
শাকিব আহম্মেদ, লালপুর উপজেলা (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরের লালপুরে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য গাঁজা সরবরাহ করতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন এক দম্পতি। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাঁজার চালান গ্রহণকারী স্থানীয় আরও এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা, মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ডিসকভার (১০০ সিসি) মোটরসাইকেল ও ৩টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
শুক্রবার (৭ আগস্ট, ২০২৬) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে লালপুর থানাধীন গোপালপুর বেলগেট এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। শনিবার আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর থানার ইসবপুর গ্রামের মো. আব্দুল লতিফের ছেলে মো. আহসান হাবীব (৪৫), তার স্ত্রী উত্তর ফরিদপুর গ্রামের মো. আনসার আলীর মেয়ে মোছা. আরফিনা বেগম (৩৪) এবং নাটোরের লালপুর থানার মনিহারপুর গ্রামের (বর্তমান ঠিকানা) মো. জুলমত শেখের ছেলে মো. রাজিব শেখ (৩৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাটোরের পুলিশ সুপার, বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) নির্দেশনায় শুক্রবার রাতে চেকপোস্ট পরিচালনা করছিল পুলিশ। লালপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আল মাসুমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গোপালপুর বেলগেট সংলগ্ন হযরত শাহ সুফী বোরহান উদ্দিন বাগদাদী (রঃ) ওরফে বুড়া পীর সাহেবের মাজার জামে মসজিদ ও দারুস সুন্নাহ হাফিজিয়া মাদ্রাসার সামনের পাকা রাস্তায় অবস্থান নেয়।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে বনপাড়ার দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল চেকপোস্টে এলে পুলিশ সেটি থামায়। এ সময় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তল্লাশিকালে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী নারীর মাঝখানে থাকা একটি নেভি ব্লু রঙের লেডিস ব্যাগের ভেতর পলিথিন ও স্বচ্ছ টেপ দিয়ে মোড়ানো ৫টি পোটলা থেকে ২ কেজি ৫০০ গ্রাম শুকনা গাঁজা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই গাঁজা সরবরাহকারী আহসান হাবীব ও তার স্ত্রী আরফিনা বেগমকে আটক করে পুলিশ।
পরে আটককৃত স্বামী-স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, এই গাঁজার চালানটি লালপুরের মনিহারপুর গ্রামের মো. রাজিব শেখের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আনা হয়েছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই লালপুর থানাধীন মনিহারপুর গ্রামে রাজিব শেখের শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকেও গ্রেফতার করা হয়।
আসামিদের বিরুদ্ধে একাধিক পূর্ববর্তী মামলা:
থানার রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আহসান হাবীব একজন পেশাদার ও কুখ্যাত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে, কুড়িগ্রামের চিলমারী থানায় ডাকাতির অভিযোগে (৩৯৫/৩৯৭ ধারা) এবং বগুড়ার শিবগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে (১৯-এ/১৯-এফ) মামলাসহ গাইবান্ধার আদালতে আরও তিনটি সিআর মামলা চলমান রয়েছে (মোট ৬টি মামলা)।
এছাড়া গাঁজা গ্রহণকারী আসামি মো. রাজিব শেখের বিরুদ্ধেও কুড়িগ্রাম থানায় ২০২৫ সালের একটি মাদক মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় শনিবার (৮ আগস্ট) লালপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণি-১৯(ক)/৩৮/৪১ ধারায় একটি মামলা (মামলা নং-০৬) দায়ের করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবারই আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
প্রতিবেদকের নাম 


















