Dhaka ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কিশোরগঞ্জে ইমাম-উলামাদের স্মারকলিপিতে ‘অ্যাশেজ ব্যান্ডের’ কনসার্ট স্থগিত শ্রীপুরে গহিন জঙ্গল থেকে চোলাই মদ উদ্ধার আটক- ৩ ধুনটে হতদরিদ্র বৃদ্ধ মহিলাদের ত্রাণ সহায়তা করলেন তৃতীয় লিঙ্গের সাবিনা চন্দনাইশের দোহাজারীতে স্বামীর কোদালের কোপে স্ত্রীর মৃত্যু হ্যালো ডিসির মানবিক উদ্যোগ: নতুন চাকরির নিয়োগপত্র পেয়ে বদলে গেল মুনিমের জীবন ১৮০ দিনের কর্মযজ্ঞকে স্বাগত, বাঁশখালীতে যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দল-ছাত্রদলের মিছিল সিরাজগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি এম পি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের উদ্যোগে ত্রান সহায়তা প্রদান সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে মোরেলগঞ্জের জেলের মৃত্যু বনপাড়া বাইপাসে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৫ জন আহত

দুর্বল ইরান’ ধারণা মুছে গেছে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ৪০ দিনের যুদ্ধে ‘দুর্বল ইরান’-এর ধারণা পুরোপুরি মুছে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি। তার দাবি, এই যুদ্ধের পর কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজের শক্তিতে দাঁড়িয়ে থাকতে সক্ষম প্রতিরোধী ও দৃঢ়চেতা ইরানের নতুন চিত্র সামনে এসেছে। মঙ্গলবার ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্সি ফর কমিউনিকেশনসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাকচি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্র এবং অঞ্চলটির অন্যতম শক্তিশালী সামরিক শক্তি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে টানা ৪০ দিন প্রতিরোধ গড়ে তোলা আগে কল্পনাও করা কঠিন ছিল। তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় পুলিশ স্থাপনা ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হলেও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সেতুর নিচে কিংবা গাড়ির ভেতর থেকে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। এর মধ্য দিয়ে ইরানের জনগণ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অসাধারণ স্থিতিস্থাপকতা প্রকাশ পেয়েছে। আরাকচি বলেন, এখন থেকে ইরানের পররাষ্ট্রনীতিতে আত্মবিশ্বাসী ও শক্তিশালী একটি দেশের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠবে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের মর্যাদা সমুন্নত রাখাই হবে এ নীতির মূল লক্ষ্য। তিনি কূটনীতিকদের উদ্দেশে বলেন, এখন তারা এমন একটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যারা একটি পরাশক্তিকে পরাজিত করেছে। তাই ইরানের পতাকা উঁচু করে বিশ্ববাসীর সামনে গর্ব ও দৃঢ়তার সঙ্গে দেশের অধিকার দাবি করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  গণ পরিবহনের কালো ধোঁয়ায় ঝাঁঝরা হচ্ছে ফুসফুস

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, সাম্প্রতিক ৪০ দিনের যুদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাও বদলে দিয়েছে। বিদেশি সামরিক উপস্থিতি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে তা নিরাপত্তাহীনতার উৎস হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আরাকচি বলেন, যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি বা সেনা মোতায়েন ছিল না, যুদ্ধের প্রভাব থেকে সেসব দেশ তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ছিল। অন্যদিকে, মার্কিন সেনা অবস্থান করা দেশগুলো বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি আঞ্চলিক দেশগুলোকে নতুন করে উপলব্ধি করতে বাধ্য করেছে যে পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা হতে হবে যৌথ ও সমন্বিত। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক ভারসাম্যও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আরাকচির ভাষায়, আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য থাকলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। একইভাবে আঞ্চলিক নিরাপত্তায় ভারসাম্য না থাকলে টেকসই ও যৌথ নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যাবে না। তিনি জানান, এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে ইরান আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ পুনরায় জোরদার করেছে। তাঁর আশা, নতুন এই যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি ভালো পথ তৈরি হবে।

আরও পড়ুনঃ  মৎস্যজাত পণ্য থেকে বাৎসরিক আয় ৬ হাজার কোটি টাকা: প্রধানমন্ত্রী
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

কিশোরগঞ্জে ইমাম-উলামাদের স্মারকলিপিতে ‘অ্যাশেজ ব্যান্ডের’ কনসার্ট স্থগিত

দুর্বল ইরান’ ধারণা মুছে গেছে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটের সময়: ০৬:২০:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ৪০ দিনের যুদ্ধে ‘দুর্বল ইরান’-এর ধারণা পুরোপুরি মুছে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি। তার দাবি, এই যুদ্ধের পর কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজের শক্তিতে দাঁড়িয়ে থাকতে সক্ষম প্রতিরোধী ও দৃঢ়চেতা ইরানের নতুন চিত্র সামনে এসেছে। মঙ্গলবার ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্সি ফর কমিউনিকেশনসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাকচি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্র এবং অঞ্চলটির অন্যতম শক্তিশালী সামরিক শক্তি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে টানা ৪০ দিন প্রতিরোধ গড়ে তোলা আগে কল্পনাও করা কঠিন ছিল। তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় পুলিশ স্থাপনা ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হলেও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সেতুর নিচে কিংবা গাড়ির ভেতর থেকে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। এর মধ্য দিয়ে ইরানের জনগণ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অসাধারণ স্থিতিস্থাপকতা প্রকাশ পেয়েছে। আরাকচি বলেন, এখন থেকে ইরানের পররাষ্ট্রনীতিতে আত্মবিশ্বাসী ও শক্তিশালী একটি দেশের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠবে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের মর্যাদা সমুন্নত রাখাই হবে এ নীতির মূল লক্ষ্য। তিনি কূটনীতিকদের উদ্দেশে বলেন, এখন তারা এমন একটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যারা একটি পরাশক্তিকে পরাজিত করেছে। তাই ইরানের পতাকা উঁচু করে বিশ্ববাসীর সামনে গর্ব ও দৃঢ়তার সঙ্গে দেশের অধিকার দাবি করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  মৎস্যজাত পণ্য থেকে বাৎসরিক আয় ৬ হাজার কোটি টাকা: প্রধানমন্ত্রী

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, সাম্প্রতিক ৪০ দিনের যুদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাও বদলে দিয়েছে। বিদেশি সামরিক উপস্থিতি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে তা নিরাপত্তাহীনতার উৎস হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আরাকচি বলেন, যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি বা সেনা মোতায়েন ছিল না, যুদ্ধের প্রভাব থেকে সেসব দেশ তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ছিল। অন্যদিকে, মার্কিন সেনা অবস্থান করা দেশগুলো বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি আঞ্চলিক দেশগুলোকে নতুন করে উপলব্ধি করতে বাধ্য করেছে যে পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা হতে হবে যৌথ ও সমন্বিত। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক ভারসাম্যও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আরাকচির ভাষায়, আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য থাকলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। একইভাবে আঞ্চলিক নিরাপত্তায় ভারসাম্য না থাকলে টেকসই ও যৌথ নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যাবে না। তিনি জানান, এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে ইরান আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ পুনরায় জোরদার করেছে। তাঁর আশা, নতুন এই যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি ভালো পথ তৈরি হবে।

আরও পড়ুনঃ  কম দামে পোশাক দিয়েও ইউরুপের বাজার ধরে রাখতে পারছে না বাংলাদেশ