
তৌহিদ-উল বারী, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। শুধু পাসের হার নয়, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ২ হাজার ৪৪৫ জন। পাশাপাশি শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যাও কমেছে।
আজ সোমবার (১০ আগষ্ট) প্রকাশিত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ২০২৫ ও ২০২৬ সালের ফলাফলের তুলনামূলক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
গত বছর বোর্ডে এসএসসিতে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ। এবার সেটি নেমে এসেছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
মানবিকে সবচেয়ে বড় পতন
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে মানবিক বিভাগে। ২০২৫ সালে এ বিভাগে পাসের হার ছিল ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশে।
বিজ্ঞান বিভাগেও কমেছে পাসের হার। গত বছর ৯২ দশমিক ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করলেও এবার পাস করেছে ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৭৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ।
ছাত্র-ছাত্রী উভয়ের ফলেই অবনতি
ছাত্র ও ছাত্রী- দুই ক্ষেত্রেই এবারের ফল গত বছরের তুলনায় খারাপ হয়েছে। ২০২৫ সালে ছাত্রদের পাসের হার ছিল ৭১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এবার তা কমে হয়েছে ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
অন্যদিকে, গত বছর ছাত্রীদের পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ১৯ শতাংশ। চলতি বছর তা নেমে এসেছে ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশে।
পার্বত্য তিন জেলায়ও বড় পতন
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন জেলাগুলোর ফলাফলেও ব্যাপক অবনতি হয়েছে। খাগড়াছড়িতে পাসের হার সবচেয়ে বেশি কমেছে। গত বছর এ জেলায় ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করলেও এবার পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশে।
রাঙামাটিতে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ। বান্দরবানে ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ থেকে কমে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশে।
কক্সবাজারেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। জেলাটিতে পাসের হার ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৫৭ দশমিক ০৯ শতাংশ।
চট্টগ্রাম মহানগরেও কমেছে পাসের হার
বোর্ডের কেন্দ্রীয় অঞ্চলেও ফলাফলে অবনতি হয়েছে। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ৩৩ শতাংশে।
মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় গত বছর পাসের হার ছিল ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ। এবার তা কমে হয়েছে ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। মহানগরসহ পুরো চট্টগ্রাম জেলার পাসের হারও ৭৪ দশমিক ৯০ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশে।
জিপিএ-৫ কমেছে ২ হাজার ৪৪৫
পাসের হারের পাশাপাশি মেধাবৃত্তিক ফলাফলেও নেতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন। এবার সেই সংখ্যা কমে হয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২ হাজার ৪৪৫ জন।
শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ও কমেছে
ফলাফলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যাতেও পতন হয়েছে। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে শতভাগ পাস করা বিদ্যালয় ছিল ৩৩টি। এবার সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২১টিতে।
২০২৫ সালে শূন্য শতাংশ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল একটি। তবে ২০২৬ সালের প্রকাশিত তুলনামূলক পরিসংখ্যানে এ-সংক্রান্ত তথ্যের ঘরটি অস্পষ্ট রয়েছে।
পরীক্ষার্থীও কমেছে প্রায় ১০ হাজার
এদিকে বোর্ডে এবার মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। ২০২৫ সালে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ৩৮৮ জন। চলতি বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জনে।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পরীক্ষার্থী কমেছে ৯ হাজার ৭০৬ জন।
সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫- দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। পাশাপাশি কমেছে শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যাও। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমার মধ্যেই ফলাফলের প্রধান সূচকগুলোতে এই অবনতি ঘটেছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















