
কাজী আন্নিল তানভীর, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
রাজধানীতে আয়োজিত এক বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীদের তৈরি কণ্ঠস্বর (ভয়েস কমান্ড) ও শারীরিক ইশারায় (জেসচার) নিয়ন্ত্রণযোগ্য অত্যাধুনিক কৃত্রিম রোবোটিক হাত দেখে গভীর মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জোবাইদা রহমান।
রোববার (১৪ জুন) বিকেলে তেজগাঁওয়ের বিএএফ শাহীন কলেজের শাহীন হল মিলনায়তনে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ (ঢাকা জেলা পর্যায়) প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের এই অভিনব উদ্ভাবন ঘুরে দেখেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং ঢাকা জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত: কণ্ঠস্বর ও ইশারায় চলবে হাত
প্রদর্শনীতে একদল তরুণ শিক্ষার্থী তাদের তৈরি কৃত্রিম রোবোটিক হাতটি (প্রোসথেসিস) প্রধান অতিথির সামনে উপস্থাপন ও এর কার্যকারিতা প্রদর্শন করে। প্রচলিত কৃত্রিম হাতের নানা সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির এই উদ্ভাবন দেখে ডা. জোবাইদা রহমান অভিভূত হন। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন এবং এর বিভিন্ন কারিগরি দিক সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেন।
শিক্ষার্থীরা প্রধান অতিথিকে কৃত্রিম হাতটির কার্যকারিতা সম্পর্কে জানায়:
আধুনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা: বাজারে প্রচলিত সাধারণ কৃত্রিম হাতগুলো মূলত অপরিবর্তনশীল (ফিক্সড) ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তবে তাদের তৈরি এই হাতটি সম্পূর্ণ থ্রিডি (3D) প্রিন্টারে তৈরি এবং বিশেষভাবে প্রোগ্রাম করা, যা মানুষের কণ্ঠস্বর কিংবা সামান্য শারীরিক ইশারার মাধ্যমেই অনায়াসে যেকোনো জিনিস ধরতে ও ছাড়তে পারে।
সবার জন্য কাস্টমাইজেশন: এটি শুধু কনুই বা হাত কাটা ব্যক্তিদের জন্যই নয়, বরং যাদের কবজি থেকে হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, তাদের শারীরিক গঠন অনুযায়ীও কাস্টমাইজ বা পরিবর্তন করে নেওয়া সম্ভব।
সাশ্রয়ী মূল্য: উন্নত প্রযুক্তির হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে তৈরি করা সম্ভব।
শিক্ষার্থীদের এই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা ও আত্মবিশ্বাস দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ডা. জোবাইদা রহমান বলেন,
“চমৎকার প্রজেক্ট, তোমাদের অভিনন্দন।”
কর্মমুখী ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষায় জোর দেওয়ার আহ্বান
পরে মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জোবাইদা রহমান শিক্ষার্থীদের এই উদ্ভাবনী মেধার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের মেধা, দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে সপ্তম শ্রেণি থেকেই দলগত কাজ (টিম ওয়ার্ক), বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা এবং নৈতিক শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া প্রয়োজন।”
একই সঙ্গে তিনি ধনী-গরিব নির্বিশেষে দেশের অনগ্রসর ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে উপযুক্ত অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের মাধ্যমে আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আনন্দময় ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শিক্ষাব্যবস্থায় আসছে আমূল পরিবর্তন
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, “সরকার আর জিপিএ-৫-এর মতো সোনার হরিণের পেছনে ছুটবে না। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সম্পূর্ণ কর্মমুখী ও বাস্তবমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।”
ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে জমকালো এই সমাপনী অনুষ্ঠানটি শেষ হয় পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।
প্রতিবেদকের নাম 
























