
এম. ওমর হাসনাত, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি
বাংলাদেশের উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও। জেলার বেশিরভাগ মানুষ শান্তিপ্রিয়। কিন্তু সেই শান্তির মাঝে এক বিষাদময় বার্তা হলো প্রতিনিয়ত জেলার বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছেই। এটি যেন একটা চিরচেনা খবর হয়ে উঠেছে ঠাকুরগাঁও জেলায়। গত ২রা মে থেকে এ পর্যন্ত শুধুমাত্র মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬ জনে।
এ নিয়ে জেলার সাধারণ জনগণের মধ্যে দেখা যাচ্ছে এক চিন্তার ছাপ। জেলার বিভিন্ন স্থানের সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র তুলে ধরা হলো:
২২ মে শুক্রবার: রাণীশংকৈল উপজেলার পৌর শহরের মুক্তা সিনেমা হল সংলগ্ন এলাকায় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে আবুল হোসেন (৬১) নামে এক ভ্যানচালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই কিশোর গুরুতর আহত হয়। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহত আবুল হোসেন পৌর শহরের মহল বাড়ি এলাকার মৃত নয়ন শেখের ছেলে।
২০ মে বুধবার: ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের মুন্সিরহাট এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বন্ধু নিহত হয়। আনুমানিক সকাল ৬টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহর-রেলওয়ে স্টেশন সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনির হোসেন জানান – নিহত দুই যুবক মোটরসাইকেল আরোহী ছিলেন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে তারা ছিটকে পড়ে যায়। নিহতরা হলেন—ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের ঋষিকেশ রায়ের ছেলে ঋত্বিক রায় (২৫) ও তার বন্ধু হরিহরপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে আশিক হাসান (২৪)।
২০মে বুধবার: একইদিনে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুস সামাদ (৫০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়।
নিহত আব্দুস সামাদ বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের গান্ডিগাড়ি গ্রামের মৃত কলিম উদ্দিনের ছেলে। জানা গেছে,
২০ মে বুধবার রাত ৯টার দিকে রাণীশংকৈল উপজেলার মীরডাঙ্গী টেকিয়া মহেশপুর এলাকায় রাস্তার ওপর একটি ট্রাক্টর দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ আব্দুস সামাদের মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক্টরের পেছনে ধাক্কা লাগে। এতে তিনি ও তার স্ত্রী গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আব্দুস সামাদ মারা যান।
১৫ মে শুক্রবার: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় ট্রাক্টর চাকায় পিষ্ট হয়ে এক চাল ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। নিহত আব্দুল কাদের (৪৫) পৌর শহরের মিত্রবাটি এলাকার মৃত আশিক উদ্দিনের ছেলে। এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৫ মে শুক্রবার দুপুরে রাণীশংকৈল থেকে ইটবোঝাই একটি ট্রাক্টর পীরগঞ্জ হয়ে বোচাগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। একই সময়ে মোটরসাইকেল আরোহী আব্দুল কাদের বাসায় যাচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি ইটবোঝাই ট্রাক্টর মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিলে ট্রাক্টরের বড় চাকার নিচে পড়ে যান কাদের। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন এবং মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
২ মে শনিবার: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে সড়ক দুর্ঘটনায় নাঈম (২৬) নামে এক কীটনাশক কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। নিহত নাঈম সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলাধীন কয়রা গ্রামের আবু সামার ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ২ মে শনিবার দুপুরে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত নাঈম রাণীশংকৈল থেকে হরিপুরে যাওয়ার পথে বলিদ্বারা বগুড়াপাড়া নামক এলাকায় মোটরসাইকেলের হার্ডব্রেক করলে সাথে সাথে সে পড়ে যায় এবং পিছিনে থাকা একটি অটোরিকশা তাকে চাপা দিয়ে তার উপর দিয়ে চলে যায়। এসময় তাকে স্থানীয়া গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
ঠাকুরগাঁও শহরের কলেজ শিক্ষক জালালউদ্দিন বলছিলেন- ” সড়ক দুর্ঘটনা হওয়ার কারণ অনেক আছে। উল্লেখযোগ্য হলো, যানবাহন চালকদের নেই দক্ষ প্রশিক্ষণ, চলার পথে সেফটি টুলস ব্যবহার না করা, গাড়ি ড্রাইভের সময় অমনোযোগী থাকা। এছাড়া প্রশাসনের নজরদারি কম হওয়া এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলা যায়। সবাই অবাধে লাইসেন্সবিহীন গাড়ি নিয়ে ড্রাইভ করে। প্রশাসনের উচিত চালকদেরকে দক্ষ প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা তাহলে দূর্ঘাটনা অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব।”
প্রতিবেদকের নাম 
























