Dhaka ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঈশ্বরদীতে দিন দুপুরে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভীতি প্রদর্শন ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউলকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির বিশেষ সম্মাননা ধুনটের সোনাহাটায় বাংলাদেশ এক্সটেনশন এডুকেশন সার্ভিসেস (বিজ) এনজিওর ৪১৫তম শাখা’র উদ্বোধন জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে মাদক সেবনের দায়ে, চার যুবকের কারাদণ্ড বাসন থানায় অভিযোগ লিখতে নির্দিষ্ট দোকানে পাঠানোর অভিযোগ বান্দরবানে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে ইটভাটা মালিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: মনপুরার ইউএনও’র বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরই সুখবর: পাকুন্দিয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদে জোড়া সেতু নির্মাণের নির্দেশ মাদকের বিরুদ্ধে বাবুছড়ায় পুলিশের সঙ্গে জনতার পদযাত্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পোশাক বাণিজ্য ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ

এসএসসি ফলে অসন্তোষ, ১৮ লাখের মধ্যে ১২ লাখের খাতা চ্যালেঞ্জ

তৌহিদ-উল বারী, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) :

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ এর ফল প্রকাশের পর খাতা পুনর্মূল্যায়নে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন জমা পড়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আবেদন শেষ হলে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদনের বিষয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, বিপুলসংখ্যক খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন পড়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যেভাবে খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন করা হচ্ছে, তাতে বিপুলসংখ্যক খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তাই ভবিষ্যতে কোন পরিস্থিতিতে খাতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ দেওয়া হবে এবং কীভাবে এ প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হবে, তা নতুন নীতিমালার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে ধানমন্ডি ৩২ ও আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা, মোতায়েন অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় গত ১০ আগস্ট।

প্রকাশিত ফলে এবার গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফলাফলে গত বছরের তুলনায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে।

ফল প্রকাশের পর প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাতা চ্যালেঞ্জের প্রবণতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে ইংরেজি, গণিতসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত নম্বর না পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেছে।

আরও পড়ুনঃ  মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি মনোনয়নে ঠাকুরগাঁওয়ে উল্লাস, মিষ্টি বিতরণ

এর আগে ফল প্রকাশের সময় শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এবারের খাতা মূল্যায়নে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত উত্তর ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই নম্বর দেওয়া হয়েছে। খাতা মূল্যায়নে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, মন খুলে গান গাওয়া যায়, মন খুলে তো আর নম্বর দেওয়া যায় না। অর্থাৎ শিক্ষার্থীর উত্তরপত্রে যতটুকু যোগ্যতা ও সঠিক উত্তর প্রতিফলিত হয়েছে, তার ভিত্তিতেই নম্বর দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

এদিকে খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদনের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখে পৌঁছানোয় বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মহলেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের খাতা চ্যালেঞ্জ করতে পারায় আবেদন করা খাতার সংখ্যা শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় বেশি হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  মেধাবীদের সম্মান জানাল, নজিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী খাতাগুলো যাচাই ও পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুনর্মূল্যায়নের পর কোনো শিক্ষার্থীর নম্বরে পরিবর্তন এলে সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

তবে এত বিপুলসংখ্যক খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের একাংশ ফলাফলের স্বচ্ছতা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, পরীক্ষার্থীদের প্রকৃত পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই এবারের ফলাফল তৈরি হয়েছে।

এখন খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন যাচাই ও পুনর্মূল্যায়নের পর কত শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়, সেটিই দেখার বিষয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে খাতা পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা কীভাবে কার্যকর করা হয়, সেদিকেও নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ঈশ্বরদীতে দিন দুপুরে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভীতি প্রদর্শন

এসএসসি ফলে অসন্তোষ, ১৮ লাখের মধ্যে ১২ লাখের খাতা চ্যালেঞ্জ

আপডেটের সময়: ০৫:১৫:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

তৌহিদ-উল বারী, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) :

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ এর ফল প্রকাশের পর খাতা পুনর্মূল্যায়নে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন জমা পড়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আবেদন শেষ হলে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদনের বিষয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, বিপুলসংখ্যক খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন পড়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যেভাবে খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন করা হচ্ছে, তাতে বিপুলসংখ্যক খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তাই ভবিষ্যতে কোন পরিস্থিতিতে খাতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ দেওয়া হবে এবং কীভাবে এ প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হবে, তা নতুন নীতিমালার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  সম্মেলনের ১০ মাস পর আংশিক নেতৃত্বেই স্থবির কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় গত ১০ আগস্ট।

প্রকাশিত ফলে এবার গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফলাফলে গত বছরের তুলনায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে।

ফল প্রকাশের পর প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাতা চ্যালেঞ্জের প্রবণতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে ইংরেজি, গণিতসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত নম্বর না পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেছে।

আরও পড়ুনঃ  মেধাবীদের সম্মান জানাল, নজিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

এর আগে ফল প্রকাশের সময় শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এবারের খাতা মূল্যায়নে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত উত্তর ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই নম্বর দেওয়া হয়েছে। খাতা মূল্যায়নে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, মন খুলে গান গাওয়া যায়, মন খুলে তো আর নম্বর দেওয়া যায় না। অর্থাৎ শিক্ষার্থীর উত্তরপত্রে যতটুকু যোগ্যতা ও সঠিক উত্তর প্রতিফলিত হয়েছে, তার ভিত্তিতেই নম্বর দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

এদিকে খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদনের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখে পৌঁছানোয় বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মহলেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের খাতা চ্যালেঞ্জ করতে পারায় আবেদন করা খাতার সংখ্যা শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় বেশি হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  দীঘিনালায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী খাতাগুলো যাচাই ও পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুনর্মূল্যায়নের পর কোনো শিক্ষার্থীর নম্বরে পরিবর্তন এলে সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

তবে এত বিপুলসংখ্যক খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের একাংশ ফলাফলের স্বচ্ছতা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, পরীক্ষার্থীদের প্রকৃত পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই এবারের ফলাফল তৈরি হয়েছে।

এখন খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন যাচাই ও পুনর্মূল্যায়নের পর কত শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়, সেটিই দেখার বিষয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে খাতা পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা কীভাবে কার্যকর করা হয়, সেদিকেও নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।