Dhaka ০৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কাজিপুরের গান্ধাইল ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব চট্টগ্রামে সফর উপলক্ষে সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ( জামান ) কুলাউড়ার পূর্ব মনসুরে কালভার্ট এখন ম”র”ণফাঁ”দ, ঝুঁ”কি’তে শিক্ষার্থী ও পথচারীরা বাঁশখালীতে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, জব্দ ৬৮ ড্রেজার পাইপ ধুনটে পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ​ জামালপুরের মাদারগঞ্জে ৯৭ পিস ইয়াবাসহ তিনজন আটকের পর কারাগারে প্রেরণ আটোয়ারীতে যুব দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। জামালপুরের সরিষাবাড়িতেও সারাদেশের ন্যায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন লক্ষ্মীপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক আইন মানার তাগিদ সাঘাটায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মজুত, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

শক্তিশালী চোরাচালান ও সিন্ডিকেট নেটওয়ার্ক মুন্না ভাই সিগারেট সাম্রাজ্য

জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার: প্রধান সীমান্ত দিয়ে আসা অবৈধ ভারতীয় সিগারেটের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মৌলভীবাজার ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে তানিম মিয়া ওরফে ‘মুন্না ভাই’ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সরেজমিনে দেখা যায় আজ রোববার (৯ আগস্ট) স্থানীয়দের দাবি, জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ, মৌলভীবাজারের চাতলাপুর ও জকিগঞ্জের কালীগঞ্জ র্বডার এই চারটি সীমান্ত রুটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে তার নিয়ন্ত্রিত একটি শক্তিশালী চোরাচালান নেটওয়ার্ক। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তের বর্ডার মহাজন থেকে শুরু করে পরিবহন ও সরবরাহ নেটওয়ার্কের বিভিন্ন পর্যায় একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের পর এসব সিগারেট মৌলভীবাজার সদরসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। জৈন্তাপুর সীমান্তে বিশেষ নেটওয়ার্কের অভিযোগ : সংশ্লিষ্টদের দাবি, জৈন্তাপুর সীমান্তকে এই সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ সিগারেট দেশে প্রবেশ করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  চরণদ্বীপ দরবারে মাইজভান্ডারী কাফেলার শুভাগমন

 

একটি সুত্রে প্রকাশ-মাত্র ২৮ বছর বয়সী তানিম মিয়া ওরফে মুন্না ভাই কীভাবে চারটি সীমান্ত রুটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুরো সিলেট বিভাগের সিগারেট সিন্ডিকেটে প্রভাব বিস্তার করেছেন, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর পেছনে কারা অর্থ ও প্রভাব জোগাচ্ছেন, সে বিষয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে। আটটি রুটের মধ্যে চারটি সীমান্ত রুট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ : সরেজমিনে দেখা যায় আজ রোববার (৯ আগস্ট) অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্যে বলা হয়েছে, সিলেট ও মৌলভীবাজারের অবৈধ সিগারেট সরবরাহের নেটওয়ার্কের অন্তত আটটি রুটের মধ্যে চারটি প্রধান সীমান্ত রুটে মুনা ভাইয়ের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে। জৈন্তাপুর থেকে মৌলভীবাজার সদর পর্যন্ত চালানের নিরাপদ পরিবহনের জন্য একটি বিশেষ দল কাজ করে বলেও দাবি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে বিভিন্ন সময় রুট ও পরিবহনের কৌশল পরিবর্তন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। মুন্ন ভাইয়ের নামে মামলা নেই :সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো—এত বড় একটি অবৈধ সিগারেট নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রক হিসেবে নাম উঠে এলেও তানিম মিয়া ওরফে মুনা ভাইয়ের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়িয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  ভালো না লাগা রোগের ৭০০ বছরের প্রেসক্রিপসন, সুফিদের চিল্লা ও ডোপামিন ডিটক্স

 

গোপন চেইনে চলে সরবরাহ : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বর্ডার মহাজনের দাবি, সীমান্তের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মুনা ভাইয়ের সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি অত্যন্ত গোপন রাখা হয়। খুচরা বাজার থেকে শুরু করে বড় পাইকারি মহাজন পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রেই সরাসরি যোগাযোগের পরিবর্তে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চালান পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বৈধ তামাক ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অবৈধ ভারতীয় সিগারেটের এই ব্যবসার কারণে বৈধ ব্যবসা ও দেশীয় তামাকশিল্প আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি : সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ সিগারেট প্রবেশ বন্ধ করতে শুধু চালান আটক করলেই হবে না; এর সঙ্গে জড়িত মূল হোতা, অর্থের উৎস, পরিবহনকারী ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তানিম মিয়া ওরফে ‘মুনা ভাইয়ের’ বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কার্যকর তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুনঃ  মান্দায় ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

