
তৌহিদ-উল বারী,বাঁশখালী প্রতিনিধি চট্টগ্রাম: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। জনগণের সমর্থন থাকলে আমরা জনগণের স্বার্থে যত কর্মসূচি সব বাস্তবায়নে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ। আজকের এই জনসভায় আমরা যেভাবে দুস্থ মানুষকে সহযোগিতা করেছি, সাহায্য দিয়েছি তা আমরা পরিবর্তন করতে চাই কর্মসংস্থানের মাধ্যমে। সেটি দেশের ভেতরে হোক, সেটি আমাদের তরুণ সমাজের সদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিদেশি প্রেরণ করে হোক না কেন। আমরা চাই ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে চাই। যাতে প্রত্যেকটি মানুষ দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে, নিজের হাতের পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চায়। আমাদের কাজ করতে হবে। ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। মিল কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে আমাদের কর্মসংস্থান ও শিল্পের বিপ্লব ঘটাতে হবে। আজ রোববার (৯ আগস্ট) বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রপাড়ে জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়দিন আগে বন্যা হলো অতিবৃষ্টির কারণে। এই বন্যায় বহু মানুষের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে। আল্লাহর রহমতে ১০০ বাড়ির চাবি তুলে দিতে পারছি। কিছু দুস্থ মহিলাকে আমরা চাল দিয়ে সহযোগিতা করেছি। বর্তমান সরকারকে আপনারা নির্বাচিত করেছেন, এ বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচিত করেছে। এ সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এ দেশের মানুষের পাশে থাকা, সুখে দুঃখে থাকা, মা-বোনদের পাশে থাকা, সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, তরুণ সমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। এ জন্যই নির্বাচনের সময় আমরা বলেছিলাম, বিএনপি যদি আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের মানুষের ভোটে সরকার গঠনে সক্ষম হয় তাহলে আমরা মূল কয়েকটি কাজে হাত দেব। তার মধ্যে একটি কাজ ছিল এদেশের মায়েদের সহযোগিতার জন্য, এদেশের নারীরা যাতে স্বাবলম্বী হতে পারে সে জন্য আমরা বলেছিলাম ফ্যামিলি কার্ড ঘরে ঘরে পৌঁছাব। যেটি আমির খসরু সাহেব উনার বক্তব্যে বলেছেন। আপনারা দেখেছেন, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই আমরা সেই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রজেক্টের কাজে হাত দিয়েছিলাম এবং আল্লাহর রহমতে পাইলট প্রজেক্টের কাজ শেষ হয়ে গেছে। এ মাসের ১৬ তারিখ থেকে আমরা ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু করছি। সমগ্র দেশে এ বছর প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেব। এ উপজেলার মধ্যে ১০-১২ হাজার পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড আগামী অর্থবছরের মধ্যে তুলে দেব এবং আগামী চার বছর ধরে এটি চলবে। আরও অনেক মা-বোনেরা ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন। আমাদের লক্ষ্য ছিল ভাইদের পাশাপাশি যাতে বোনেরাও সংসারের হাল ধরতে পারে। একটি স্বাবলম্বী পরিবার গড়ে তুলতে পারে, সন্তানদের লেখাপড়া করাতে পারে, স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারে। সেই জন্য মা’দের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য এ ব্যবস্থা করছি। ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষক কার্ডেরও ব্যবস্থাও করেছি।
তিনি বলেন, আলোচনা করে আমরা লবণের মূল্য নির্ধারণ করেছি। যে মূল্য পেলে লবণচাষি ভাইদের স্বাবলম্বিতা, অর্থনৈতিকভাবে তারা সচ্ছল হবে আস্তে আস্তে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে আমরা সেই দামটি সকলকে জানিয়ে দেব। যার ফলে লবণচাষি ভাইদের আগের মতো কষ্ট পোহাতে হবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমি মাতারবাড়ী গিয়েছিলাম, মাতারবাড়ীতে পুরো দেখে আসলাম। মীরসরাই থেকে শুরু করে সমগ্র অঞ্চল হেলিকপ্টারে আমি দেখেছি। কেন দেখেছি? কারণ এই যে আমাদের সামনে বিশাল সমুদ্র, এটি হচ্ছে বাংলাদেশের সম্পদ। এই সমুদ্রের মালিক হচ্ছে এই বাংলাদেশের জনগণ। এই সমুদ্রকে কীভাবে ব্যবহার করে বাংলাদেশের মানুষের জীবন ব্যবস্থা উন্নত করা যায়, কীভাবে আমরা মীরসরাই থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত বিভিন্ন মিল ফ্যাক্টরি স্থাপন করার মাধ্যমে এদেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারব, ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যবস্থা করতে পারব সেই পরিকল্পনা কীভাবে গ্রহণ করা যায় তার জন্য আজ মাতারবাড়ী গিয়েছিলাম। কয়েকদিন আগে আপনারা দেখেছেন, চট্টগ্রামে চায়নাকে বিরাট একটা জায়গা দিয়েছি। চায়না থেকে আমি ঘুরে এসেছি। তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। সেখানে তাঁরা কয়েকশ’ মিল কারখানা তৈরি করবে। সমগ্র চট্টগ্রামের মানুষ ইনশাআল্লাহ সেখানে কাজ করার সুযোগ পাবে। তার ফলে একদিকে বেকার সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে, একই সাথে বহু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করব। সেই মুদ্রা দিয়ে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করব, বাংলাদেশের মানুষের শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলব, স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তুলব। উপজেলা পর্যায়ে ৫০ বেডের হাসপাতালের ৩০ বেড করে গিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া ২০ বেড যোগ করেছিলেন। বিএনপি সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, ৫০৩টি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ বেডে উন্নীত করব ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, এ দেশের মানুষের জন্য যদি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হয়। এর জন্য যদি দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারী যাঁরা আছে তাঁদের উৎসাহিত করে মিল ফ্যাক্টরি স্থাপন করতে হয় তাহলে তার পূর্বশর্ত হচ্ছে দেশে শান্তি শৃঙ্খলা থাকতে হবে। দেশে বিশৃঙ্খলা থাকলে চলবে না। আপনার এলাকায় বাজারে কোনো গণ্ডগোল হলে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। কারণ গণ্ডগোলে যাতে ব্যবসার ক্ষতি না হয়। ঠিক একই ভাবে বিনিয়োগকারীরা তো চাইবে, যাতে তাঁর উৎপাদিত পণ্য ঠিকভাবে বন্দর দিয়ে যেতে পারে বা তাঁর কাঁচামাল যাতে সঠিকভাবে আসতে পারে রাস্তাঘাটে যাতে শান্তি থাকে। যদি মিল কারখানা না চলে সঠিকভাবে তাহলে কি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব? সম্ভব না। সেই জন্য আমাদের সচেতন থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। যারা শান্তি শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায় তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। যদি দেশের সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা তৈরি করতে হয়, স্কুল কলেজ সুন্দরভাবে তৈরি করতে হয়, শিক্ষকদের যদি ট্রেনিং দিতে হয়, ছাত্রছাত্রীদের যদি নতুন করে বই দিতে হয় তাহলে আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে হবে। একইভাবে সতর্ক থাকতে হবে বিভ্রান্তকারীরা যাতে সুযোগ না পায়, কারণ যদি বিভ্রান্ত করার সুযোগ পায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণ। বিভ্রান্তকারীরা নিজেদের মতোন করে চলে যাবে। তারা তো জনগণের সাথে থাকবে না। তাই আজ আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আজ বাংলাদেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কি আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব নাকি আমরা ঝগড়া ফ্যাসাদে লিপ্ত থাকব? নাকি আমরা বিভ্রান্তকারীদের সাথে থাকব? এ ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আগামী ১০ বছরের জন্য বাংলাদেশের জ্বালানি পরিকল্পনা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কী হবে সেই প্রস্তাবনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীনতার ৫০ বছরের বেশি সময় পেরিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন জনগণের জন্য কাজ করার সময়। এখন দেশ গঠনের জন্য কাজ করার সময়। পৃথিবীর বহু দেশ আমাদের পরে স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু তারা কাজ করার মাধ্যমে, পরিশ্রম করার মাধ্যমে তাদের দেশকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। কাজেই আর পেছনে তাকানো যাবে না। আর পেছনে পড়ে থাকা যাবে না। এখন একটিই লক্ষ্য জনগণের জীবনমান উন্নত করা, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। সমাবেশে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেন মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা আবদুল করিম।
প্রতিবেদকের নাম 




















