
মাসুদ রানা মাসুম পার্বত্য ব্যুরো: পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার সীমান্ত পেরিয়ে এবার দেশের সমতলের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের উন্নয়ন ও সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়ের বড় দায়িত্ব পেলেন সংরক্ষিত নারী আসন এর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মার্মা। নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক-প্রশাসনিক সমন্বয় দেখভালের বিশেষ দায়িত্ব এখন থেকে তাঁর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
গত ৭ জুন (রবিবার) শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশনে যোগ দিয়ে প্রথম দিনেই তিনি এই বড় দায়িত্ব লাভ করেন। এটি ছিল তাঁর সংসদীয় জীবনের প্রথম অধিবেশনে যোগদান। প্রথম দিনেই এমন গুরুদায়িত্ব পাওয়াকে সংসদীয় রাজনীতিতে একটি ব্যতিক্রমী ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সংসদ সচিবালয়ের উচ্চপদস্থ সূত্র জানায়, গতকাল শুরু হওয়া বাজেট অধিবেশনে অংশ নেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মার্মা। আইন পেশা থেকে রাজনীতিতে আসা এই নারী নেত্রীর জন্য এটিই ছিল প্রথম সংসদ অধিবেশন। অধিবেশনে যোগদানের পরই সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাঁকে নোয়াখালী-৬ এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিশেষ সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সাধারণত সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যরা নির্দিষ্ট অঞ্চলের বাইরে সমতলের দুটি ভিন্ন জেলার গুরুত্বপূর্ণ আসনের দায়িত্ব পাওয়ার ঘটনা বেশ বিরল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নোয়াখালী-৬ (দ্বীপ অঞ্চল হাতিয়া) এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ (শিল্পাঞ্চল) এর মতো ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুটি আসনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তদারকি মাধবী মার্মার রাজনৈতিক পরিপক্বতার ওপর নেতৃত্বের আস্থারই বহিঃপ্রকাশ।
অনন্য এই দায়িত্ব পাওয়ার পর এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় অ্যাডভোকেট মাধবী মার্মা এমপি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন। এডভোকেট মাধবী মারমা বলেন আমাকে সংরক্ষিত পার্বত্য নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করে সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিরকৃতজ্ঞ। এর ওপর আবার সমতলের নোয়াখালী ও নারায়ণগঞ্জের দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সমন্বয়ের যে বিশাল দায়িত্ব আমার কাঁধে অর্পণ করা হয়েছে, তা আমার জন্য অত্যন্ত গৌরবের। আমি এই পবিত্র আমানত ও গুরুদায়িত্ব সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, সততা এবং আন্তরিকতার সাথে পালন করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। একই সাথে তিনি তিন পার্বত্য জেলা—বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির সর্বস্তরের জনগণের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যাদের দোয়া ও সমর্থনে তিনি আজ সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। মাধবী মার্মার এই নতুন দায়িত্ব প্রাপ্তিকে পাহাড় ও সমতলের সুষম উন্নয়নের একটি অনন্য সেতুবন্ধন হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে, পার্বত্য অঞ্চলের একজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী আইনজীবীকে সমতলের দুটি ভিন্ন ও চ্যালেঞ্জিং আসনের দায়িত্ব দেওয়া দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নীতির একটি বড় প্রমাণ।
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া): নদীভাঙন ও মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপ অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে একজন আইনজীবী ও তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেত্রীর তদারকি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। নারায়ণগঞ্জ-৪: দেশের অন্যতম প্রধান এই শিল্পাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতকরণে মাধবী মার্মার প্রশাসনিক দক্ষতা কাজে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংসদীয় কমিটির একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, সমতল ও পাহাড়ের মাঝে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতিশীলতা আনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং রাষ্ট্রীয় নীতিমালার সুষম বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতেই সরকারের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। অ্যাডভোকেট মাধবী মার্মা তাঁর মেধা ও আইনি অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এই দুই অঞ্চলের জনগণের অধিকার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
প্রতিবেদকের নাম 



















