
অপু দাস, রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহী মহানগরীতে আবদুল বারী (৪০) নামে এক মুদি দোকানিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় তার দোকানে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে নগরীর রাজপাড়া থানার বাকির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবদুল বারী ওই এলাকার বদরুল সরকারের ছেলে। স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার পর চণ্ডীপুর এলাকার কয়েকজন যুবক বাকির মোড় এলাকায় আসেন। একপর্যায়ে তারা আবদুল বারীর মুদি দোকানে গিয়ে টাকা ভাঙানোর জন্য বলেন। তবে বারী টাকা ভাঙাতে রাজি না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি একপর্যায়ে হাতাহাতিতে গড়ায়।
স্বজনদের অভিযোগ, ওই ঘটনার জের ধরে রাত পৌনে ২টার দিকে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও পেট্রলবোমা নিয়ে আবদুল বারীর দোকানের সামনে এসে জড়ো হয়। পরে তারা দোকানের শাটারের তালা ভেঙে ভেতরে পেট্রলবোমা ছুড়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দোকানে আগুন লাগার পর আবদুল বারীসহ তার পরিবারের সদস্যরা দ্রুত দোকান থেকে বাইরে বের হয়ে আসেন। এ সময় হামলাকারীরা বারীর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা আহত বারীকে দ্রুত উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক আবদুল বারীকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে রাজপাড়া থানা পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে। তবে রোববার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে। নিহতের মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার পাওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলায় কারা জড়িত ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 


















