
মোঃ মামুনুর রশিদ, ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার ধুনট পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের চান্দারপাড়া থেকে দাসপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের একাংশ ধসে পড়ে পুরোপুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সড়কটি ধসে যাওয়ার ফলে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই গ্রামের সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির আঃ মোমিনের বাড়ি থেকে মোঃ চান সরকারের বাড়ির মাঝামাঝি অংশের মাটি ও ইটের গাথুনি ব্যাপকভাবে ধসে গেছে। ধসে পড়া এই রাস্তার কারণে চান্দারপাড়া ও দাসপাড়া—এই দুই গ্রামের সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের প্রতিদিনের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ধসে যাওয়া অংশের ওপর দিয়েই হেঁটে চলাচল করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সুরুজ সরকার ও মোছাঃ রোজিনা জানান, অতিবৃষ্টির ফলে যখন প্রথম সেখানে ছোট গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল, তখনই পৌর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছিল। সময়মতো স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ায় আজ পুরো রাস্তাটি ধসে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম, সাবেক কাউন্সিলর ফরহাদ হোসেন, মোঃ সাইদুল ইসলামসহ এলাকাবাসী অবিলম্বে সড়কটি টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণ ও ড্রেন নির্মাণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, পূর্বে এখানে ড্রেন নির্মাণের জন্য মালামাল আনা হলেও পরবর্তীতে তা রহস্যজনকভাবে ফেরত নিয়ে যাওয়া হয়।
পরবর্তীতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ধুনট পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাজেদী হক ও কার্যসহকারী মাহমুদুল হাসান টুকু জানান, সড়কটির ধসে পড়ার বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ অবগত রয়েছে। ড্রেন নির্মাণের মালামাল ফেরত নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, এ বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত নন। তবে প্রায় এক মাস পূর্বে যখন প্রথম সেখানে গর্ত তৈরি হওয়ার খবর পান, তখনই তাঁরা স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছিলেন। তিনি আরও জানান, পূর্বের সেই পরিদর্শনের আলোকেই উক্ত স্থানটিতে টেকসই সংস্কার ও টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সকল দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে; খুব শীঘ্রই টেন্ডার আহ্বান করা হবে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই দ্রুত রাস্তাটি মেরামতের কাজ শুরু হবে।
প্রতিবেদকের নাম 



















