Dhaka ০৭:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে অস্ত্রসহ পিতা-পুত্র আটক মানুষ ইলিশ খায় নাকি ইলিশ মানুষ খায় চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা হবে -জেলা প্রশাসক বাঁশখালীতে এনামুল হকের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, মশারি বিতরণ কৃষকরা দেশের শ্রেষ্ঠ মানুষ: রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তাসনিম জারার কাউনিয়া টেপামধুপুরে আশার শিক্ষা কর্মসূচি সঞ্জীবনী কর্মশালা হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে চাষ হবে না লালপুরে অনিয়মের দায়ে সার ডিলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা রাজশাহীতে মুদি দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা, দোকানে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের অভিযোগ

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তাসনিম জারার

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৬:০২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৩ সময় দেখুন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর লুটপাটের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডা. তাসনিম জারা। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ৫০ বছর ধরে এলাকার মানুষের আস্থার প্রতীক এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ধ্বংস করে দেওয়া হলেও স্বাস্থ্যকর্মীরা খোলা আকাশের নিচে শিশুদের টিকাদানসহ জরুরি সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ধ্বংসস্তূপ সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। তাসনিম জারা বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি শুধু টিকাদান নয়, প্রসূতি মা, গর্ভবতী নারী ও এলাকাবাসীর নানা ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। ভবন ভেঙে দেওয়ার পরও মায়েরা রোদের মধ্যে কষ্ট করে শিশুদের টিকা দিতে নিয়ে আসছেন, যা এই কেন্দ্রের প্রতি মানুষের আস্থারই প্রতিফলন। তবে ডিএমপি কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর চললেও পুলিশকে জানানো সত্ত্বেও কেন তা ঠেকানো গেল না এবং এমন পরিস্থিতিতে মানুষ কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ভরসা করবে।

আরও পড়ুনঃ  ষড়যন্ত্র ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে পাইথল ইউনিয়নবাসী ঐক্যবদ্ধ, হুঁশিয়ারি

 

তিনি বলেন, এটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দেশজুড়ে জমি, বাড়ি ও দোকান দখলের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে এবং অনেক অভিযোগ স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধেও রয়েছে। ক্ষমতায় আসার পর কেন স্থানীয় পর্যায়ে দখলের এমন প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরে তাসনিম জারা বলেন, ভাঙচুরে শিশুদের টিকাদানের রেজিস্টার খাতা, দুটি ট্যাব ও অফিসের ফোন হারিয়ে গেছে। আগে স্বাস্থ্যকর্মীরা রেজিস্টার দেখে অভিভাবকদের ফোন করে পরবর্তী টিকার সময় জানাতেন, এখন তারা নিজেদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সীমিতভাবে যোগাযোগ করছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, অনেক বাবা-মা টিকা কার্ড হারিয়ে ফেললে নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হতে পারে এবং এতে ভবিষ্যতে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়বে। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দ্রুত নতুন করে রেজিস্টার পুনর্গঠন ও প্রতিটি শিশুর টিকার তথ্য সংগ্রহে উদ্যোগ নিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  ধামইরহাটে যুবদলের সমাবেশ ও মিছিল

 

তিনি আরও বলেন, আগে শিশুরা ছায়াযুক্ত কক্ষে বসে টিকা নিলেও এখন খোলা রোদের মধ্যে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, ফলে অনেক অভিভাবক ভিড়ের কারণে ফিরে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে গর্ভবতী নারীদের আল্ট্রাসনোগ্রাফি, নিয়মিত চেকআপ ও কাউন্সেলিংয়ের মতো সেবাও বন্ধ রয়েছে। আমি ভবনটি ঘুরে দেখেছি। ভবনের কিছু কক্ষ এখনো ব্যবহারযোগ্য; প্রশাসন দ্রুত সেগুলো খুলে দিলে অন্তত মাতৃস্বাস্থ্যসেবাগুলো পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে তাসনিম জারা বলেন, সেবা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মপরিবেশও উন্নত করা জরুরি। বর্তমানে তারা ওয়াশরুম ব্যবহার ও খাবার খাওয়ার মতো ন্যূনতম সুবিধা থেকেও বঞ্চিত। তাই ব্যবহারযোগ্য কক্ষ দ্রুত খুলে দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা পুনরায় চালু এবং অন্তর্বর্তী সময়ে টিকাদান ও অন্যান্য সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  'নৈরাজ্যের'প্রতিবাদে পত্নীতলায় যুবদলের সমাবেশ ও মিছিল

