
আব্দুর রাজ্জাক সরকার, স্টাফ রিপোর্টার: গাইবান্ধায় সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপরোক্ত কথাগুলি বলেন। তিনি আরও বলেন- রাস্তার ধারে রঙ্গিন ফুলের গাছ লাগালে সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। গাইবান্ধা সদর, পলাশবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ প্রধান সড়কের দুপাশে পলাশ, শিমুল, কৃষ্ণচূড়া, জারুল গাছ লাগাতে হবে। ১০ বছর পর গাছ বড় হয়ে আশানুরূপ ফল পাবে। যদি সবাই মিলে পলাশবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ প্রধান সড়ক দু পাশে পলাশফুল গাছের চারা লাগানো যায়। তাহলে রাস্তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। দেখতে ভাল লাগবে৷ এতে করে মানুষ দূর দুরান্ত থেকে দেখতে গাইবান্ধায় আসবে। তোমাদের প্রত্যেককে কষ্ট করে গাছ লাগাতে হবে,বাঁচাতে হবে এবং পরিচর্যা করতে হবে। ৬ মাস পরিচর্যা করলে গাছ বড় হয়। শুধু তাই নয়, জেলার ৭ টি উপজেলায় ১২ লাখ গাছ লাগাতে হবে। সে সাথে সদর ৮১ টি ইউনিয়ন ও ৯ টি ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান, জনপ্রতিনিধিদের গাছ লাগাতে হবে এবং এনজিওদেরকেও। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা প্রতিফলন করতে হবে।শুধু প্রতিফলন এর থেকে বেশি করে গাছ লাগাতে হবে।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন ও জেলা সামাজিক বনায়ন জোন এর আয়োজনে ” বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে লক্ষ্য রেখে ১০ আগষ্ট ২০২৬ হতে ১৬ আগষ্ট পর্যন্ত গাইবান্ধা শহরের স্বাধীনতা প্রাঙ্গনে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে র্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমে একটি র্যালী মেলা স্থল থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শুরুস্থলে গিয়ে শেষ হয়। র্যালী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের সভাপতি সামাজিক বন বিভাগ রংপুর’র বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা সিভিল সার্জন ডা: মো: রফিকুজ্জামান, গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অতিরিক্ত উপ-পরিচালক উদ্যান) রোস্তম আলী, গাইবান্ধা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) বিদ্রোহ কুমার কুন্ডু, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি গাইবান্ধা শহর শাখার সভাপতি শহিদুজ্জামান শহীদ, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ প্রমুখ।
অতিথিরা বলেন- বাংলাদেশকে সবুজ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। জলবায়ু মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিষয়। এর আগে প্রতিটি নগরায়ণ উন্নীতকরণের লক্ষ্যে বিপুল পরিমান গাছ কাটা হয়েছে। এ জন্য বৃক্ষরোপণ করতে হবে। ফলজ ও ঔষধী গাছ সব থেকে ভাল। শুধু গাছ লাগালেই হবে না। পরিচর্যা করতে হবে। বৃক্ষ রোপনে শিক্ষার্থীদের উদ্ভুদ্ধ করতে হবে। তারা যেন পরিবার ও প্রতিবেশীকে মেলায় এসে গাছ কিনতে উদ্ভুদ্ধ করে। গাছ কার্বনডাইঅক্সাইড শোষন করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন: গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মুশফিকুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার, এ,কে এম হেদায়েতুল ইসলাম, গাইবান্ধা সামাজিক বনায়ন জোন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ.এম শরিফুল ইসলাম মন্ডল, সহ জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগন, শিক্ষকবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলওয়াত মাওলানা জোবায়ের আহমেদ। পবিত্র গীতা পাঠ করেন গাইবান্ধা শ্রী শ্রী শনি মন্দির সহকারী পুরোহিত সুমন চক্রবর্তী।
আলোচনা শেষে গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরকে আমলকি, কৃষ্ণচূড়া, লেবু সহ ৩ প্রকারের ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ চারা বিতরণ করেন প্রধান অতিথি। এবং অতিথিবৃন্দ ষ্টল প্রদর্শন করে। মেলায় বিভিল প্রকার ফলজ, বনজ, ঔষধী গাছ সহ বিভিন্ন প্রকার চারার ৩০ টি স্টল প্রদর্শনী হয়। ২৫ কোটি গাছ ৫ বছরে লাগাতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ।
প্রতিবেদকের নাম 


















