Dhaka ০৮:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গণ পরিবহনের কালো ধোঁয়ায় ঝাঁঝরা হচ্ছে ফুসফুস কুমিল্লায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে হামলার চেষ্টা: আটক যুবকের ৭ দিনের কারাদণ্ড সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে রায়পুর উপজেলা ভূমি অফিসের নৈশ প্রহরী হেলালের ভিডিও চিএে ঘুষ গ্রহণ জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে চোর সন্দেহে দুই যুবককে পিটিয়ে আহত, একজনের মৃত্যু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের সঙ্গে বিদ্যুৎমন্ত্রীর মতবিনিময় পত্নীতলা খালেদা জিয়ার ৮২ তম জন্ম দিবস উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে, বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ লাইসেন্সবিহীন ৫ ইটভাটায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা, ইউএনও-র কঠোর হুঁশিয়ারি ঈদগাঁও বাস স্টেশন ও বাজারে সড়ক দখল: চরম ভোগান্তিতে পথচারী-রোগীরা

ফ্যাসিবাদী লুটপাটের কবল থেকে রেহাই পায়নি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দুই তহবিল: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফ্যাসিবাদী সরকারের লুটপাটের কবল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বার্থরক্ষায় গঠিত দু’টি তহবিলও রেহাই পায়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবসরকালীন সুবিধার টাকা আজ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অ্যাকাউন্টে যত সহজে পৌঁছে দেয়া হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার কাজটি কিন্তু অত সহজ ছিলো না। কারণ, পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী সরকার যেভাবে ব্যাংক বীমাসহ প্রতিটি সেক্টর থেকে লুটপাট করেছিল, সেই লুটপাটের কবল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বার্থরক্ষায় গঠিত, উল্লেখিত দু’টি তহবিলও রেহাই পায়নি। জাল ইনডেক্স তৈরি, লুটপাটের সুযোগ তৈরি করতে শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ দুর্বল ব্যাংকে সরিয়ে নেয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামোকে ধ্বংস করার মাধ্যমে এই তহবিল দুটিকে প্রায় দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছিল। তিনি বলেন, যে শিক্ষকগণ সারাজীবন শিক্ষার আলো ছড়াতে নিজেদের জীবনের সোনালী সময় পার করে দিয়েছেন, জীবনের এইপ্রান্তে এসে তাদের চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ফ্যাসিবাদী চক্রের লুটপাটের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা ২০২২ সাল থেকে এই তহবিল হতে কোনো টাকা পাচ্ছিলেন না।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে একটি শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণ নিহত বেড়ে ৮

 

এ প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান আরও বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসার পর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অবসরকালীন সুবিধার টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু দেখা যায়, এই দুই ফান্ডে পর্যাপ্ত টাকা নেই। ফলে অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষক- শিক্ষিকাদের দুরবস্থা চিন্তা করে সরকারকে বিশেষ ব্যবস্থায় আজ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের বেসরকারি স্কুল কলেজ এবং মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজার ১’শ ১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা, ২০২২ সালের পর অর্থাৎ দীর্ঘ চার বছর পর সরকারি দু’টি ফান্ডে তাদের জমানো টাকার একটি অংশ আজ ফেরত পেয়েছেন। এই দুটি তহবিলের একটি হচ্ছে, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং অন্যটি ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ । এই দুটি তহবিলে জমানো টাকা একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকার জীবনে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠিত দুটি তহবিলে শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রতিমাসে যে টাকা জমা দেন সেই টাকার সঙ্গে সরকারও প্রতিটি একাউন্টের বিপরীতে নির্দিষ্টহারে একটি ‘ অ্যামাউন্ট’ জমা করেন।

আরও পড়ুনঃ  রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল

 

এর উদ্দেশ্য হলো, দীর্ঘ চাকুরী জীবন শেষে অবসরে যাওয়ার সময় প্রত্যেক শিক্ষক-শিক্ষিকা যাতে একটি ভালো ‘অ্যামাউন্ট’ হাতে পান। উদ্দেশ্যও মহৎ হলেও দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, চাকুরী জীবন শেষে অবসরে গিয়ে এই টাকা উত্তোলন করতে শিক্ষক- শিক্ষিকাদেরকে নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এমনকি নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলতে গিয়ে মনে হয় ঘুষ দেয়ার অলিখিত নিয়মও চালু হয়ে গিয়েছিলো। তিনি বলেন, আজ আমরা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কোনোরকম ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনে তাদের প্রাপ্য টাকা যার যার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ। শিক্ষক সমাজ যারা নীতি-নৈতিকতা আর আদর্শের বাণী শিখিয়ে লাখো কোটি শিক্ষার্থীদেরকে বড়ো করে তুলেন, তাদেরকেই যদি ঘুষ দিয়ে টাকা তুলতে হয় কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হয়, আমি মনে করি, সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয় বরং জাতি হিসেবে আমাদের ‘দীনতা-হীনতা’ই প্রকাশ পায়। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক প্রমুখ।

আরও পড়ুনঃ  বন উজাড় ও অপরিকল্পিত স্থাপনায় বাড়ছে মানুষ-হাতির সংঘাত
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

গণ পরিবহনের কালো ধোঁয়ায় ঝাঁঝরা হচ্ছে ফুসফুস

ফ্যাসিবাদী লুটপাটের কবল থেকে রেহাই পায়নি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দুই তহবিল: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটের সময়: ০৫:২৩:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফ্যাসিবাদী সরকারের লুটপাটের কবল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বার্থরক্ষায় গঠিত দু’টি তহবিলও রেহাই পায়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবসরকালীন সুবিধার টাকা আজ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অ্যাকাউন্টে যত সহজে পৌঁছে দেয়া হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার কাজটি কিন্তু অত সহজ ছিলো না। কারণ, পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী সরকার যেভাবে ব্যাংক বীমাসহ প্রতিটি সেক্টর থেকে লুটপাট করেছিল, সেই লুটপাটের কবল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বার্থরক্ষায় গঠিত, উল্লেখিত দু’টি তহবিলও রেহাই পায়নি। জাল ইনডেক্স তৈরি, লুটপাটের সুযোগ তৈরি করতে শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ দুর্বল ব্যাংকে সরিয়ে নেয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামোকে ধ্বংস করার মাধ্যমে এই তহবিল দুটিকে প্রায় দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছিল। তিনি বলেন, যে শিক্ষকগণ সারাজীবন শিক্ষার আলো ছড়াতে নিজেদের জীবনের সোনালী সময় পার করে দিয়েছেন, জীবনের এইপ্রান্তে এসে তাদের চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ফ্যাসিবাদী চক্রের লুটপাটের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা ২০২২ সাল থেকে এই তহবিল হতে কোনো টাকা পাচ্ছিলেন না।

আরও পড়ুনঃ  গণ পরিবহনের কালো ধোঁয়ায় ঝাঁঝরা হচ্ছে ফুসফুস

 

এ প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান আরও বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসার পর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অবসরকালীন সুবিধার টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু দেখা যায়, এই দুই ফান্ডে পর্যাপ্ত টাকা নেই। ফলে অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষক- শিক্ষিকাদের দুরবস্থা চিন্তা করে সরকারকে বিশেষ ব্যবস্থায় আজ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের বেসরকারি স্কুল কলেজ এবং মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজার ১’শ ১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা, ২০২২ সালের পর অর্থাৎ দীর্ঘ চার বছর পর সরকারি দু’টি ফান্ডে তাদের জমানো টাকার একটি অংশ আজ ফেরত পেয়েছেন। এই দুটি তহবিলের একটি হচ্ছে, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং অন্যটি ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ । এই দুটি তহবিলে জমানো টাকা একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকার জীবনে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠিত দুটি তহবিলে শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রতিমাসে যে টাকা জমা দেন সেই টাকার সঙ্গে সরকারও প্রতিটি একাউন্টের বিপরীতে নির্দিষ্টহারে একটি ‘ অ্যামাউন্ট’ জমা করেন।

আরও পড়ুনঃ  আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা

 

এর উদ্দেশ্য হলো, দীর্ঘ চাকুরী জীবন শেষে অবসরে যাওয়ার সময় প্রত্যেক শিক্ষক-শিক্ষিকা যাতে একটি ভালো ‘অ্যামাউন্ট’ হাতে পান। উদ্দেশ্যও মহৎ হলেও দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, চাকুরী জীবন শেষে অবসরে গিয়ে এই টাকা উত্তোলন করতে শিক্ষক- শিক্ষিকাদেরকে নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এমনকি নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলতে গিয়ে মনে হয় ঘুষ দেয়ার অলিখিত নিয়মও চালু হয়ে গিয়েছিলো। তিনি বলেন, আজ আমরা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কোনোরকম ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনে তাদের প্রাপ্য টাকা যার যার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ। শিক্ষক সমাজ যারা নীতি-নৈতিকতা আর আদর্শের বাণী শিখিয়ে লাখো কোটি শিক্ষার্থীদেরকে বড়ো করে তুলেন, তাদেরকেই যদি ঘুষ দিয়ে টাকা তুলতে হয় কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হয়, আমি মনে করি, সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয় বরং জাতি হিসেবে আমাদের ‘দীনতা-হীনতা’ই প্রকাশ পায়। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক প্রমুখ।

আরও পড়ুনঃ  পদ্মায় ভয়াবহ ভাঙন, আতঙ্কে ঘর সরাচ্ছেন জাজিরার বাসিন্দারা