 

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে অস্ত্রসহ পিতা-পুত্র আটক

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তাসনিম জারার

আপডেটের সময়: ০৬:০২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর লুটপাটের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডা. তাসনিম জারা। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ৫০ বছর ধরে এলাকার মানুষের আস্থার প্রতীক এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ধ্বংস করে দেওয়া হলেও স্বাস্থ্যকর্মীরা খোলা আকাশের নিচে শিশুদের টিকাদানসহ জরুরি সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ধ্বংসস্তূপ সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। তাসনিম জারা বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি শুধু টিকাদান নয়, প্রসূতি মা, গর্ভবতী নারী ও এলাকাবাসীর নানা ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। ভবন ভেঙে দেওয়ার পরও মায়েরা রোদের মধ্যে কষ্ট করে শিশুদের টিকা দিতে নিয়ে আসছেন, যা এই কেন্দ্রের প্রতি মানুষের আস্থারই প্রতিফলন। তবে ডিএমপি কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর চললেও পুলিশকে জানানো সত্ত্বেও কেন তা ঠেকানো গেল না এবং এমন পরিস্থিতিতে মানুষ কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ভরসা করবে।

আরও পড়ুনঃ  রাজনৈতিক সমালোচনা কঠোর হোক, কিন্তু ভাষা যেন শালীন হয়: রিজভী

 

তিনি বলেন, এটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দেশজুড়ে জমি, বাড়ি ও দোকান দখলের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে এবং অনেক অভিযোগ স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধেও রয়েছে। ক্ষমতায় আসার পর কেন স্থানীয় পর্যায়ে দখলের এমন প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরে তাসনিম জারা বলেন, ভাঙচুরে শিশুদের টিকাদানের রেজিস্টার খাতা, দুটি ট্যাব ও অফিসের ফোন হারিয়ে গেছে। আগে স্বাস্থ্যকর্মীরা রেজিস্টার দেখে অভিভাবকদের ফোন করে পরবর্তী টিকার সময় জানাতেন, এখন তারা নিজেদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সীমিতভাবে যোগাযোগ করছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, অনেক বাবা-মা টিকা কার্ড হারিয়ে ফেললে নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হতে পারে এবং এতে ভবিষ্যতে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়বে। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দ্রুত নতুন করে রেজিস্টার পুনর্গঠন ও প্রতিটি শিশুর টিকার তথ্য সংগ্রহে উদ্যোগ নিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  নবাবগঞ্জের শালখুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা

 

তিনি আরও বলেন, আগে শিশুরা ছায়াযুক্ত কক্ষে বসে টিকা নিলেও এখন খোলা রোদের মধ্যে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, ফলে অনেক অভিভাবক ভিড়ের কারণে ফিরে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে গর্ভবতী নারীদের আল্ট্রাসনোগ্রাফি, নিয়মিত চেকআপ ও কাউন্সেলিংয়ের মতো সেবাও বন্ধ রয়েছে। আমি ভবনটি ঘুরে দেখেছি। ভবনের কিছু কক্ষ এখনো ব্যবহারযোগ্য; প্রশাসন দ্রুত সেগুলো খুলে দিলে অন্তত মাতৃস্বাস্থ্যসেবাগুলো পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে তাসনিম জারা বলেন, সেবা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মপরিবেশও উন্নত করা জরুরি। বর্তমানে তারা ওয়াশরুম ব্যবহার ও খাবার খাওয়ার মতো ন্যূনতম সুবিধা থেকেও বঞ্চিত। তাই ব্যবহারযোগ্য কক্ষ দ্রুত খুলে দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা পুনরায় চালু এবং অন্তর্বর্তী সময়ে টিকাদান ও অন্যান্য সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  ধামইরহাটে যুবদলের সমাবেশ ও মিছিল