
মোঃ কাইয়ুম হাসান,স্টাফ রিপোর্টার, ঠাকুরগাঁও: জেলায় আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। ছড়াচ্ছে আতঙ্ক। ইতিমধ্যেই হামের উপসর্গ ও নানাবিধ জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার মরিচগাঁও গ্রামের আব্দুল হালিমের ৫ মাস বয়সী সন্তান ‘তারানুন’ হামের জটিলতায় মারা গেছে। গত ২০ মে হামের লক্ষণ নিয়ে শিশুটিকে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, হামের জটিলতা থেকে শিশুটি তীব্র নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল, যা তার মৃত্যুর কারণ।
এর আগে, গত ১৬ মে সদর উপজেলার মনি আক্তার নামে ৯ মাস বয়সী আরেক শিশুর মৃত্যু হয়। হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সূত্রমতে, জেলাজুড়ে এ পর্যন্ত ১৯৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ১১০ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আশার কথা হলো, ইতিমধ্যেই ৮৪ জন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।সংক্রমণের সঠিক প্রকৃতি ও বিস্তার নিশ্চিত করতে ১২৭ জন রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকার ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক ফলাফলে ৮ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের জরুরি বার্তা, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সেই সাথে শিশুদের শরীরে হামের সামান্যতম লক্ষণ দেখা দিলেই কালক্ষেপণ না করে অবিলম্বে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















