Dhaka ০৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বদলগাছীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার ঠাকুরগাঁওয়ে বিএসএফের পুশইন ঠেকাতে রাতভর সীমান্ত পাহারায় বিজিবি ও গ্রামবাসী ঢাকা দক্ষিণ সিটির উচ্ছেদ অভিযান: কাকরাইল থেকে আরামবাগ পর্যন্ত ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত কাউনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই স্টার্টআপ ও সায়েন্স প্রজেক্ট প্রদর্শনীর উদ্বোধন করলেন ডা. জুবাইদা ফরিদপুরে ৫১ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার নগরকান্দায় ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ বৃদ্ধ আটক ভাতা নয়, মৃত্যুর পূর্বে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চান মুক্তিযোদ্ধা সুভাস চন্দ্র বসু রুমায় আগুনে ছাই ৫ দোকান: ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে রুমা জোন খাগড়াছড়িতে জেলা পর্যায়ে সায়েন্স প্রজেক্ট এবং ইনোভেশন আইডিয়া প্রদর্শনী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

জলঢাকায় কথিত চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসা, হাত হারানোর ঝুঁকিতে নারী

মোঃ রাব্বি রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: নীলফামারীর জলঢাকায় ভুল চিকিৎসার কারনে রিনা বেগম নামে এক গৃহবধূর বাম হাত পঁচে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পল্লী চিকিৎসক তফছির আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী রোগী রিনা বেগম বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে পল্লী চিকিৎসকের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সরেজমিন ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাঁঠালী ইউনিয়নের দক্ষিণ দেশীবাই বসুনিয়া পাড়া সেকেন্দার আলীর স্ত্রী রিনা বেগমের শরীরে প্রচন্ড জ্বর হলে তথাকথিত পল্লী চিকিৎসক টেংগনমারী বাজারের ভাই ভাই ফার্মেসীর সত্বাধিকারী ও পশ্চিম খুটামারা গ্রামের মৃত মোজাহার কবিরাজের ছেলে তফছির আলী ভুক্তভোগী পরিবারে উপস্থিত হয়ে পরামর্শের একপর্যায়ে রোগী রিনা বেগমের বাম হাতের বাহুতে একটি ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন পুশ করে পল্লী চিকিৎসক তফসির আলী চলে যাওয়ার ১০ মিনিটের মাথায় ইনজেকশন দেওয়ার স্থানে প্রচন্ড ব্যাথা এবং ক্ষতস্থানটি শক্ত হলে রোগীর স্বামী সেকেন্দার আলী দ্রুত তথাকথিত পল্লী চিকিৎসককে বিষয়টি অবগত করেন। ওই চিকিৎসকের পরামর্শ ক্রমে গরম বালুর স্যাক দেন। গরম বালুর স্যাক দেয়ার পরপরেই রিনা বেগমের বাম হাত পুরোটাই ফুলে যায়।

আরও পড়ুনঃ  বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে পিআইও মিল্টন দস্তিদারের বিরুদ্ধে কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ

 

দুইদিন পর আবারও পল্লী চিকিৎসক ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান এবং হাতটি দেখে জোরপূর্বক ব্লেট দিয়ে হাতের বাহুর পেশি কেটে সাদা কাপড় দিয়ে ব্যান্ডেজ করেন। এরপর রোগীর অবস্থা বেগতিক হলে ভুক্তভোগী পরিবার নীলফামারী বসুনিয়া হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবে এমবিবিএস ডাঃ মোঃ লুৎফর কবীর কে দেখালে তিনি রোগীর হাতের অবস্থা দেখে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিতে পরামর্শ দেন এবং পরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সার্জারী বিভাগে ভর্তি করালে কর্মরত চিকিৎসক বাম হাতটির বিষয়ে লিখেন যে, c/c e-duration: pain & swelling of left upper limb following l/m injection given. অর্থাৎ, ইনজেকশন ভুল পুশ করার কারনে এমনটি হয়েছে। হাতটি দ্রুত অপারেশন করতে হবে। ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছেন, বর্তামানে রোগী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খুবই আশংকাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছে এবং যেকোন মুহুর্তে প্রয়োজনে হাতটি কেটে ফেলা লাগতে পারে ডাক্তার জানিয়েছে। ভুক্তভোগী রিনার স্বামী সেকেন্দার আলী বলেন, জ্বরের চিকিৎসার জন্য পল্লী চিকিৎসক তফছির আলী ডাকলে তিনি আমার স্ত্রী কে একটা ইনজেকশন দিয়েছেন। এই ইনজেকশন দেওয়ার কারনে আজ আমার স্ত্রী একটি হাত হারাতে যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  মাদকবিরোধী অভিযানে বিরামপুরে তিন কারবারি আটক

 

ভুক্তভোগী রোগীর ভাই সিরাজুল ইসলাম জানায়, ভুল চিকিৎসা বিষয়ে তথাকথিত পল্লী চিকিৎসক তফছির আলী কে বলতে গেলে ওই চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে এবং বলেন যে, ভুল চিকিৎসা দিয়েছি তা কি হয়েছে? রোগীতো আর মারা যায়নি। ঘটনা বিষয়ে অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসক তফছির আলীর বক্তব্যের জন্য টেংগনমারী বাজারে অবস্থিত ভাই ভাই ফার্মেসী দোকানে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সে ফার্মেসীর দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায়। জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল আলম বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারটিকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ডকুমেন্টস সহ আইনের আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে, তদন্ত সাপেক্ষে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডাক্তার মোঃ আব্দুর রাজ্জাক।

