Dhaka ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ৭ মাসের পরোয়ানাভুক্ত মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের মূল হোতা ‘মালা ভাবি’ গ্রেপ্তার ভাঙ্গুড়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক ব্যবহারে কৃষক অসুস্থ টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে ডিসির বিভিন্ন দপ্তর, বিদ্যালয় ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন ধুনট উপজেলা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ফরিদগঞ্জে নারিকেল গাছের ডাল কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বৃদ্ধার মৃত্যু পদ্মায় মা ইলিশ শিকারের দায়ে ৩ জেলের কারাদণ্ড, এক লাখ মিটার কারেন্ট জাল ধ্বংস ধামইরহাটে প্রশাসনকে ব্যবহার করে দলীয়করণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কাউনিয়ায় তেজপাতা চাষে বদলাচ্ছে কৃষকের অর্থনৈতিক চিত্র সিলেটে ইয়াবাসহ মাদক কারবারী আটক সিলেটে পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে যুবক খুন, আটক ১

জুলাই জাদুঘর নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণার কেন্দ্র : ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর শুধু অতীতের স্মৃতি সংরক্ষণের স্থান নয়, এটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রেরণার কেন্দ্র। এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন পথচলার অনুপ্রেরণা দেবে। আজ বুধবার (৫আগস্ট) রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ড. ইউনূস বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের জাদুঘর থাকলেও জুলাই জাদুঘরের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন। গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাগুলো ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট দলিল, নিদর্শন, স্মারক ও মানুষের অনুভূতি সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইতিহাস সংরক্ষণের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা পথ হারিয়ে ফেললে এই জাদুঘরে এসে পথ খুঁজে নেব। আমাদের চিন্তায় গাফিলতি এলে এখান থেকেই আবার নতুন করে যাত্রা শুরু করব। জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, অনেকেই কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই নিজের অনুভূতি লিখে গেছেন। পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে কেন রাজপথে নেমেছিলেন, সেটিও চিঠিতে তুলে ধরেছেন। এসব দলিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নতুন বাংলাদেশ গঠনে অনুপ্রাণিত করবে। দেশের প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একবার জাদুঘরটি পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণদের শুধু ইতিহাস দেখেই ফিরে না গিয়ে নিজেদের স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও এখানে লিপিবদ্ধ করা উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে জুলাই জাদুঘর দেশের সংস্কৃতি, শিল্প, সংগীত, চিত্রকলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে এবং দেশের সাংস্কৃতিক চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

আরও পড়ুনঃ  এক মহল্লায় তিন মেয়র প্রার্থী নিয়ে গ্যাঁড়াকলে সমর্থকরা

জাদুঘরে নির্মিত প্রতীকী কবরগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিটি শহীদের পরিচয় ও আত্মত্যাগের ইতিহাস সেখানে সংরক্ষিত থাকবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারে তারা কীভাবে এবং কেন জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ড. ইউনূস আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদরা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মী ছিলেন না; তারা ছিলেন সাধারণ পরিবারের সাধারণ ছেলে-মেয়ে, যারা একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন। জাদুঘর নির্মাণে সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রতিটি নিদর্শন সংগ্রহে দীর্ঘ সময়, শ্রম ও নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। সেই প্রচেষ্টার ফলেই জাতির সামনে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে। বক্তব্যের শেষে তিনি জাদুঘর নির্মাণ ও উদ্বোধনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দেশের মানুষ যেন পরিবার-পরিজন নিয়ে অন্তত একবার এই জাদুঘরে যান—শুধু দেখার জন্য নয়, বরং ভাবার জন্য যে কেন এই গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল এবং সেখান থেকে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কোন পথে এগিয়ে যাবে।

আরও পড়ুনঃ  ঈশ্বরদীতে স্টপেজ পাবে ঢাকা-পাবনা ট্রেন, নির্মিত হবে নতুন হার্ডিঞ্জ ব্রিজ: রেল সচিব
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ৭ মাসের পরোয়ানাভুক্ত মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের মূল হোতা ‘মালা ভাবি’ গ্রেপ্তার

জুলাই জাদুঘর নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণার কেন্দ্র : ড. ইউনূস

আপডেটের সময়: ০৫:০৮:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর শুধু অতীতের স্মৃতি সংরক্ষণের স্থান নয়, এটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রেরণার কেন্দ্র। এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন পথচলার অনুপ্রেরণা দেবে। আজ বুধবার (৫আগস্ট) রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ড. ইউনূস বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের জাদুঘর থাকলেও জুলাই জাদুঘরের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন। গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাগুলো ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট দলিল, নিদর্শন, স্মারক ও মানুষের অনুভূতি সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইতিহাস সংরক্ষণের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা পথ হারিয়ে ফেললে এই জাদুঘরে এসে পথ খুঁজে নেব। আমাদের চিন্তায় গাফিলতি এলে এখান থেকেই আবার নতুন করে যাত্রা শুরু করব। জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, অনেকেই কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই নিজের অনুভূতি লিখে গেছেন। পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে কেন রাজপথে নেমেছিলেন, সেটিও চিঠিতে তুলে ধরেছেন। এসব দলিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নতুন বাংলাদেশ গঠনে অনুপ্রাণিত করবে। দেশের প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একবার জাদুঘরটি পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণদের শুধু ইতিহাস দেখেই ফিরে না গিয়ে নিজেদের স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও এখানে লিপিবদ্ধ করা উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে জুলাই জাদুঘর দেশের সংস্কৃতি, শিল্প, সংগীত, চিত্রকলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে এবং দেশের সাংস্কৃতিক চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

আরও পড়ুনঃ  জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে বিরোধী দল ধোঁকাবাজি করেছে- প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি  ‎ ‎

জাদুঘরে নির্মিত প্রতীকী কবরগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিটি শহীদের পরিচয় ও আত্মত্যাগের ইতিহাস সেখানে সংরক্ষিত থাকবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারে তারা কীভাবে এবং কেন জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ড. ইউনূস আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদরা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মী ছিলেন না; তারা ছিলেন সাধারণ পরিবারের সাধারণ ছেলে-মেয়ে, যারা একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন। জাদুঘর নির্মাণে সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রতিটি নিদর্শন সংগ্রহে দীর্ঘ সময়, শ্রম ও নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। সেই প্রচেষ্টার ফলেই জাতির সামনে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে। বক্তব্যের শেষে তিনি জাদুঘর নির্মাণ ও উদ্বোধনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দেশের মানুষ যেন পরিবার-পরিজন নিয়ে অন্তত একবার এই জাদুঘরে যান—শুধু দেখার জন্য নয়, বরং ভাবার জন্য যে কেন এই গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল এবং সেখান থেকে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কোন পথে এগিয়ে যাবে।

আরও পড়ুনঃ  এক মহল্লায় তিন মেয়র প্রার্থী নিয়ে গ্যাঁড়াকলে সমর্থকরা