Dhaka ০৭:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মাদক কারবার বন্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও এলাকাবাসী এবং জামে মসজিদ কমিটির কঠোর হুঁশিয়ারি রুমা উপজেলায় ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্বভার অর্পণ ও শপথ গ্রহণ জুলাই সনদ ইস্যুতে আমরা দুই মেরুতে রয়েছি: ডা. শফিকুর বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা আমাদের ভবিষ্যতের অঙ্গীকার: শামা ওবায়েদ গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত মালিক দেশের ১৮ কোটি জনগণ: ভূমি প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যম শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ৭ বছরের দুই শিশুকে যৌন নিপিড়নের মামলায় বৃদ্ধ গ্রেপ্তার মধ্যরাতে জুলাই নিয়ে নাহিদ ইসলামের আবেগঘন বার্তা হরমুজে দ্বিতীয় কোনো ‘করিডর’ হতে দেবে না ইরান নাটোর লালপুরে বাম্পার ফলন, তবু দুশ্চিন্তা—শ্রমিক সংকটে লালপুরে পাট কাটায় ভোগান্তি

নাটোর লালপুরে বাম্পার ফলন, তবু দুশ্চিন্তা—শ্রমিক সংকটে লালপুরে পাট কাটায় ভোগান্তি

শাকিব আহম্মেদ, লালপুর উপজেলা (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হলেও তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো পাট কাটতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ফলে ভালো উৎপাদন হলেও কাঙ্ক্ষিত লাভ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) জানা যায়, এ বছর লালপুরে ৮ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। অনুকূল আবহাওয়া এবং উন্নত মানের বীজ ব্যবহারের কারণে ফলনও হয়েছে আশাব্যঞ্জক।স্থানীয় কৃষকদের মতে, বিঘাপ্রতি ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে বাজারে ভালো মানের পাটের দাম প্রতি মণ ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। তবে সময়মতো পাট কাটতে না পারলে আঁশের মান নষ্ট হয়ে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আরবাব ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল্লাহ ও সুমন জানান, মজুরি বাড়িয়েও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পাট কাটতে দেরি হচ্ছে এবং তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। চংধুপইল ইউনিয়নের কৃষক ফিরোজ আহমেদ বলেন, “জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি রয়েছে। কিন্তু সময়মতো পাট কাটতে না পারলে আঁশের মান নষ্ট হয়ে যাবে। দুড়দুড়িয়া এলাকার কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, আগে সহজেই কৃষি শ্রমিক পাওয়া গেলেও এখন অনেকেই অন্য পেশায় চলে যাওয়ায় শ্রমিক সংকট তীব্র হয়েছে। একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন দুয়ারিয়া এলাকার কৃষক ইউনুস আলী ফরাজি। তিনি বলেন, সময়মতো পাট কাটতে না পারলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

আরও পড়ুনঃ  মনপুরায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

পাট ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান বলেন, বাজারে পাটের দাম ভালো থাকলেও মান ঠিক না থাকলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন না। তাই দ্রুত পাট কেটে যথাসময়ে জাগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার বলেন, “এ বছর পাটের উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকদের পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত পাট কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে, বাম্পার ফলনের সুখবরের মাঝেও শ্রমিক সংকট লালপুরের পাটচাষিদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময়মতো পাট কাটা না গেলে ভালো উৎপাদনের সুফল থেকে বঞ্চিত হতে পারেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  মান্দায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে জামায়াতের গণমিছিল ও সমাবেশ
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

মাদক কারবার বন্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও এলাকাবাসী এবং জামে মসজিদ কমিটির কঠোর হুঁশিয়ারি

নাটোর লালপুরে বাম্পার ফলন, তবু দুশ্চিন্তা—শ্রমিক সংকটে লালপুরে পাট কাটায় ভোগান্তি

আপডেটের সময়: ০৬:১২:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

শাকিব আহম্মেদ, লালপুর উপজেলা (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হলেও তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো পাট কাটতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ফলে ভালো উৎপাদন হলেও কাঙ্ক্ষিত লাভ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) জানা যায়, এ বছর লালপুরে ৮ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। অনুকূল আবহাওয়া এবং উন্নত মানের বীজ ব্যবহারের কারণে ফলনও হয়েছে আশাব্যঞ্জক।স্থানীয় কৃষকদের মতে, বিঘাপ্রতি ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে বাজারে ভালো মানের পাটের দাম প্রতি মণ ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। তবে সময়মতো পাট কাটতে না পারলে আঁশের মান নষ্ট হয়ে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আরবাব ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল্লাহ ও সুমন জানান, মজুরি বাড়িয়েও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পাট কাটতে দেরি হচ্ছে এবং তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। চংধুপইল ইউনিয়নের কৃষক ফিরোজ আহমেদ বলেন, “জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি রয়েছে। কিন্তু সময়মতো পাট কাটতে না পারলে আঁশের মান নষ্ট হয়ে যাবে। দুড়দুড়িয়া এলাকার কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, আগে সহজেই কৃষি শ্রমিক পাওয়া গেলেও এখন অনেকেই অন্য পেশায় চলে যাওয়ায় শ্রমিক সংকট তীব্র হয়েছে। একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন দুয়ারিয়া এলাকার কৃষক ইউনুস আলী ফরাজি। তিনি বলেন, সময়মতো পাট কাটতে না পারলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

আরও পড়ুনঃ  গুলিতে নিহত নূরে আলমকে স্মরণ করল ভোলা জেলা ছাত্রদল

পাট ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান বলেন, বাজারে পাটের দাম ভালো থাকলেও মান ঠিক না থাকলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন না। তাই দ্রুত পাট কেটে যথাসময়ে জাগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার বলেন, “এ বছর পাটের উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকদের পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত পাট কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে, বাম্পার ফলনের সুখবরের মাঝেও শ্রমিক সংকট লালপুরের পাটচাষিদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময়মতো পাট কাটা না গেলে ভালো উৎপাদনের সুফল থেকে বঞ্চিত হতে পারেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  মনপুরায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত