
মোঃ সোহেল রানা,ঈশ্বরদী উপজেলা প্রতিনিধি (পাবনা) ঈশ্বরদীতে দলীয় গ্রুপিং দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জোবায়ের হোসেন বাপ্পি ওরফে হুপ বাপ্পি এবং দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ সুলভ মালিথার বিরুদ্ধে। অস্ত্রের মহড়া দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির পর অস্ত্রসহ থানায় প্রবেশ করেন তারা। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত উপজেলা থানার প্রধান ফটকের সামনে এসব ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী, থানা ও স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা যায়, সাবেক ছাত্রনেতা দাবিদার জোবায়ের হোসেন বাপ্পি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের ঘনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, তার পক্ষেই শহরে বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে প্রতিপক্ষ পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, তার ভাই স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান এবং পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
ঘটনার দিন জোবায়ের হোসেন বাপ্পি মাথায় কাফনের সাদা কাপড় জড়িয়ে হাতে শর্টগান নিয়ে দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সুলভ মালিথাসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে শহরজুড়ে প্রদক্ষিণ করেন। শহরের রেলগেট এলাকায় অবস্থান নিয়ে হাতে থাকা শর্টগান উঁচিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মেহেদী হাসানকে হত্যার হুমকি দেন তিনি। পুরো ঘটনার একটি লাইভ ভিডিও নিজের সহযোগীদের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, যা দেখে শহরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর অস্ত্র হাতে নিয়ে থানায় প্রবেশ করে উত্তপ্ত কথাবার্তা বলেন বাপ্পি। বিষয়টি জানতে পেরে মেহেদী হাসানের সমর্থক নারী-পুরুষরা থানার প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সঙ্গে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম তুহিন এবং সুলভ মালিথার বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান বলেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর থেকে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে আসছেন এবং এ কাজে জোবায়ের হোসেন বাপ্পি ও সুলভ মালিথাকে ব্যবহার করছেন। এ ঘটনায় হত্যার হুমকি ও চেষ্টার অভিযোগ এনে বাপ্পি ও সুলভ মালিথার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, ব্যবহৃত অস্ত্রটি জোবায়ের হোসেন বাপ্পির লাইসেন্সকৃত। তবে আইন লঙ্ঘন করে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে শহরে মহড়া দিয়ে থানায় আসার অভিযোগে তার অস্ত্রটি জব্দ করা হয়েছে এবং লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মেহেদী হাসানকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দেওয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