কাজিপুরের গান্ধাইল ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব

শক্তিশালী চোরাচালান ও সিন্ডিকেট নেটওয়ার্ক মুন্না ভাই সিগারেট সাম্রাজ্য

আপডেটের সময়: ০৬:০৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার: প্রধান সীমান্ত দিয়ে আসা অবৈধ ভারতীয় সিগারেটের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মৌলভীবাজার ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে তানিম মিয়া ওরফে ‘মুন্না ভাই’ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সরেজমিনে দেখা যায় আজ রোববার (৯ আগস্ট) স্থানীয়দের দাবি, জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ, মৌলভীবাজারের চাতলাপুর ও জকিগঞ্জের কালীগঞ্জ র্বডার এই চারটি সীমান্ত রুটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে তার নিয়ন্ত্রিত একটি শক্তিশালী চোরাচালান নেটওয়ার্ক। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তের বর্ডার মহাজন থেকে শুরু করে পরিবহন ও সরবরাহ নেটওয়ার্কের বিভিন্ন পর্যায় একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের পর এসব সিগারেট মৌলভীবাজার সদরসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। জৈন্তাপুর সীমান্তে বিশেষ নেটওয়ার্কের অভিযোগ : সংশ্লিষ্টদের দাবি, জৈন্তাপুর সীমান্তকে এই সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ সিগারেট দেশে প্রবেশ করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারে বড় শিল্প গড়ার আহ্বান ডিসি জাহিদুল

 

একটি সুত্রে প্রকাশ-মাত্র ২৮ বছর বয়সী তানিম মিয়া ওরফে মুন্না ভাই কীভাবে চারটি সীমান্ত রুটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুরো সিলেট বিভাগের সিগারেট সিন্ডিকেটে প্রভাব বিস্তার করেছেন, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর পেছনে কারা অর্থ ও প্রভাব জোগাচ্ছেন, সে বিষয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে। আটটি রুটের মধ্যে চারটি সীমান্ত রুট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ : সরেজমিনে দেখা যায় আজ রোববার (৯ আগস্ট) অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্যে বলা হয়েছে, সিলেট ও মৌলভীবাজারের অবৈধ সিগারেট সরবরাহের নেটওয়ার্কের অন্তত আটটি রুটের মধ্যে চারটি প্রধান সীমান্ত রুটে মুনা ভাইয়ের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে। জৈন্তাপুর থেকে মৌলভীবাজার সদর পর্যন্ত চালানের নিরাপদ পরিবহনের জন্য একটি বিশেষ দল কাজ করে বলেও দাবি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে বিভিন্ন সময় রুট ও পরিবহনের কৌশল পরিবর্তন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। মুন্ন ভাইয়ের নামে মামলা নেই :সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো—এত বড় একটি অবৈধ সিগারেট নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রক হিসেবে নাম উঠে এলেও তানিম মিয়া ওরফে মুনা ভাইয়ের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়িয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটে ইয়াবাসহ মাদক কারবারী আটক

 

গোপন চেইনে চলে সরবরাহ : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বর্ডার মহাজনের দাবি, সীমান্তের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মুনা ভাইয়ের সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি অত্যন্ত গোপন রাখা হয়। খুচরা বাজার থেকে শুরু করে বড় পাইকারি মহাজন পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রেই সরাসরি যোগাযোগের পরিবর্তে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চালান পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বৈধ তামাক ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অবৈধ ভারতীয় সিগারেটের এই ব্যবসার কারণে বৈধ ব্যবসা ও দেশীয় তামাকশিল্প আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি : সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ সিগারেট প্রবেশ বন্ধ করতে শুধু চালান আটক করলেই হবে না; এর সঙ্গে জড়িত মূল হোতা, অর্থের উৎস, পরিবহনকারী ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তানিম মিয়া ওরফে ‘মুনা ভাইয়ের’ বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কার্যকর তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুনঃ  ভালো না লাগা রোগের ৭০০ বছরের প্রেসক্রিপসন, সুফিদের চিল্লা ও ডোপামিন ডিটক্স