Dhaka ০২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ধামরাইয়ে ২৩৫ টি পূজা মন্ডপে ১৪৭৮ জন আনসার সদস্য নিরলস ভাবে কাজ করছে সিলেটে বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন করলেন সিলেটের ডিআইজি সদরপুরে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে ঠাকুরডাঙ্গী যুব সংঘের জয় সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে হাইওয়ে ও থানা পুলিশের নামে চাঁদাবাজি নৌপথে শাশীম সিন্ডিকেট দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে চকরিয়া কেন্দ্রীয় হরিমন্দির পরিদর্শন কাউনিয়ায় দৈনিক কালবেলার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন দীঘিনালায় কাটারুং ছড়া ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহারে সেনা জোনের ডেউটিন প্রদান বাঁশখালীতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, দিলেন আর্থিক সহায়তা পবায় উৎসাহ-উদ্দীপনায় ৩১তম হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা সম্পন্ন লালপুরে চানপুরের রাস্তায় আবারও ডাকাতি!

হাজার থেকে ২৮০০ টাকা কেজি, মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে ইলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্ষা এলেই ইলিশের মৌসুম। বাজারে বেড়েছে সরবরাহ, মাছের সারিতে ঝলমল করছে রুপালি ইলিশ। কিন্তু দাম শুনে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন খালি হাতে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ইলিশের বাজারে প্রাণচাঞ্চল্য থাকলেও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি নেই। আজ শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজার, চন্দ্রিমা বাজার, ঢাকা উদ্যান, কাদেরাবাদ হাউজিং ও জেনেভা ক্যাম্প বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, ৪৫০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা। আর এক কেজি বা তার বেশি ওজনের বড় ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে। টাউন হল বাজারে মাছের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রেতা শাওন বলেন, আমি টাউন হল বাজারে কেনাকাটা করি। ইলিশ কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু দাম শুনে ছোট মাছ নিয়েই ফিরে যাচ্ছি। সংসারের খরচ সামলে এত টাকা দিয়ে মাছ কেনা কঠিন। সবারই মনে চায় ইলিশ মাছ খেতে কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও এত দাম দিয়ে কেনার উপায় নেই। টাউন হল বাজারে ইলিশ মাছ কিনতে এসেছেন চন্দনা রানী। তিনি জানান, আমার স্বামীকে নিয়ে মাছের বাজারে এসেছি। বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরলাম।

আরও পড়ুনঃ  ছুটিতে পর্যটক বরণে প্রস্তুত বান্দরবান পার্বত্য জেলা

 

এক এক দোকানে এক এক রকম দাম। পরে এক কেজির একটু বেশি দুটি ইলিশ কিনলাম চার হাজার ২০০ টাকা দিয়ে। বাজারে বেশি কোল্ড স্টোরের মাছ, নতুন তাজা মাছ পাওয়া খুব কঠিন। চন্দ্রিমা বাজারে বাজার করতে আসা আরেক ক্রেতা সাইফুল বলেন, আমি একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করি। বাচ্চারা ইলিশ খেতে চেয়েছিল। তাই ছোট একটা মাছ কিনলাম। বড় ইলিশ কেনার সামর্থ্য নেই। জেনেভা ক্যাম্প বাজারে এক চাকরিজীবী বলেন, ইলিশের মৌসুমে অন্তত এক দুইবার কিনতে চাই। কিন্তু বর্তমান বাজারে এক কেজি ইলিশ কিনতেই কয়েক দিনের বাজারের টাকা শেষ হয়ে যায়। দাম বেশি হওয়ায় তাই ইলিশ মাছ কেনা হলো না। ঢাকা উদ্যান বাজারে এক গৃহিণী খাদিজা বেগম বলেন, বাজারে মাছ অনেক আছে, কিন্তু দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নয়। তাই শুধু দেখে যাচ্ছি, কেনার সাহস পাচ্ছি না। চন্দ্রিমা বাজারের ইলিশ মাছ বিক্রেতা মামুন জানান, আমার এখানে ছোট আকারের কয়েক ধরনের ইলিশ মাছ রয়েছে। যেগুলোর এক হাজার থেকে শুরু করে এক হাজার ৪৫০ টাকা পর্যন্ত। আমরাও অনেক বড় মাছ ব্যবসায়ী নই যে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০ বা দুই হাজার ৮০০ টাকা কেজি দিয়ে মাছ এখানে নিয়ে আসব।

আরও পড়ুনঃ  এক লুটেরার হাত থেকে আরেক লুটেরার হাতে ক্ষমতা গেছে: ডা. শফিকুর রহমান

 

আমাদের এখানে নিম্ন আয়ের মানুষজনই বেশি আসেন। যারা উচ্চ মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত তারা টাউন হল বাজার বা অন্য জায়গায় চলে যান। টাউন হল বাজারের ইলিশ মাছ বিক্রেতা বাদশা মিয়া বলেন, আমার এখানে এক কেজি সাইজ এবং তার নিচে আরো দুই সাইজের ইলিশ মাছ রয়েছে। এক কেজি বা তার একটু বেশি দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা, এক কেজির নিচে সাইজ ভেদে দুই হাজার থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা। এখনো বাজারে তেমনভাবে তাজা ইলিশ মাছ সরবরাহ হয়নি। বাজারের বেশিরভাগ মাছ এখনো কোল্ড স্টোরের। সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি থাকলেও বেশিরভাগ মানুষ দাম জিজ্ঞেস করে চলে যাচ্ছেন। কেউ কেউ ছোট আকারের ইলিশ কিনছেন, আবার অনেকে বাজেটের সঙ্গে মিলিয়ে অন্য মাছের দিকে ঝুঁকছেন। মোহাম্মদপুরের বাজারগুলোতে দুপুর পর্যন্ত বেচাকেনা মোটামুটি ভালো থাকলেও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে ছিল আক্ষেপের সুর। তাদের ভাষ্য, বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দাম এখনও এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি, যেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে কিনে বাড়ি ফেরা যায়।

