
এম. ওমর হাসনাত, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি
২০ মে বুধবার ঠাকুরগাঁওয়ের শিবগঞ্জে অবস্থিত পরিত্যক্ত বিমানবন্দর পরিদর্শনে আসেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা ও প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার দুপুর ১২ টার দিকে তাঁরা পরিত্যক্ত বিমানবন্দরের রানওয়ে ও সীমানা ঘুরে দেখেন এবং সেখানে পরিত্যক্ত বিমানবন্দরের চত্বরে আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য প্রদান করেন। উক্ত জনসভায় হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। সবার বুকে একটাই আশা যে, এই বিমানবন্দর যেন চালু করা হয়।
ঠাকুরগাঁও নিক্কণ শিল্পী গোষ্ঠীর পরিবেশিত বিদ্রোহী ও দেশাত্মবোধক গানের পরে জেলা বিএনপির নেতা মো. পয়গাম আলীর সঞ্চালনায় জনসভার শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন, ঠাকুরগাঁও – ২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও – ৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজুর রহমান, রহিমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হান্নান হান্নু।
এরপরে জনসভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত তাঁর বক্তব্য প্রদানের সময় বলেন- “বিমানবন্দর করতে যা লাগে তা আমরা ব্যবস্থা করব। খুব শীঘ্রই বিমানবন্দরে প্রাথমিক কাজ শুরু হবে। আজকে এখানে বিমানবন্দরের কাজের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন লোক আমাদের সাথে এসেছেন তারা দেখলেন সবকিছু। তবে এটা চালু করতে প্রায় ০২ বছরের মতো সময় লাগতে পারে। বিমানবন্দর চালু করার পর সরকারের যেন ক্ষতি না হয় সেদিকেও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। তাই এখানে শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে হবে ও কৃষিভিত্তিক একটা বেইজ তৈরি করতে হবে, বিনিয়োগ বাড়াতে হবে তাহলে এই বিমানবন্দর পরবর্তীতে সাফল্যের মুখ দেখবে।”জনসভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন- “আপনাদের চাওয়া পাওয়া একটাই সেটা হলো ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু করা হোক। আপনাদের সেই চাওয়া পাওয়া পূরণ করতেই আমরা এখানে আসছি। ইনশাআল্লাহ ঠাকুরগাঁও পরিত্যক্ত বিমানবন্দর আবার নতুন করে চালু হবে। বিমানবন্দর চালু হবে তবে কিছু সময় লাগবে। তবে আমরা বিমানবন্দর চালুর জন্য প্রাথমিক কাজ শুরু করে দিব।”
সবশেষে বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর বক্তব্য প্রদান করেন। এসময় তিনি বলেন – “এটা আমাদের গর্ব যে এখানে বিমানবন্দর চালু হবে। ঠাকুরগাঁও পরিত্যক্ত বিমানবন্দর আমাদের ঠাকুরগাঁও জনপদের একটা ঐতিহ্যের অংশ। ইতোমধ্যে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর বিষয়টি সরকারের পরিকল্পনার গ্রীন পেইজে রয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে আপনারা প্লেনে উড়তে পারবেন। এসময় তিনি জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড ও সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড সাধারণ জনগণের কাছে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন – ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ, বিসিক কৃষি ভিত্তিক প্রকল্প – ২ প্রতিষ্ঠার জন্য চুড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে। এছাড়াও আমরা কিছু উন্নয়নমূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর অচিরেই চালু হবে।
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন – আমার বয়স হয়েছে। আমি আর নির্বাচনে নাও আসতে পারি। যাওয়ার আগে আপনাদের জন্য কিছু করে যেতে চাই।”
এদিকে জনসভায় আসা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা হলো – ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু হওয়া শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি হবে সমগ্র উত্তরবঙ্গের সম্ভাবনার নতুন দ্বার। বিমানবন্দর চালু হলে ঠাকুরগাঁওয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও আধুনিক, দ্রুত ও সহজ হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
জরুরি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ, দেশের বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ শহরের সাথে যোগাযোগ অনেক সহজ হয়ে যাবে। পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে, দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে ঠাকুরগাঁও আরও পরিচিত হয়ে উঠবে। নতুন নতুন শিল্প-কারখানা, হোটেল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যার মাধ্যমে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার উন্মুক্ত হবে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের গতি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ঠাকুরগাঁও হয়ে উঠবে উত্তরবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ কেন্দ্র। একটি বিমানবন্দর শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয় এটি একটি জেলার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, সম্ভাবনার প্রতীক। এটাই সবার প্রত্যাশা।
প্রতিবেদকের নাম 



















