Dhaka ০৮:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ক্লাসের পড়া ক্লাসে পড়ালে কোনো ছাত্র-ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়তে হবে না: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী কটিয়াদীতে মাছ শিকারে যাওয়া এক প্রবাসীর বুকে ছুরি গাঁথা মরদেহ উদ্ধার আমরা গত নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশকে বিপদ থেকে রক্ষা করেছি: প্রধানমন্ত্রী বোনকে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হত্যার হুমকির অভিযোগ ভাইয়ের বিরুদ্ধে মমতা ব্যানার্জীর গাড়িতে হামলা, প্রাণনাশের আশঙ্কার অভিযোগ সাহস থাকলে শেখ হাসিনাকে দেশে এসে আইনের মুখোমুখি হতে বললেন ডা. জাহিদ মনপুরায় তীর ঘেঁষে তোলা হচ্ছে বালু হাজার কোটি টাকার উপকূল রক্ষা প্রকল্প হুমকির মুখে হেফাজতে আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাৎ নাগরপুরে ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ শক্তিশালী চোরাচালান ও সিন্ডিকেট নেটওয়ার্ক মুন্না ভাই সিগারেট সাম্রাজ্য

শক্তিশালী চোরাচালান ও সিন্ডিকেট নেটওয়ার্ক মুন্না ভাই সিগারেট সাম্রাজ্য

জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার: প্রধান সীমান্ত দিয়ে আসা অবৈধ ভারতীয় সিগারেটের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মৌলভীবাজার ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে তানিম মিয়া ওরফে ‘মুন্না ভাই’ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সরেজমিনে দেখা যায় আজ রোববার (৯ আগস্ট) স্থানীয়দের দাবি, জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ, মৌলভীবাজারের চাতলাপুর ও জকিগঞ্জের কালীগঞ্জ র্বডার এই চারটি সীমান্ত রুটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে তার নিয়ন্ত্রিত একটি শক্তিশালী চোরাচালান নেটওয়ার্ক। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তের বর্ডার মহাজন থেকে শুরু করে পরিবহন ও সরবরাহ নেটওয়ার্কের বিভিন্ন পর্যায় একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের পর এসব সিগারেট মৌলভীবাজার সদরসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। জৈন্তাপুর সীমান্তে বিশেষ নেটওয়ার্কের অভিযোগ : সংশ্লিষ্টদের দাবি, জৈন্তাপুর সীমান্তকে এই সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ সিগারেট দেশে প্রবেশ করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  পরিবেশ রক্ষায় শাজাহানপুরে জামায়াতের যুব বিভাগের উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ

 

একটি সুত্রে প্রকাশ-মাত্র ২৮ বছর বয়সী তানিম মিয়া ওরফে মুন্না ভাই কীভাবে চারটি সীমান্ত রুটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুরো সিলেট বিভাগের সিগারেট সিন্ডিকেটে প্রভাব বিস্তার করেছেন, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর পেছনে কারা অর্থ ও প্রভাব জোগাচ্ছেন, সে বিষয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে। আটটি রুটের মধ্যে চারটি সীমান্ত রুট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ : সরেজমিনে দেখা যায় আজ রোববার (৯ আগস্ট) অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্যে বলা হয়েছে, সিলেট ও মৌলভীবাজারের অবৈধ সিগারেট সরবরাহের নেটওয়ার্কের অন্তত আটটি রুটের মধ্যে চারটি প্রধান সীমান্ত রুটে মুনা ভাইয়ের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে। জৈন্তাপুর থেকে মৌলভীবাজার সদর পর্যন্ত চালানের নিরাপদ পরিবহনের জন্য একটি বিশেষ দল কাজ করে বলেও দাবি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে বিভিন্ন সময় রুট ও পরিবহনের কৌশল পরিবর্তন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। মুন্ন ভাইয়ের নামে মামলা নেই :সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো—এত বড় একটি অবৈধ সিগারেট নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রক হিসেবে নাম উঠে এলেও তানিম মিয়া ওরফে মুনা ভাইয়ের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়িয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  দীঘিনালায় শ্রদ্ধাবান উপাসক জ্যোতি লাল চাকমার সাপ্তাহিক ক্রিয়া সম্পন্ন

 