আরও পড়ুনঃ  ভারতে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক সংকটে মোদি
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ধামরাইয়ে ২৩৫ টি পূজা মন্ডপে ১৪৭৮ জন আনসার সদস্য নিরলস ভাবে কাজ করছে

হাজার থেকে ২৮০০ টাকা কেজি, মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে ইলিশ

আপডেটের সময়: ০৫:১০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্ষা এলেই ইলিশের মৌসুম। বাজারে বেড়েছে সরবরাহ, মাছের সারিতে ঝলমল করছে রুপালি ইলিশ। কিন্তু দাম শুনে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন খালি হাতে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ইলিশের বাজারে প্রাণচাঞ্চল্য থাকলেও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি নেই। আজ শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজার, চন্দ্রিমা বাজার, ঢাকা উদ্যান, কাদেরাবাদ হাউজিং ও জেনেভা ক্যাম্প বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, ৪৫০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা। আর এক কেজি বা তার বেশি ওজনের বড় ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে। টাউন হল বাজারে মাছের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রেতা শাওন বলেন, আমি টাউন হল বাজারে কেনাকাটা করি। ইলিশ কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু দাম শুনে ছোট মাছ নিয়েই ফিরে যাচ্ছি। সংসারের খরচ সামলে এত টাকা দিয়ে মাছ কেনা কঠিন। সবারই মনে চায় ইলিশ মাছ খেতে কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও এত দাম দিয়ে কেনার উপায় নেই। টাউন হল বাজারে ইলিশ মাছ কিনতে এসেছেন চন্দনা রানী। তিনি জানান, আমার স্বামীকে নিয়ে মাছের বাজারে এসেছি। বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরলাম।

আরও পড়ুনঃ  প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তায় কেরানীগঞ্জে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত: মণ্ডপে মণ্ডপে নিপুন রায় চৌধুরীর কুশল বিনিময়

 

এক এক দোকানে এক এক রকম দাম। পরে এক কেজির একটু বেশি দুটি ইলিশ কিনলাম চার হাজার ২০০ টাকা দিয়ে। বাজারে বেশি কোল্ড স্টোরের মাছ, নতুন তাজা মাছ পাওয়া খুব কঠিন। চন্দ্রিমা বাজারে বাজার করতে আসা আরেক ক্রেতা সাইফুল বলেন, আমি একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করি। বাচ্চারা ইলিশ খেতে চেয়েছিল। তাই ছোট একটা মাছ কিনলাম। বড় ইলিশ কেনার সামর্থ্য নেই। জেনেভা ক্যাম্প বাজারে এক চাকরিজীবী বলেন, ইলিশের মৌসুমে অন্তত এক দুইবার কিনতে চাই। কিন্তু বর্তমান বাজারে এক কেজি ইলিশ কিনতেই কয়েক দিনের বাজারের টাকা শেষ হয়ে যায়। দাম বেশি হওয়ায় তাই ইলিশ মাছ কেনা হলো না। ঢাকা উদ্যান বাজারে এক গৃহিণী খাদিজা বেগম বলেন, বাজারে মাছ অনেক আছে, কিন্তু দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নয়। তাই শুধু দেখে যাচ্ছি, কেনার সাহস পাচ্ছি না। চন্দ্রিমা বাজারের ইলিশ মাছ বিক্রেতা মামুন জানান, আমার এখানে ছোট আকারের কয়েক ধরনের ইলিশ মাছ রয়েছে। যেগুলোর এক হাজার থেকে শুরু করে এক হাজার ৪৫০ টাকা পর্যন্ত। আমরাও অনেক বড় মাছ ব্যবসায়ী নই যে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০ বা দুই হাজার ৮০০ টাকা কেজি দিয়ে মাছ এখানে নিয়ে আসব।

আরও পড়ুনঃ  ছুটিতে পর্যটক বরণে প্রস্তুত বান্দরবান পার্বত্য জেলা

 

আমাদের এখানে নিম্ন আয়ের মানুষজনই বেশি আসেন। যারা উচ্চ মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত তারা টাউন হল বাজার বা অন্য জায়গায় চলে যান। টাউন হল বাজারের ইলিশ মাছ বিক্রেতা বাদশা মিয়া বলেন, আমার এখানে এক কেজি সাইজ এবং তার নিচে আরো দুই সাইজের ইলিশ মাছ রয়েছে। এক কেজি বা তার একটু বেশি দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা, এক কেজির নিচে সাইজ ভেদে দুই হাজার থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা। এখনো বাজারে তেমনভাবে তাজা ইলিশ মাছ সরবরাহ হয়নি। বাজারের বেশিরভাগ মাছ এখনো কোল্ড স্টোরের। সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি থাকলেও বেশিরভাগ মানুষ দাম জিজ্ঞেস করে চলে যাচ্ছেন। কেউ কেউ ছোট আকারের ইলিশ কিনছেন, আবার অনেকে বাজেটের সঙ্গে মিলিয়ে অন্য মাছের দিকে ঝুঁকছেন। মোহাম্মদপুরের বাজারগুলোতে দুপুর পর্যন্ত বেচাকেনা মোটামুটি ভালো থাকলেও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে ছিল আক্ষেপের সুর। তাদের ভাষ্য, বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দাম এখনও এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি, যেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে কিনে বাড়ি ফেরা যায়।

আরও পড়ুনঃ  দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব: ডিসি ফরিদা