Dhaka ১০:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বাঘায় ১০০ গ্রাম শুকনো গাঁজাসহ যুবক আটক প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে “মেন্টাল হেলথ ফেস্ট ২০২৬” অনুষ্ঠিত ধামইরহাটে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গাছ কেটে পুকুরের মাছ চুরি করল দুষ্কৃতকারীরা মোরেলগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান: ৪ জনকে কারাদণ্ড ও জরিমানা তাহিরপুরে মিয়ারচর খেয়া পাড়াপাড়ে মালামালের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার প্রতিবাদে মানববন্ধন নাটোর লালপুরে ইমু হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জার হ্যাকিং চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, জব্দ ৫টি ফোন ও ১০ সিম পত্নীতলায় মধইল বি এল উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান মেলা ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠান শুরু জামালপুরে গৃহবধূকে ব্ল্যাকমেইল ও ধর্ষণের মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড গাইবান্ধায় সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে দীঘিনালায় এসএসসি রেজাল্ট ভরাডুবি, দুই বিদ্যালয়ে সবাই ফেল

এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫, দুই ক্ষেত্রেই ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। আজ সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানরা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেন। ২০২৫ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট। গত বছর যেখানে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল, এবার সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জনে।

সাধারণ বোর্ডে পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ৪ হাজার ৫৩৯ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৬১০ জন। পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। এসব বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। সে হিসাবে এবার সাধারণ বোর্ডে পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশীয় পয়েন্ট। জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও গত বছরের ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ থেকে কমে এবার ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন হয়েছে। অর্থাৎ কমেছে ১৯ হাজার ৯ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮২ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৭ জন। পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৭১৬ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬৪ জন। এ বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৫১ জন।

আরও পড়ুনঃ  প্রত্যেকটি মানুষের সমস্যা প্রধানমন্ত্রীর জানা আছে: অর্থমন্ত্রী

পাস ও জিপিএ-৫, দুই ক্ষেত্রেই ছাত্রীরা এগিয়ে
সব বোর্ড মিলিয়ে এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। তাদের মধ্যে ছাত্রীদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ছাত্রদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে। মোট জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জনের মধ্যে ছাত্রী ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন। ছাত্র ৫২ হাজার ৭৮০ জন। চলতি বছর মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসিতে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের দাখিলে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি ভোকেশনালে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন ফরম পূরণ করে।

আরও পড়ুনঃ  জুলাই জাদুঘর যেন দলীয় ইতিহাসের জায়গা না হয়: নাহিদ

তিনভাবে জানা যাবে ফল
শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট এবং মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর কমন ওয়েবসাইট eduboardresults.gov.bd, educationboardresults.gov.bd এ রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল দেখা যাবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকেও ফল পাওয়া যাবে। এসএমএসে ফল জানতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে `SSC` লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, এরপর রোল নম্বর ও পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। ঢাকা বোর্ডের ক্ষেত্রে উদাহরণ হবে `SSC DHA ROLL YEAR`। এ ছাড়া ১৬২২২ নম্বরেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানা যাবে। প্রতিটি এসএমএসের জন্য ১ টাকা ৩৯ পয়সা চার্জ প্রযোজ্য হবে, যার মধ্যে সব ধরনের কর অন্তর্ভুক্ত। দাখিল পরীক্ষার্থীদের `SSC MAD ROLL YEAR` এবং কারিগরি বোর্ডের এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষার্থীদের `SSC TEC ROLL YEAR` লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীরা বোর্ডের ওয়েবসাইটের ‘Result’ কর্নারে গিয়ে প্রতিষ্ঠান কোড ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল শিট ডাউনলোড করতে পারবে। এছাড়া result.bteb.gov.bd, educationboardresults.gov.bd এবং eduboardresult.gov.bd ওয়েবসাইটে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে গ্রেডভিত্তিক ট্রান্সক্রিপ্ট পাওয়া যাবে। দাখিল পরীক্ষার্থীরা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট bmeb.gov.bd এর ‘অনলাইন সেবা-০১’ থেকে ‘দাখিল পরীক্ষা ২০২৬’ নির্বাচন করে ফল জানতে পারবে। এছাড়া ebmeb.gov.bd ওয়েবসাইটে ‘DakhileRPS 2026’ নির্বাচন করে জেলার কেন্দ্রভিত্তিক মাদ্রাসার ফলাফল শিটও ডাউনলোড করা যাবে।

পরীক্ষা শেষের প্রায় তিন মাস পর ফল
চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। দাখিল ও এসএসসি ভোকেশনালের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ মে। সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হয়। সে হিসাবে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা থাকলেও এবার প্রায় তিন সপ্তাহ পর ফল প্রকাশ করা হয়েছে। জুলাই মাসে দেশব্যাপী প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং চলমান এইচএসসি পরীক্ষার কারণে উত্তরপত্র মূল্যায়নে বিলম্ব হওয়ায় ফল প্রকাশে দেরি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এবারের পরীক্ষার জন্য মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। তবে পরীক্ষায় বাস্তবে অংশ নেয় ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। তাদের মধ্যে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  জুলাই সনদ ইস্যুতে আমরা দুই মেরুতে রয়েছি: ডা. শফিকুর

পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১১ থেকে ১৭ আগস্ট
প্রকাশিত ফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে সোমবার (১৭ আগস্ট) পর্যন্ত অনলাইনে এ আবেদন নেওয়া হবে। আবেদন প্রক্রিয়া ও বিস্তারিত নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হবে। এদিকে, এ বছর বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫৭টি, যেখানে ২০২৫ সালে ছিল ৪৮টি। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান বেড়ে হয়েছে ২২৬টি, গত বছর ছিল ৮৬টি। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে ২৯টি, যেখানে ২০২৫ সালে কোনো শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান ছিল না। এ বছর মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩০৩টি এবং পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা ২০১টি বেড়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বাঘায় ১০০ গ্রাম শুকনো গাঁজাসহ যুবক আটক

এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ

আপডেটের সময়: ০৪:৫৯:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫, দুই ক্ষেত্রেই ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। আজ সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানরা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেন। ২০২৫ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট। গত বছর যেখানে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল, এবার সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জনে।

সাধারণ বোর্ডে পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ৪ হাজার ৫৩৯ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৬১০ জন। পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। এসব বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। সে হিসাবে এবার সাধারণ বোর্ডে পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশীয় পয়েন্ট। জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও গত বছরের ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ থেকে কমে এবার ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন হয়েছে। অর্থাৎ কমেছে ১৯ হাজার ৯ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮২ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৭ জন। পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৭১৬ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬৪ জন। এ বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৫১ জন।

আরও পড়ুনঃ  মমতা ব্যানার্জীর গাড়িতে হামলা, প্রাণনাশের আশঙ্কার অভিযোগ

পাস ও জিপিএ-৫, দুই ক্ষেত্রেই ছাত্রীরা এগিয়ে
সব বোর্ড মিলিয়ে এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। তাদের মধ্যে ছাত্রীদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ছাত্রদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে। মোট জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জনের মধ্যে ছাত্রী ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন। ছাত্র ৫২ হাজার ৭৮০ জন। চলতি বছর মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসিতে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের দাখিলে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি ভোকেশনালে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন ফরম পূরণ করে।

আরও পড়ুনঃ  দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হবে গ্যাস সরবরাহ: জ্বালানিমন্ত্রী

তিনভাবে জানা যাবে ফল
শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট এবং মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর কমন ওয়েবসাইট eduboardresults.gov.bd, educationboardresults.gov.bd এ রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল দেখা যাবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকেও ফল পাওয়া যাবে। এসএমএসে ফল জানতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে `SSC` লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, এরপর রোল নম্বর ও পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। ঢাকা বোর্ডের ক্ষেত্রে উদাহরণ হবে `SSC DHA ROLL YEAR`। এ ছাড়া ১৬২২২ নম্বরেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানা যাবে। প্রতিটি এসএমএসের জন্য ১ টাকা ৩৯ পয়সা চার্জ প্রযোজ্য হবে, যার মধ্যে সব ধরনের কর অন্তর্ভুক্ত। দাখিল পরীক্ষার্থীদের `SSC MAD ROLL YEAR` এবং কারিগরি বোর্ডের এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষার্থীদের `SSC TEC ROLL YEAR` লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীরা বোর্ডের ওয়েবসাইটের ‘Result’ কর্নারে গিয়ে প্রতিষ্ঠান কোড ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল শিট ডাউনলোড করতে পারবে। এছাড়া result.bteb.gov.bd, educationboardresults.gov.bd এবং eduboardresult.gov.bd ওয়েবসাইটে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে গ্রেডভিত্তিক ট্রান্সক্রিপ্ট পাওয়া যাবে। দাখিল পরীক্ষার্থীরা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট bmeb.gov.bd এর ‘অনলাইন সেবা-০১’ থেকে ‘দাখিল পরীক্ষা ২০২৬’ নির্বাচন করে ফল জানতে পারবে। এছাড়া ebmeb.gov.bd ওয়েবসাইটে ‘DakhileRPS 2026’ নির্বাচন করে জেলার কেন্দ্রভিত্তিক মাদ্রাসার ফলাফল শিটও ডাউনলোড করা যাবে।

পরীক্ষা শেষের প্রায় তিন মাস পর ফল
চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। দাখিল ও এসএসসি ভোকেশনালের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ মে। সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হয়। সে হিসাবে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা থাকলেও এবার প্রায় তিন সপ্তাহ পর ফল প্রকাশ করা হয়েছে। জুলাই মাসে দেশব্যাপী প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং চলমান এইচএসসি পরীক্ষার কারণে উত্তরপত্র মূল্যায়নে বিলম্ব হওয়ায় ফল প্রকাশে দেরি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এবারের পরীক্ষার জন্য মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। তবে পরীক্ষায় বাস্তবে অংশ নেয় ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। তাদের মধ্যে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ৯১ সালের পর ভোটে হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১১ থেকে ১৭ আগস্ট
প্রকাশিত ফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে সোমবার (১৭ আগস্ট) পর্যন্ত অনলাইনে এ আবেদন নেওয়া হবে। আবেদন প্রক্রিয়া ও বিস্তারিত নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হবে। এদিকে, এ বছর বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫৭টি, যেখানে ২০২৫ সালে ছিল ৪৮টি। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান বেড়ে হয়েছে ২২৬টি, গত বছর ছিল ৮৬টি। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে ২৯টি, যেখানে ২০২৫ সালে কোনো শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান ছিল না। এ বছর মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩০৩টি এবং পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা ২০১টি বেড়েছে।