Dhaka ০৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাহস থাকলে শেখ হাসিনাকে দেশে এসে আইনের মুখোমুখি হতে বললেন ডা. জাহিদ মনপুরায় তীর ঘেঁষে তোলা হচ্ছে বালু হাজার কোটি টাকার উপকূল রক্ষা প্রকল্প হুমকির মুখে হেফাজতে আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাৎ নাগরপুরে ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ শক্তিশালী চোরাচালান ও সিন্ডিকেট নেটওয়ার্ক মুন্না ভাই সিগারেট সাম্রাজ্য অলি আহমদকে জামায়াতজোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা প্রত্যেকটি মানুষের সমস্যা প্রধানমন্ত্রীর জানা আছে: অর্থমন্ত্রী বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ: প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুই মনোনয়নপত্র নিল বিএনপি দেশে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে : নাহিদ ইসলাম

শক্তিশালী চোরাচালান ও সিন্ডিকেট নেটওয়ার্ক মুন্না ভাই সিগারেট সাম্রাজ্য

জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার: প্রধান সীমান্ত দিয়ে আসা অবৈধ ভারতীয় সিগারেটের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মৌলভীবাজার ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে তানিম মিয়া ওরফে ‘মুন্না ভাই’ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সরেজমিনে দেখা যায় আজ রোববার (৯ আগস্ট) স্থানীয়দের দাবি, জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ, মৌলভীবাজারের চাতলাপুর ও জকিগঞ্জের কালীগঞ্জ র্বডার এই চারটি সীমান্ত রুটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে তার নিয়ন্ত্রিত একটি শক্তিশালী চোরাচালান নেটওয়ার্ক। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তের বর্ডার মহাজন থেকে শুরু করে পরিবহন ও সরবরাহ নেটওয়ার্কের বিভিন্ন পর্যায় একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের পর এসব সিগারেট মৌলভীবাজার সদরসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। জৈন্তাপুর সীমান্তে বিশেষ নেটওয়ার্কের অভিযোগ : সংশ্লিষ্টদের দাবি, জৈন্তাপুর সীমান্তকে এই সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ সিগারেট দেশে প্রবেশ করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  পাবনায় যুবলীগ নেতাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

 

একটি সুত্রে প্রকাশ-মাত্র ২৮ বছর বয়সী তানিম মিয়া ওরফে মুন্না ভাই কীভাবে চারটি সীমান্ত রুটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুরো সিলেট বিভাগের সিগারেট সিন্ডিকেটে প্রভাব বিস্তার করেছেন, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর পেছনে কারা অর্থ ও প্রভাব জোগাচ্ছেন, সে বিষয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে। আটটি রুটের মধ্যে চারটি সীমান্ত রুট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ : সরেজমিনে দেখা যায় আজ রোববার (৯ আগস্ট) অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্যে বলা হয়েছে, সিলেট ও মৌলভীবাজারের অবৈধ সিগারেট সরবরাহের নেটওয়ার্কের অন্তত আটটি রুটের মধ্যে চারটি প্রধান সীমান্ত রুটে মুনা ভাইয়ের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে। জৈন্তাপুর থেকে মৌলভীবাজার সদর পর্যন্ত চালানের নিরাপদ পরিবহনের জন্য একটি বিশেষ দল কাজ করে বলেও দাবি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে বিভিন্ন সময় রুট ও পরিবহনের কৌশল পরিবর্তন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। মুন্ন ভাইয়ের নামে মামলা নেই :সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো—এত বড় একটি অবৈধ সিগারেট নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রক হিসেবে নাম উঠে এলেও তানিম মিয়া ওরফে মুনা ভাইয়ের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়িয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  ফ্যাসিবাদ হাসিনা সরকার পতনের ২ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে, মাদারগঞ্জে বিএনপি কর্তৃক গণমিছিলের আয়োজন ও আনন্দ র‍্যালী

 

গোপন চেইনে চলে সরবরাহ : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বর্ডার মহাজনের দাবি, সীমান্তের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মুনা ভাইয়ের সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি অত্যন্ত গোপন রাখা হয়। খুচরা বাজার থেকে শুরু করে বড় পাইকারি মহাজন পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রেই সরাসরি যোগাযোগের পরিবর্তে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চালান পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বৈধ তামাক ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অবৈধ ভারতীয় সিগারেটের এই ব্যবসার কারণে বৈধ ব্যবসা ও দেশীয় তামাকশিল্প আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি : সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ সিগারেট প্রবেশ বন্ধ করতে শুধু চালান আটক করলেই হবে না; এর সঙ্গে জড়িত মূল হোতা, অর্থের উৎস, পরিবহনকারী ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তানিম মিয়া ওরফে ‘মুনা ভাইয়ের’ বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কার্যকর তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুনঃ  জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের শ্রদ্ধাঞ্জলি
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সাহস থাকলে শেখ হাসিনাকে দেশে এসে আইনের মুখোমুখি হতে বললেন ডা. জাহিদ

