
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সউদী আরবের ডি-ফ্যাক্টো শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাজনিত কারণে চরম কোণঠাসা পরিস্থিতিতে পড়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক নতুন সামরিক সঙ্কট ঘনীভূত হওয়ায় তাঁর মেগা অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ‘ভিশন ২০৩০’ চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আঞ্চলিক সামরিক সংকট ও মিত্রদের দূরত্ব: সউদী আরবের চারপাশ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন সামরিক অস্থিরতা: উত্তরে: ইরাকে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সউদীর ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলা চালিয়েছে।
দক্ষিণে: ইয়ামেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর উপকূল ঘেঁষে বাবেল মানদেবে নিজেদের আধিপত্য বাড়াচ্ছে। পূর্বে: ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের অস্থিরতায় পারস্য উপসাগরের প্রণালী হরমুজ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সংকটময় মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাহায্য চেয়েও প্রত্যাশিত সামরিক সহায়তা পায়নি রিয়াদ। দ্য টেলিগ্রাফ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মতে, সামরিক অভিযানের জন্য ওয়াশিংটনের কাছে আবেদন করা হলেও যুক্তরাষ্ট্র সে অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য সামরিক উপদেষ্টা পাঠালেও সরাসরি যুদ্ধ সহায়তায় যুক্ত হতে সম্মত হয়নি।
অর্থনৈতিক ও মেগা প্রজেক্টের ধাক্কা: তেল নির্ভরতা কমিয়ে সউদীকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে যুবরাজ ২০১৬ সালে ‘ভিশন ২০৩০’ ঘোষণা করেছিলেন। ১০৬ মাইল দীর্ঘ আয়নার শহর ‘দ্য লাইন’ এবং বিলিয়ন ডলারের গলফ টুর্নামেন্টের মতো উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পগুলোতে ইতিমধ্যে বাজেট ছাঁটাই ও অর্থনৈতিক ধাক্কা লেগেছে। বিশেষজ্ঞ ড. রব গেইস্ট পিনফোল্ডের মতে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর ভিত্তি করেই এই মহা-পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল, যা এখন অভূতপূর্ব হুমকির মুখোমুখি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুবরাজের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভিত্তি এখনো অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং হঠাৎ কোনো তখত পাল্টানোর সম্ভাবনা কম হলেও, চারপাশের অস্থিরতা দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরকে অসম্ভব করে তুলছে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ।
প্রতিবেদকের নাম 






