গোপন চেইনে চলে সরবরাহ : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বর্ডার মহাজনের দাবি, সীমান্তের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মুনা ভাইয়ের সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি অত্যন্ত গোপন রাখা হয়। খুচরা বাজার থেকে শুরু করে বড় পাইকারি মহাজন পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রেই সরাসরি যোগাযোগের পরিবর্তে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চালান পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বৈধ তামাক ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অবৈধ ভারতীয় সিগারেটের এই ব্যবসার কারণে বৈধ ব্যবসা ও দেশীয় তামাকশিল্প আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি : সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ সিগারেট প্রবেশ বন্ধ করতে শুধু চালান আটক করলেই হবে না; এর সঙ্গে জড়িত মূল হোতা, অর্থের উৎস, পরিবহনকারী ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তানিম মিয়া ওরফে ‘মুনা ভাইয়ের’ বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কার্যকর তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুনঃ  নাটোরের লালপুর বাজারে পাটের বস্তা ব্যবহারে কঠোর নির্দেশনা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ক্লাসের পড়া ক্লাসে পড়ালে কোনো ছাত্র-ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়তে হবে না: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

শক্তিশালী চোরাচালান ও সিন্ডিকেট নেটওয়ার্ক মুন্না ভাই সিগারেট সাম্রাজ্য

আপডেটের সময়: ০৬:০৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

জেলা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার: প্রধান সীমান্ত দিয়ে আসা অবৈধ ভারতীয় সিগারেটের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মৌলভীবাজার ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে তানিম মিয়া ওরফে ‘মুন্না ভাই’ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সরেজমিনে দেখা যায় আজ রোববার (৯ আগস্ট) স্থানীয়দের দাবি, জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ, মৌলভীবাজারের চাতলাপুর ও জকিগঞ্জের কালীগঞ্জ র্বডার এই চারটি সীমান্ত রুটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে তার নিয়ন্ত্রিত একটি শক্তিশালী চোরাচালান নেটওয়ার্ক। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তের বর্ডার মহাজন থেকে শুরু করে পরিবহন ও সরবরাহ নেটওয়ার্কের বিভিন্ন পর্যায় একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের পর এসব সিগারেট মৌলভীবাজার সদরসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। জৈন্তাপুর সীমান্তে বিশেষ নেটওয়ার্কের অভিযোগ : সংশ্লিষ্টদের দাবি, জৈন্তাপুর সীমান্তকে এই সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ সিগারেট দেশে প্রবেশ করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  পরিবেশ রক্ষায় শাজাহানপুরে জামায়াতের যুব বিভাগের উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ

 

একটি সুত্রে প্রকাশ-মাত্র ২৮ বছর বয়সী তানিম মিয়া ওরফে মুন্না ভাই কীভাবে চারটি সীমান্ত রুটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুরো সিলেট বিভাগের সিগারেট সিন্ডিকেটে প্রভাব বিস্তার করেছেন, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর পেছনে কারা অর্থ ও প্রভাব জোগাচ্ছেন, সে বিষয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে। আটটি রুটের মধ্যে চারটি সীমান্ত রুট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ : সরেজমিনে দেখা যায় আজ রোববার (৯ আগস্ট) অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্যে বলা হয়েছে, সিলেট ও মৌলভীবাজারের অবৈধ সিগারেট সরবরাহের নেটওয়ার্কের অন্তত আটটি রুটের মধ্যে চারটি প্রধান সীমান্ত রুটে মুনা ভাইয়ের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে। জৈন্তাপুর থেকে মৌলভীবাজার সদর পর্যন্ত চালানের নিরাপদ পরিবহনের জন্য একটি বিশেষ দল কাজ করে বলেও দাবি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে বিভিন্ন সময় রুট ও পরিবহনের কৌশল পরিবর্তন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। মুন্ন ভাইয়ের নামে মামলা নেই :সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো—এত বড় একটি অবৈধ সিগারেট নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রক হিসেবে নাম উঠে এলেও তানিম মিয়া ওরফে মুনা ভাইয়ের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়িয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রাম পাহাড়তলী অনুষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র ৭ রবিউল আউয়াল ঈদে মিলাদুন্নবী

 

গোপন চেইনে চলে সরবরাহ : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বর্ডার মহাজনের দাবি, সীমান্তের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মুনা ভাইয়ের সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি অত্যন্ত গোপন রাখা হয়। খুচরা বাজার থেকে শুরু করে বড় পাইকারি মহাজন পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রেই সরাসরি যোগাযোগের পরিবর্তে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চালান পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বৈধ তামাক ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অবৈধ ভারতীয় সিগারেটের এই ব্যবসার কারণে বৈধ ব্যবসা ও দেশীয় তামাকশিল্প আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি : সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ সিগারেট প্রবেশ বন্ধ করতে শুধু চালান আটক করলেই হবে না; এর সঙ্গে জড়িত মূল হোতা, অর্থের উৎস, পরিবহনকারী ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তানিম মিয়া ওরফে ‘মুনা ভাইয়ের’ বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কার্যকর তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুনঃ  দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: আসলাম চৌধুরী