ্ছেন,‘উঠানামা ১০ টাকা, কোতোয়ালি মোড় ২০ টাকা ভাড়া।’ কি আর করা কর্মক্ষেত্রে তো আসতেই হচ্ছে- এভাবে ভোগান্তির কথা বলে গেলেন এই আইন পেশাজীবী।
গ্যাস সংকটে পরিবহন ভাড়া বেড়ে গেছে অজুহাত দেখিয়ে বিভিন্ন পণ্যদ্রব্যের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। চাল,ডাল,চিনি,পেঁয়াজ,রসুন, শাকসবজি বলতে গেলে প্রায় সব পণ্যের দামই বেড়ে গেছে।

আরও পড়ুনঃ  নাগেশ্বরী দয়াময়ী পাইলট একাডেমিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬২ জন

সন্তানকে চান্দগাঁওয়ের একটি কিন্ডারগার্টেনে দিয়ে বাসায় ফেরার পথে নগরীর চান্দগাঁও পাঠানিয়া গোদা কাঁচাবাজারে যান গৃহিনী রোকসানা বেগম। পরিচিত একটি মুদি দোকানে গিয়ে তিনি নিউট্রিমোর ব্র্যান্ডের সয়াবিনের বড়ির একটি প্যাকেট কিনেন। ৫০ টাকার নোট দিলে দোকানদার তাকে ১৫ টাকা ফেরত দেন। রোকসানা জানেন এই পণ্যের মূল্য ৩০ টাকা। কিন্তু আজ তাকে দিতে হল ৩৫ টাকা।
জিজ্ঞেস করলে দোকানদার তাকে বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে গাড়িভাড়া বেড়ে গেছে। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাচ্ছে আপা। আগামীতে অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  শক্তিশালী চোরাচালান ও সিন্ডিকেট নেটওয়ার্ক মুন্না ভাই সিগারেট সাম্রাজ্য

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) বলছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৫০ মিলিয়ন থেকে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এতদিন জাতীয় গ্রিড থেকে দৈনিক বরাদ্দ দেওয়া হত ২৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে ১৯০ মিলিয়ন থেকে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।
কেজিডিসিএল’র উপমহাব্যবস্থাপক (বিতরণ উত্তর) প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিক খান বলেন, বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। দৈনিক বরাদ্দ ২৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও মিলছে ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। আমরা সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছি। সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে