Dhaka ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ, বিলবোর্ড ৭টায় মির্জাপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ বাঁশখালীতে বিশ্ব হাতি দিবসে ৪৫ কৃষক পেলেন ১৯ লাখ টাকার অনুদান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রুশ প্রকৌশলীর মৃত্যু, শিক্ষকতা ছিল তাঁর নেশা, মানুষ গড়াই ছিল তাঁর স্বপ্ন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে দীঘিনালায় ওএমএস (সুলভ মূল্যে) চাল আটা বিক্রয় শুরু কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নানার বাড়িতে তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার শাজাহানপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে দৈনিক করতোয়া’র ৫০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও ৫১তম বছরের পদার্পণ উদযাপিত সাঘাটায় দৈনিক করতোয়ার ৫১ বছরে পদার্পণ উদযাপন মোকামতলায় মহাসড়কজুড়ে সিএনজি-অটোরিকশার দাপট, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

পদ্মায় ভয়াবহ ভাঙন, আতঙ্কে ঘর সরাচ্ছেন জাজিরার বাসিন্দারা

শরীয়তপুর,জেলা প্রতিনিধি: বর্ষা শুরুর পরপরই শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা নদীর ডানতীর রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বাঁধের প্রায় ১৫০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন তীব্র হওয়ায় আতঙ্কে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হুমকির মুখে রয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও স্থানীয় হাটবাজার। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের অবহেলা ও গাফিলতির কারণে বারবার ভাঙনের শিকার হতে হচ্ছে তাদের। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, বিশেষজ্ঞ দলের উপস্থিতিতে ডাম্পিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাউবো সূত্রে জানা গেছে, জাজিরার নাওডোবা থেকে পাথালিয়াকান্দি পর্যন্ত ১০ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার পদ্মার ডানতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ১ হাজার ২০২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৯টি প্যাকেজে কাজ চলছে। নকশা পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর জিরোপয়েন্ট থেকে পালেরচর অংশে চলতি বছরের মে মাসে আবার কাজ শুরু হয়। এরই মধ্যে কাঠুরিয়া এলাকার ১২ ও ১৩ নম্বর প্যাকেজে নদীতে ফেলা জিওব্যাগ ভেসে যাওয়ার পর নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) সরেজমিনে কাঠুরিয়াকান্দি এলাকায় দেখা যায়, ভাঙনে রহিমা বেগমের ৪টি ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে পরিবারটির। একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন মাঝিরঘাট, পালেরচর বাজার, কাঠুরিয়াকান্দি, মধু মাদবরের কান্দি ও পৈলান মোল্লার কান্দিসহ আশপাশের এলাকার প্রায় ১ হাজার পরিবারের মানুষ। ভাঙনের আশঙ্কায় স্থানীয়রা ২৫টি বসতঘর ও ৭টি দোকান অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  বাঁশখালীতে বিশ্ব হাতি দিবসে ৪৫ কৃষক পেলেন ১৯ লাখ টাকার অনুদান

 

রহিমা বেগম বলেন, নদীভাঙনে আমরা এখন সর্বহারা হয়ে গেছি। এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি, সহযোগিতাও করেনি। সরকার যেন নদীভাঙন থেকে আমাদের রক্ষা করে। ভাঙনের শিকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফয়সাল বলেন, এই নিয়ে ৫ বার ভাঙনের শিকার হয়েছি। বর্ষাকাল এলেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের কাজ শুরু হয়। শীতকালে স্থায়ীভাবে কাজ করা হলে আমাদের শেষ সম্বলটুকু হারাতে হতো না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এম এ শামীম বলেন, ডাম্পিংয়ের সময় ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসে কাজ তদারকি করে। ফলে কাজে গাফিলতির সুযোগ নেই। বর্ষার কারণে স্থায়ী কাজ বন্ধ থাকলেও তীরে ব্লক তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি কাঠুরিয়া এলাকায় বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, নদীভাঙনের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ওই এলাকায় বারবার ভাঙনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে গবেষণা ও পর্যালোচনা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  ‎কাশিমপুরে মাদক ও অপরাধ দমনে ওসি খালিদ হোসেনের তৎপরতার প্রশংসা স্থানীয়দের
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ, বিলবোর্ড ৭টায়

পদ্মায় ভয়াবহ ভাঙন, আতঙ্কে ঘর সরাচ্ছেন জাজিরার বাসিন্দারা

আপডেটের সময়: ০৬:২১:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

শরীয়তপুর,জেলা প্রতিনিধি: বর্ষা শুরুর পরপরই শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা নদীর ডানতীর রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বাঁধের প্রায় ১৫০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন তীব্র হওয়ায় আতঙ্কে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হুমকির মুখে রয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও স্থানীয় হাটবাজার। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের অবহেলা ও গাফিলতির কারণে বারবার ভাঙনের শিকার হতে হচ্ছে তাদের। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, বিশেষজ্ঞ দলের উপস্থিতিতে ডাম্পিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাউবো সূত্রে জানা গেছে, জাজিরার নাওডোবা থেকে পাথালিয়াকান্দি পর্যন্ত ১০ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার পদ্মার ডানতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ১ হাজার ২০২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৯টি প্যাকেজে কাজ চলছে। নকশা পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর জিরোপয়েন্ট থেকে পালেরচর অংশে চলতি বছরের মে মাসে আবার কাজ শুরু হয়। এরই মধ্যে কাঠুরিয়া এলাকার ১২ ও ১৩ নম্বর প্যাকেজে নদীতে ফেলা জিওব্যাগ ভেসে যাওয়ার পর নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) সরেজমিনে কাঠুরিয়াকান্দি এলাকায় দেখা যায়, ভাঙনে রহিমা বেগমের ৪টি ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে পরিবারটির। একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন মাঝিরঘাট, পালেরচর বাজার, কাঠুরিয়াকান্দি, মধু মাদবরের কান্দি ও পৈলান মোল্লার কান্দিসহ আশপাশের এলাকার প্রায় ১ হাজার পরিবারের মানুষ। ভাঙনের আশঙ্কায় স্থানীয়রা ২৫টি বসতঘর ও ৭টি দোকান অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  দীঘিনালায় শ্রদ্ধাবান উপাসক জ্যোতি লাল চাকমার সাপ্তাহিক ক্রিয়া সম্পন্ন

 

রহিমা বেগম বলেন, নদীভাঙনে আমরা এখন সর্বহারা হয়ে গেছি। এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি, সহযোগিতাও করেনি। সরকার যেন নদীভাঙন থেকে আমাদের রক্ষা করে। ভাঙনের শিকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফয়সাল বলেন, এই নিয়ে ৫ বার ভাঙনের শিকার হয়েছি। বর্ষাকাল এলেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের কাজ শুরু হয়। শীতকালে স্থায়ীভাবে কাজ করা হলে আমাদের শেষ সম্বলটুকু হারাতে হতো না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এম এ শামীম বলেন, ডাম্পিংয়ের সময় ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসে কাজ তদারকি করে। ফলে কাজে গাফিলতির সুযোগ নেই। বর্ষার কারণে স্থায়ী কাজ বন্ধ থাকলেও তীরে ব্লক তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি কাঠুরিয়া এলাকায় বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, নদীভাঙনের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ওই এলাকায় বারবার ভাঙনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে গবেষণা ও পর্যালোচনা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  দেশে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে : নাহিদ ইসলাম