
মাহাদী হাসান অন্তর, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলায় দীর্ঘ সময় ধরে চলা তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চলতি মাসে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৬–১৭ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। এতে চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, মৎস্য ও বিভিন্ন উৎপাদনশীল কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুতের লাইন নষ্ট হলে দ্রুত সময় মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয় না। অনেক ক্ষেত্রে লাইন বিকল হওয়ার পর এক থেকে দুই দিন, এমনকি তারও বেশি সময় পর মেরামত করা হয়। ফলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
এদিকে কোনো কোনো এলাকায় ট্রান্সফরমার নষ্ট হলে সেটি আনা-নেওয়ার খরচও গ্রাহকদের বহন করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপরও ট্রান্সফরমার পরিবর্তন বা মেরামতে দীর্ঘ সময় লাগায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
বর্তমানে তথা আগস্ট মাসে অতিরিক্ত এই লোডশেডিংয়ের কারণে মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলার বরফকলগুলোও স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন করতে পারছে না বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। এতে মাছ সংরক্ষণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে এবং জেলে সম্প্রদায়ের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পর্যাপ্ত বরফের ব্যবস্থা করতে না পারায় অনেক জেলে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যেতে সমস্যার মুখে পড়ছেন।
শুধু তাই নয়, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার পরও অনেক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক হারে বেশি আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুতের লাইন ও ট্রান্সফরমার বিকল হলে দ্রুত মেরামত, লোডশেডিংয়ের সঠিক সময়সূচি প্রকাশ এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
প্রতিবেদকের নাম 



