আরও পড়ুনঃ  নাচেলে বিজ্ঞান উদ্ভাবনী সেমিনার ও প্রদর্শনীর উদ্বোধন
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বদলগাছীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার

জলঢাকায় কথিত চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসা, হাত হারানোর ঝুঁকিতে নারী

আপডেটের সময়: ০৬:২৬:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

মোঃ রাব্বি রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: নীলফামারীর জলঢাকায় ভুল চিকিৎসার কারনে রিনা বেগম নামে এক গৃহবধূর বাম হাত পঁচে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পল্লী চিকিৎসক তফছির আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী রোগী রিনা বেগম বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে পল্লী চিকিৎসকের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সরেজমিন ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাঁঠালী ইউনিয়নের দক্ষিণ দেশীবাই বসুনিয়া পাড়া সেকেন্দার আলীর স্ত্রী রিনা বেগমের শরীরে প্রচন্ড জ্বর হলে তথাকথিত পল্লী চিকিৎসক টেংগনমারী বাজারের ভাই ভাই ফার্মেসীর সত্বাধিকারী ও পশ্চিম খুটামারা গ্রামের মৃত মোজাহার কবিরাজের ছেলে তফছির আলী ভুক্তভোগী পরিবারে উপস্থিত হয়ে পরামর্শের একপর্যায়ে রোগী রিনা বেগমের বাম হাতের বাহুতে একটি ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন পুশ করে পল্লী চিকিৎসক তফসির আলী চলে যাওয়ার ১০ মিনিটের মাথায় ইনজেকশন দেওয়ার স্থানে প্রচন্ড ব্যাথা এবং ক্ষতস্থানটি শক্ত হলে রোগীর স্বামী সেকেন্দার আলী দ্রুত তথাকথিত পল্লী চিকিৎসককে বিষয়টি অবগত করেন। ওই চিকিৎসকের পরামর্শ ক্রমে গরম বালুর স্যাক দেন। গরম বালুর স্যাক দেয়ার পরপরেই রিনা বেগমের বাম হাত পুরোটাই ফুলে যায়।

আরও পড়ুনঃ  বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে পিআইও মিল্টন দস্তিদারের বিরুদ্ধে কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ

 

দুইদিন পর আবারও পল্লী চিকিৎসক ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান এবং হাতটি দেখে জোরপূর্বক ব্লেট দিয়ে হাতের বাহুর পেশি কেটে সাদা কাপড় দিয়ে ব্যান্ডেজ করেন। এরপর রোগীর অবস্থা বেগতিক হলে ভুক্তভোগী পরিবার নীলফামারী বসুনিয়া হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবে এমবিবিএস ডাঃ মোঃ লুৎফর কবীর কে দেখালে তিনি রোগীর হাতের অবস্থা দেখে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিতে পরামর্শ দেন এবং পরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সার্জারী বিভাগে ভর্তি করালে কর্মরত চিকিৎসক বাম হাতটির বিষয়ে লিখেন যে, c/c e-duration: pain & swelling of left upper limb following l/m injection given. অর্থাৎ, ইনজেকশন ভুল পুশ করার কারনে এমনটি হয়েছে। হাতটি দ্রুত অপারেশন করতে হবে। ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছেন, বর্তামানে রোগী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খুবই আশংকাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছে এবং যেকোন মুহুর্তে প্রয়োজনে হাতটি কেটে ফেলা লাগতে পারে ডাক্তার জানিয়েছে। ভুক্তভোগী রিনার স্বামী সেকেন্দার আলী বলেন, জ্বরের চিকিৎসার জন্য পল্লী চিকিৎসক তফছির আলী ডাকলে তিনি আমার স্ত্রী কে একটা ইনজেকশন দিয়েছেন। এই ইনজেকশন দেওয়ার কারনে আজ আমার স্ত্রী একটি হাত হারাতে যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়ায় উন্নয়নের নতুন পরিকল্পনা তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী: মীর শাহে আলম

 

ভুক্তভোগী রোগীর ভাই সিরাজুল ইসলাম জানায়, ভুল চিকিৎসা বিষয়ে তথাকথিত পল্লী চিকিৎসক তফছির আলী কে বলতে গেলে ওই চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে এবং বলেন যে, ভুল চিকিৎসা দিয়েছি তা কি হয়েছে? রোগীতো আর মারা যায়নি। ঘটনা বিষয়ে অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসক তফছির আলীর বক্তব্যের জন্য টেংগনমারী বাজারে অবস্থিত ভাই ভাই ফার্মেসী দোকানে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সে ফার্মেসীর দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায়। জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল আলম বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারটিকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ডকুমেন্টস সহ আইনের আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে, তদন্ত সাপেক্ষে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডাক্তার মোঃ আব্দুর রাজ্জাক।

আরও পড়ুনঃ  সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে মুগবেলাই লুৎফিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে অবৈধ কমিটি ও জমি বিক্রির অভিযোগ