
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন,“যারা আমাদের সীমান্তে আমাদের মানুষকে হত্যা করছে, যারা আমাদের নদীর পানির অধিকার আটকে রাখছে, যারা নিজেদের দেশে প্রতিদিন বাংলাদেশবিরোধী প্রচার চালাচ্ছে—তাদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দল আয়োজিত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “মায়ের টান, বাবার টান, বাড়ি-ঘরের টান কিংবা স্ত্রী-সন্তানের টানেও মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধের সময় ঘরে বসে থাকেননি। তারা কোনো দালালি করেননি। স্বদেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করে তারা স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছেন। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের কারণেই আজ আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারি। আমাদের রাষ্ট্রভাষা বাংলা, দেশের নাম বাংলাদেশ এবং আমরা বাংলাদেশি—এসবই মহান মুক্তিযুদ্ধের অর্জন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছোট করে দেখার চেষ্টা হচ্ছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, “যারা একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান হানাদার বাহিনীকে জানিয়ে দিয়েছিল, তাদের বীরত্বের ইতিহাস নেই; রয়েছে দালালির ইতিহাস। তিনি বলেন, “বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির আঁতাত হয়েছে। ১৯৮৬ সালে জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচনে যাওয়ার অভিযোগ তুলে রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ওই নির্বাচন বর্জন করেছিলেন।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকেই জুলাইয়ের আন্দোলন সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের অধিকার সংকুচিত হওয়া ও কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে জুলাইয়ে একটি মহাবিপ্লব হয়েছে। রিজভী বলেন, ১৯৭১ এর পথ ধরেই ১৯৯০ এসেছে, ১৯৭১-এর পথ ধরেই জুলাই এসেছে। কারণ এই চেতনা আমাদের মধ্যে রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই আন্দোলনকে বিভাজনের চেষ্টা করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “কৌশলে কোনটি বড় আর কোনটি ছোট—এভাবে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করে কোনো লাভ হবে না। দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছে, তেমনি স্বাধীনতা রক্ষাও করতে পারে। বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে জনগণের আন্দোলনে বিএনপি মাঠে ছিল। খালেদা জিয়া ও আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। সেই ১৭ বছরের প্রতিরোধের বহিঃপ্রকাশই জুলাই আন্দোলন। তিনি বলেন, “আমরা ১৯৭১ এর সন্তান, আমরা ১৯৯০ এর সন্তান, আমরা জুলাইয়ের সন্তান। এই রক্তস্নাত ধারায় যতদিন এ দেশের মানুষ অধিকারবঞ্চিত হবে, ততদিন সেই ইতিহাস আমাদের প্রেরণা দেবে। জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দলের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রশংসা করে রিজভী বলেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্বে নতুন প্রজন্ম দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে যেকোনো ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত প্রতিহত করতে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে।
প্রতিবেদকের নাম 

























