
এন এস ফারুক (স্টাফ রিপোর্টার) রংপুর: পরকীয়া সংক্রান্ত ঘটনায় আটক নারী ও যুবককে থানা হেফাজতে নেয়ার পর তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া জাতীয় দৈনিক আজকের জনবাণী ও জাতীয় দৈনিক খোলা বাজার পত্রিকার গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ ও ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রংপুর জেলার তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে। এমনকি পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে থানার বাইরে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আপস-রফাদফার জোর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১ নম্বর আলমপুর ইউনিয়নের সেরমস্ত বাঙালিপুর গ্রামে পরকীয়া প্রেমের জেরে এক সন্তানের জননীসহ মোস্তফা নামে এক যুবককে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে স্থানীয় এলাকাবাসী। খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে তারাগঞ্জ থানা হেফাজতে হস্তান্তর করে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ও আটককৃতদের বক্তব্য সংগ্রহের জন্য স্থানীয় সাংবাদিকরা থানায় যান। এ সময় ‘শাপলা’ নামে এক পুলিশ সদস্য ওসির কক্ষে গিয়ে সাংবাদিকদের উপস্থিতির বিষয়টি জানালে ওসি রুহুল আমিন হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে রুম থেকে বের হয়ে আসেন। তিনি সাংবাদিকদের কোনো কথা না শুনেই উগ্র মেজাজে উচ্চস্বরে ধমকে বলেন, “আপনি এখানে কেন? কেন জিজ্ঞাসা করছেন? চলে যান! তাদেরকে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না, আপনারা এখনই বের হয়ে যান। হেনস্তার শিকার সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো প্রকার সুযোগ না দিয়ে সরাসরি এমন রুক্ষ আচরণ একজন দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মকর্তার পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তথ্য সংগ্রহ করা স্বাধীন সাংবাদিকতার মৌলিক অধিকার। ওসি স্বাভাবিকভাবে তথ্য প্রদান কিংবা কথা বলতে পারতেন, তা না করে সরাসরি সাংবাদিকদের প্রতি চড়াও হন।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, থানার বাইরে একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে রফাদফার চেষ্টা চলছে। স্থানীয়দের মতে, এই অবৈধ রফাদফায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই ওসি রুহুল আমিন সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং তড়িঘড়ি করে থানা থেকে বের করে দেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের প্রতি ওসির এমন ‘স্বৈরাচারী’ ও অশোভন আচরণে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।এ বিষয়ে সিনিয়র সাংবাদিক, তারাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাপ্তাহিক তারার আলো পত্রিকার সম্পাদক খবির উদ্দিন প্রামানিক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তথ্য সংগ্রহ ও জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরাই সাংবাদিকদের মূল কাজ। পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে একজন সাংবাদিক যেকোনো সময় থানায় যেতেই পারেন। সেখানে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন সাংবাদিকদের সাথে যে ধরনের অপেশাদার ও অহেতুক খারাপ আচরণ করেছেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এ বিষয়ে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি (DIG)-কে অবহিত করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিবেদকের নাম 


















