
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট-এর ৩৬তম বার্ষিক সভা শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা ১১টায় চবি ড. এ.আর. মল্লিক ভবনে (প্রশাসনিক ভবন) উপাচার্য দপ্তরের সভাকক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্বব্যিালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। চবি উপাচার্য তাঁর লিখিত বক্তব্যের শুরুতে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন সেইসব বীর শহীদদের যাঁদের নিরন্তর সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আজকের স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ১৯৯০ এর গণআন্দোলনে শহীদ সকলের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন উপাচার্য। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ এর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারকারী শহীদদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন উপাচার্য। চবি উপাচার্য শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। তিনি আরও স্মরণ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, যাঁদের শ্রমে, ঘামে এবং নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণাকর্ম ও ভৌত অবকাঠামো ক্রমশ পরিব্যপ্ত হয়েছে। জ্ঞানের আলোকসঞ্চারী সেইসব কীর্তিমান ব্যক্তিদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা নিবেদন করেন।
চবি উপাচার্য বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর অর্ধশতাব্দীরও অধিক ব্যবধানে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার অগণিত প্রাণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পুনর্জাগরণ ঘটেছে। ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠন করে। নির্বাচিত সরকারের সুবিবেচনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার গুরুদায়িত্ব অর্পণ করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। এর পাশাপাশি স্মরণ করছি জুলাই বিপ্লবে আত্মাহুতি দেয়া অগ্রনেতা শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ ওয়াসিম আকরামকে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার থেকে জুলাই বিপ্লবে সম্পৃক্ত হয়ে অকালে ঝরে যাওয়া সম্ভাবনাময় দু’জন তরুণ শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়া ও শহীদ ফরহাদ হোসেনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি এবং তাঁদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকাকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। দেশের সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবেলায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে গিয়ে পঙ্গুত্ব বরণকারী ও আঘাত প্রাপ্ত সকল ছাত্র-জনতার প্রতি আমার সহমর্মিতা সবসময় অটুট থাকবে। দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সবসময়ই জনগণের আশা আকাঙ্খার অনুকূলে অবস্থান নিয়েছে। উদ্ভূত সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও নিরলসভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আমার বিশ্বাস বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আপনাদের এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে সক্ষম হবো। সিনেট সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, চবির উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম। সভায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ৪৮৯ কোটি ৯৯ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকার সংশোধিত এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের ৫০৩ কোটি ৪৭ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকার মূল বাজেট উপস্থাপন করেন চ.বি. রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ হাছান মিয়া। সিনেট সভায় এ বাজেট অনুমোদিত হয়।
চবি উপাচার্যের ভাষণ ও বাজেটের ওপর প্রাণবন্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন চবি সম্মানিত সিনেট সদস্য সাংসদ সরওয়ার জামাল নিজাম (চট্টগ্রাম-১৩ আসন), এরশাদ উল্লাহ (চট্টগ্রাম-৮ আসন), গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৬ আসন) ও সাঈদ আল নোমান (চট্টগ্রাম-১০ আসন)। এছাড়া সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান (চট্টগ্রাম-৯) উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্য সিনেট সদস্যদের মধ্যে আলোচনা করেন ড. মোহাম্মদ মনজুর-উল-আমিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. জাহিদা শুলশান, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. নিলুফা আকতার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. প্রীথিলা নাজনীন নীলিমা, রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট এস.এম ফজলুল হক, জনাব শ. ম. নজরুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. এম. আবদুল গফুর, প্রফেসর জমির উদ্দিন আহমদ, অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর মনসুর উদ্দিন আহমদ ও মোহাম্মদ রেজাউল কবির। সিনেট সভায় সম্মানিত সিনেটরবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। সিনেট সভার শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এরপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ করা হয়। এরপর গত সিনেট সভার পর থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্য ও দেশবরেণ্য বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব পেশ করা হয়। এরপর দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ সকল শহীদদের স্মরণে এক নীরবতা পালন এবং দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
প্রতিবেদকের নাম 


















