Dhaka ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
এই সংসদের মূল্য দুই আনাও নেই ৫ বছর টিকবে কি না সন্দেহ: নাহিদ ইসলাম ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি সাংবাদিক মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের ইন্তেকাল চট্টগ্রামে অন্যতম শীর্ষ সস্ত্রাসী’ তালিকাভুক্ত বগার ৪ সহযোগী গ্রেপ্তার বাগাতিপাড়ায় বড়াল নদীতে অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ: জাল ও সরঞ্জাম আগুন দিয়ে ধ্বংস পঙ্গু সিএনজি চালকের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন বিসিবি পরিচালক আসিফ রব্বানী নগরকান্দায় ৪৪ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার ইয়াকুবপুর শিক্ষা উন্নয়ন বৃত্তি ফাউন্ডেশন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত চরণদ্বীপ দরবারে মাইজভান্ডারী কাফেলার শুভাগমন লালপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৪ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার ফুটপাতে দোকান বসালেই মালামাল ক্রোক, মামলা: (ডিএসসিসি) প্রশাসক

নীলফামারীতে অগ্নেয়াস্ত্র হাতে পুলিশের পোশাকে ছবি প্রচার: গ্রামপুলিশ মিনহাজের বিরুদ্ধে পরিচয় বিভ্রান্তি ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

রাব্বি রহমান নীলফামারী

নীলফামারী সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মোঃ মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ মানে সাহস ক্যাপশনে অগ্নেয়াস্ত্র হাতে পুলিশের পোশাক পরিহিত নিজের ছবি প্রচার করাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য, উদ্বেগ ও জনমনে বিভ্রান্তি। সম্প্রতি মিনহাজের একাধিক ছবি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিগুলোতে তাকে পুলিশের ইউনিফর্ম সদৃশ পোশাক পরিহিত এবং অস্ত্র হাতে দেখা যায়। অভিযোগ উঠেছে, এসব ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব ছবির মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রকৃত পুলিশ সদস্য হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন, যা সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। জানা যায়, তিনি নিজেকে এসপি পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এখন অনেকের কাছে তিনি এসপি মিনহাজ নামে পরিচিত। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মিনহাজ বিভিন্ন সময় নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ও ভাবমূর্তি ব্যবহার করার চেষ্টা করেন। একজন গ্রাম পুলিশ হিসেবে তিনি স্থানীয় প্রশাসনিক সহায়ক দায়িত্ব পালন করলেও তিনি বাংলাদেশ পুলিশ-এর নিয়মিত সদস্য নন। ফলে পুলিশের পোশাক, প্রতীক কিংবা পরিচয়ের অনুকরণে প্রচারণা চালানো জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করছে এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মর্যাদাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,কোনো ব্যক্তি যদি নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা বা পুলিশের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন কিংবা সে ধরনের বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেন, তাহলে তা বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৭০ ধারার আওতায় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। উক্ত ধারায় সরকারি কর্মচারীর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, প্রতারণা বা আর্থিক সুবিধা গ্রহণের চেষ্টা করা হলে দণ্ডবিধির ৪১৯ ধারায় প্রতারণামূলক ছদ্মবেশ গ্রহণ এবং ৪২০ ধারায় প্রতারণার মাধ্যমে সুবিধা আদায়ের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন এ ধরনের কর্মকাণ্ড সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ অনুযায়ী ডিজিটাল প্রতারণা, মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অভিযোগে তদন্তের আওতায় আসতে পারে।এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  মাদক ও অস্ত্র প্রবেশ রোধে ব্যর্থ বর্তমান সরকার:  দাবি বিরোধীদলীয় নেতা ডা.শফিকুর রহমানের
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

এই সংসদের মূল্য দুই আনাও নেই ৫ বছর টিকবে কি না সন্দেহ: নাহিদ ইসলাম

নীলফামারীতে অগ্নেয়াস্ত্র হাতে পুলিশের পোশাকে ছবি প্রচার: গ্রামপুলিশ মিনহাজের বিরুদ্ধে পরিচয় বিভ্রান্তি ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০৩:৪২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

রাব্বি রহমান নীলফামারী

নীলফামারী সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মোঃ মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ মানে সাহস ক্যাপশনে অগ্নেয়াস্ত্র হাতে পুলিশের পোশাক পরিহিত নিজের ছবি প্রচার করাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য, উদ্বেগ ও জনমনে বিভ্রান্তি। সম্প্রতি মিনহাজের একাধিক ছবি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিগুলোতে তাকে পুলিশের ইউনিফর্ম সদৃশ পোশাক পরিহিত এবং অস্ত্র হাতে দেখা যায়। অভিযোগ উঠেছে, এসব ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব ছবির মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রকৃত পুলিশ সদস্য হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন, যা সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। জানা যায়, তিনি নিজেকে এসপি পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এখন অনেকের কাছে তিনি এসপি মিনহাজ নামে পরিচিত। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মিনহাজ বিভিন্ন সময় নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ও ভাবমূর্তি ব্যবহার করার চেষ্টা করেন। একজন গ্রাম পুলিশ হিসেবে তিনি স্থানীয় প্রশাসনিক সহায়ক দায়িত্ব পালন করলেও তিনি বাংলাদেশ পুলিশ-এর নিয়মিত সদস্য নন। ফলে পুলিশের পোশাক, প্রতীক কিংবা পরিচয়ের অনুকরণে প্রচারণা চালানো জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করছে এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মর্যাদাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,কোনো ব্যক্তি যদি নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা বা পুলিশের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন কিংবা সে ধরনের বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেন, তাহলে তা বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৭০ ধারার আওতায় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। উক্ত ধারায় সরকারি কর্মচারীর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, প্রতারণা বা আর্থিক সুবিধা গ্রহণের চেষ্টা করা হলে দণ্ডবিধির ৪১৯ ধারায় প্রতারণামূলক ছদ্মবেশ গ্রহণ এবং ৪২০ ধারায় প্রতারণার মাধ্যমে সুবিধা আদায়ের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন এ ধরনের কর্মকাণ্ড সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ অনুযায়ী ডিজিটাল প্রতারণা, মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অভিযোগে তদন্তের আওতায় আসতে পারে।এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি সাংবাদিক মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের ইন্তেকাল