
তৌহিদ-উল বারী, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিষ্ঠানভেদে পাসের হারে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। উপজেলার ২৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিশ্লেষণে সর্বোচ্চ পাসের হার অর্জন করেছে বাঁশখালী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৭৯ দশমিক ০৭ শতাংশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী, বাঁশখালী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মোট ১২৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১০২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানে ৩৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। পাসের হারের দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটি উপজেলায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নাটমুড়া পুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ৭২ দশমিক ০৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। মোট ২৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৭০ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন।
রায়ছটা প্রেমাশিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ৭১ দশমিক ৭৭ শতাংশ পাসের হার নিয়ে রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে। প্রতিষ্ঠানটির ১২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন।
এ ছাড়া সাধনপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ, কালিপুর অগ্রাহরণ হক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ, হাজীগাঁও বরুমছড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬৭ দশমিক ০৯ শতাংশ এবং পুঁইছড়ি ইজ্জতিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
অন্যদিকে, ফলাফলে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বি.বি. চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার মাত্র ১৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ৬৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৯ জন এবং কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। এর পরের অবস্থানে রয়েছে কামাল উদ্দিন চৌধুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, যার পাসের হার ২৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।
ফলাফল বিবরণীতে দেখা যায়, মোনায়েম শাহ আউলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ৫১ দশমিক ২২ শতাংশ, বাঁশখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৪৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ, ছনুয়া কারদেয়া উচ্চ বিদ্যালয় ৪৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, বাঁশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ৪৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং চাম্বল উচ্চ বিদ্যালয় ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ পাসের হার অর্জন করেছে।
এদিকে জিপিএ-৫ অর্জনের দিক থেকেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। বাঁশখালী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৬ জন, বাঁশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৩ জন, নাপোড়া শেখেরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৬ জন, কালিপুর অগ্রাহরণ হক উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৪ জন এবং বৈলছড়ি নজুমুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
বাঁশখালী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ওমর ফারুক বলেন, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় আমাদের শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক-অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং শিক্ষকদের আন্তরিক পরিশ্রমের ফলেই এ সাফল্য এসেছে। এসএসসির পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাতেও আমাদের প্রতিষ্ঠান ভালো ফলাফল করেছে, যা আমাদের জন্য আরও আনন্দের বিষয়। আমরা শুধু পরীক্ষার ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছি। ভবিষ্যতে ফলাফল আরও ভালো করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধিতেও আমরা কাজ করে যাব।
সামগ্রিকভাবে বাঁশখালীর এসএসসি ফলাফলে একদিকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখা গেলেও অন্যদিকে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে রয়েছে। ফলে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, পাঠদান পদ্ধতি ও নিয়মিত মূল্যায়নের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার দাবি রাখে।
প্রতিবেদকের নাম 



















