Dhaka ১১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঈশ্বরদীতে দিন দুপুরে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভীতি প্রদর্শন ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউলকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির বিশেষ সম্মাননা ধুনটের সোনাহাটায় বাংলাদেশ এক্সটেনশন এডুকেশন সার্ভিসেস (বিজ) এনজিওর ৪১৫তম শাখা’র উদ্বোধন জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে মাদক সেবনের দায়ে, চার যুবকের কারাদণ্ড বাসন থানায় অভিযোগ লিখতে নির্দিষ্ট দোকানে পাঠানোর অভিযোগ বান্দরবানে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে ইটভাটা মালিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: মনপুরার ইউএনও’র বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরই সুখবর: পাকুন্দিয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদে জোড়া সেতু নির্মাণের নির্দেশ মাদকের বিরুদ্ধে বাবুছড়ায় পুলিশের সঙ্গে জনতার পদযাত্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পোশাক বাণিজ্য ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: মনপুরার ইউএনও’র বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

মো: বনি আমিন,মনপুরা উপজেলা প্রতিনিধি: ভোলার মনপুরায় জাতীয় শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ উপলক্ষে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মো. আবু মুছার বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে চরম ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারীরা বরাদ্দের অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশসহ নিরপেক্ষ তদন্তের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। মনপুরা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য হোসেন হাওলাদার জানান, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে মনপুরা উপজেলা থেকে ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন ইভেন্টে মোট ২৭ জন খেলোয়াড় অংশ নেন। তাদের যাতায়াত ব্যয় বাবদ মাত্র ২৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে খেলোয়াড়দের খাবার, আবাসন, পোশাক, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য মৌলিক খাতে কোনো অর্থ দেওয়া হয়নি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারিভাবে কত টাকা বরাদ্দ এসেছে এবং কীভাবে তা ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে ক্রীড়া সংস্থার সদস্যদের কিছুই জানানো হয়নি। ২৬ হাজার টাকা ছাড়া বাকি অর্থের কোনো হিসাব আমাদের কাছে নেই।

আরও পড়ুনঃ  ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ফরিদপুরের নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা ও শপথ গ্রহণ

 

​উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মাহবুবুল আলম শাহিন একই ধরনের অভিযোগ তুলে বলেন, “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বিষয়ে সভাপতি ও ইউএনও মো. আবু মুছা আমার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি। আমাকে কোনো সভায় ডাকা হয়নি এবং বরাদ্দ, ব্যয় কিংবা খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্তেও সম্পৃক্ত করা হয়নি। ​স্থানীয় ক্রীড়াসংশ্লিষ্টদের দাবি, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে এ ধরনের প্রতিযোগিতা পরিচালনার জন্য যে নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রক্রিয়া রয়েছে, তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। এতে সরকারি বরাদ্দের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু মুছা। তিনি দাবি করেন, জেলা থেকে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা কেবল ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রচার-প্রচারণার জন্য।]

আরও পড়ুনঃ  গ্রাহক সমাবেশ ও সচেতনতা বৃদ্ধি

 

​অন্যদিকে, ভোলা জেলা ক্রীড়া কার্যালয়ের উপপরিচালক সাইদুল ইসলাম ইউএনও’র বক্তব্যের বিপরীত তথ্য দিয়ে জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতিটি উপজেলার জন্য নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের খরচ বাবদ ১ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিভিন্ন খাতে ব্যয় করার কথা। তিনি আরও স্পষ্ট করেন, “খেলোয়াড়দের যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার জন্য জেলা কার্যালয় থেকে ২৬ হাজার টাকা নগদ প্রদান করা হয়েছে। ​ইউএনওর বিরুদ্ধে ওঠা এই আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে ভোলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ডা. শামীম রহমান জানান, অভিযোগটির বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মনপুরার স্থানীয় ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়ামোদী মহল অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের জন্য আসা মোট বরাদ্দের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  জিনজিরায় পরিবেশ অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযান: অবৈধ ওয়াশিং ও ডাইং কারখানার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, বন্ধের নির্দেশ
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ঈশ্বরদীতে দিন দুপুরে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভীতি প্রদর্শন

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: মনপুরার ইউএনও’র বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০৯:০৯:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

মো: বনি আমিন,মনপুরা উপজেলা প্রতিনিধি: ভোলার মনপুরায় জাতীয় শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ উপলক্ষে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মো. আবু মুছার বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে চরম ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারীরা বরাদ্দের অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশসহ নিরপেক্ষ তদন্তের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। মনপুরা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য হোসেন হাওলাদার জানান, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে মনপুরা উপজেলা থেকে ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন ইভেন্টে মোট ২৭ জন খেলোয়াড় অংশ নেন। তাদের যাতায়াত ব্যয় বাবদ মাত্র ২৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে খেলোয়াড়দের খাবার, আবাসন, পোশাক, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য মৌলিক খাতে কোনো অর্থ দেওয়া হয়নি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারিভাবে কত টাকা বরাদ্দ এসেছে এবং কীভাবে তা ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে ক্রীড়া সংস্থার সদস্যদের কিছুই জানানো হয়নি। ২৬ হাজার টাকা ছাড়া বাকি অর্থের কোনো হিসাব আমাদের কাছে নেই।

আরও পড়ুনঃ  গ্রাহক সমাবেশ ও সচেতনতা বৃদ্ধি

 

​উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মাহবুবুল আলম শাহিন একই ধরনের অভিযোগ তুলে বলেন, “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বিষয়ে সভাপতি ও ইউএনও মো. আবু মুছা আমার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি। আমাকে কোনো সভায় ডাকা হয়নি এবং বরাদ্দ, ব্যয় কিংবা খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্তেও সম্পৃক্ত করা হয়নি। ​স্থানীয় ক্রীড়াসংশ্লিষ্টদের দাবি, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে এ ধরনের প্রতিযোগিতা পরিচালনার জন্য যে নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রক্রিয়া রয়েছে, তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। এতে সরকারি বরাদ্দের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু মুছা। তিনি দাবি করেন, জেলা থেকে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা কেবল ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রচার-প্রচারণার জন্য।]

আরও পড়ুনঃ  কাউনিয়ায় ভাঙা ব্রিজ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকা দিয়ে নদী পারাপার, দুর্ভোগে

 

​অন্যদিকে, ভোলা জেলা ক্রীড়া কার্যালয়ের উপপরিচালক সাইদুল ইসলাম ইউএনও’র বক্তব্যের বিপরীত তথ্য দিয়ে জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতিটি উপজেলার জন্য নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের খরচ বাবদ ১ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিভিন্ন খাতে ব্যয় করার কথা। তিনি আরও স্পষ্ট করেন, “খেলোয়াড়দের যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার জন্য জেলা কার্যালয় থেকে ২৬ হাজার টাকা নগদ প্রদান করা হয়েছে। ​ইউএনওর বিরুদ্ধে ওঠা এই আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে ভোলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ডা. শামীম রহমান জানান, অভিযোগটির বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মনপুরার স্থানীয় ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়ামোদী মহল অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের জন্য আসা মোট বরাদ্দের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  নাগরপুরে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগে মানববন্ধন