শক্তিশালী চোরাচালান ও সিন্ডিকেট নেটওয়ার্ক মুন্না ভাই সিগারেট সাম্রাজ্য

আপডেটের সময়: ০৬:০৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার: প্রধান সীমান্ত দিয়ে আসা অবৈধ ভারতীয় সিগারেটের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মৌলভীবাজার ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে তানিম মিয়া ওরফে ‘মুন্না ভাই’ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সরেজমিনে দেখা যায় আজ রোববার (৯ আগস্ট) স্থানীয়দের দাবি, জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ, মৌলভীবাজারের চাতলাপুর ও জকিগঞ্জের কালীগঞ্জ র্বডার এই চারটি সীমান্ত রুটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে তার নিয়ন্ত্রিত একটি শক্তিশালী চোরাচালান নেটওয়ার্ক। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তের বর্ডার মহাজন থেকে শুরু করে পরিবহন ও সরবরাহ নেটওয়ার্কের বিভিন্ন পর্যায় একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের পর এসব সিগারেট মৌলভীবাজার সদরসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। জৈন্তাপুর সীমান্তে বিশেষ নেটওয়ার্কের অভিযোগ : সংশ্লিষ্টদের দাবি, জৈন্তাপুর সীমান্তকে এই সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ সিগারেট দেশে প্রবেশ করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, ভুতুড়ে বিল ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে গাইবান্ধায় ১১ দলের স্মারকলিপি

 

একটি সুত্রে প্রকাশ-মাত্র ২৮ বছর বয়সী তানিম মিয়া ওরফে মুন্না ভাই কীভাবে চারটি সীমান্ত রুটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুরো সিলেট বিভাগের সিগারেট সিন্ডিকেটে প্রভাব বিস্তার করেছেন, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর পেছনে কারা অর্থ ও প্রভাব জোগাচ্ছেন, সে বিষয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে। আটটি রুটের মধ্যে চারটি সীমান্ত রুট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ : সরেজমিনে দেখা যায় আজ রোববার (৯ আগস্ট) অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্যে বলা হয়েছে, সিলেট ও মৌলভীবাজারের অবৈধ সিগারেট সরবরাহের নেটওয়ার্কের অন্তত আটটি রুটের মধ্যে চারটি প্রধান সীমান্ত রুটে মুনা ভাইয়ের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে। জৈন্তাপুর থেকে মৌলভীবাজার সদর পর্যন্ত চালানের নিরাপদ পরিবহনের জন্য একটি বিশেষ দল কাজ করে বলেও দাবি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে বিভিন্ন সময় রুট ও পরিবহনের কৌশল পরিবর্তন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। মুন্ন ভাইয়ের নামে মামলা নেই :সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো—এত বড় একটি অবৈধ সিগারেট নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রক হিসেবে নাম উঠে এলেও তানিম মিয়া ওরফে মুনা ভাইয়ের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়িয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  গাজীপুরে ১১ লাখ টাকার বিদেশি মদসহ দুইজন গ্রেপ্তার

 

গোপন চেইনে চলে সরবরাহ : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বর্ডার মহাজনের দাবি, সীমান্তের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মুনা ভাইয়ের সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি অত্যন্ত গোপন রাখা হয়। খুচরা বাজার থেকে শুরু করে বড় পাইকারি মহাজন পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রেই সরাসরি যোগাযোগের পরিবর্তে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চালান পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বৈধ তামাক ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অবৈধ ভারতীয় সিগারেটের এই ব্যবসার কারণে বৈধ ব্যবসা ও দেশীয় তামাকশিল্প আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি : সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ সিগারেট প্রবেশ বন্ধ করতে শুধু চালান আটক করলেই হবে না; এর সঙ্গে জড়িত মূল হোতা, অর্থের উৎস, পরিবহনকারী ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তানিম মিয়া ওরফে ‘মুনা ভাইয়ের’ বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কার্যকর তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুনঃ  জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের শ্রদ্ধাঞ্জলি