
জিএম মাকছুদুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকার মোহনা আবাসিক এলাকায় এক বর্বরোচিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৮ আগস্ট) নিজ বাসায় ভাড়াটিয়ার হাতে ফরিদা ইয়াছমিন (৫০) নামের এক গৃহকর্ত্রী খুন হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের আলামত গোপন করতে ঘাতক ভাড়াটিয়া ওই নারীর মরদেহ কেটে ৯ টুকরো করে পলিথিনে মুড়িয়ে বাড়ির পেছনের গলিতে ফেলে দেয়। শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় জনতা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত নারী ভাড়াটিয়াকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যার দিকে মোহনা আবাসিক এলাকার ওই বাড়ির পেছনের গলিতে পলিথিনে মোড়ানো সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পান বাসিন্দারা। পরে পলিথিন খুলে খণ্ড-বিখণ্ড মানবদেহের অংশ দেখতে পেয়ে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ সময় ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে অভিযুক্ত নারী ভাড়াটিয়া পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজিত স্থানীয় জনতা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে থানায় খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে দেবিদ্বার থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের টুকরো মরদেহ উদ্ধার করে। আটককৃত নারী ভাড়াটিয়াকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের ধাওয়া ও ক্ষোভের মুখে পড়ে ওই নারী অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আটককৃত অভিযুক্ত ভাড়াটিয়া নারী দেবিদ্বার উপজেলার চাপানগর গ্রামের বাসিন্দা লাইলি আক্তার (৩৮)। তিনি মাত্র ১৩-১৪ দিন আগে ওই বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন। এদিকে বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থল ও দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। বিক্ষুব্ধ জনতা এ সময় ঘাতকের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থল থেকে খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে পা এবং মাথা উদ্ধার করা এখনো সম্ভব হয়নি। এবং অভিযুক্ত নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনগত ব্যবস্থার জন্য আটক করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত লাইলিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চারজনের নাম উল্লেখ করেছে। হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ও রহস্য উদঘাটনে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 


















