Dhaka ০৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
‎গাজীপুরে তেল উৎপাদনকারী কারখানায় আগুন, আধ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন দাবিতে কাউনিয়ায় মানববন্ধন রাঙ্গুনিয়ায় পার্টনার প্রকল্পের কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, কৃষকদের মাঝে বীজ-সার ও গাছের চারা বিতরণ মুরাদনগরের কোম্পানীগঞ্জে মাংস ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়: প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন মাদকবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল হালুয়াঘাট: মাদকের বিরুদ্ধে ১৩ সংগঠনের হুঙ্কার ঘোড়াঘাটে গ্রামীণ নারীদের সেলাই ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণের উদ্বোধন আজ কবি রুদ্রের ৩৫তম মুত্যুবার্ষীকি রাস্তার বেহাল দশায় ক্ষোভে ফুঁসছে কুমারখালীবাসী, দেখার যেন কেউ নেই ​কারওয়ান বাজার ও বাংলামোটরের এআই ট্রাফিক ক্যামেরা বন্ধের গুজব ভিত্তিহীন: ডিএমপি মাদারগঞ্জে কাগজপত্র যাচাই করে, প্রায় ১ কিলোমিটার সরকারি রাস্তার জমি উদ্ধার।

আজ কবি রুদ্রের ৩৫তম মুত্যুবার্ষীকি

শেখ রাফসান, মোংলা প্রতিনিধিঃ

তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’র আজ(রবিবার) ৩৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী। বাংলাদেশের কবিতায় অবিসস্মরণীয় এই কবির শিল্পমগ্ন উচ্চারণ তাকে দিয়েছে সত্তরের অন্যতম কবি-স্বীকৃতি। ১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি মারা যান। মৃত্যুর দীর্ঘ ৩৩ বছর পর ২০২৪ সালে কবি একুশে পদকে ভূষিত হন।

দিনটির স্মরণে রুদ্র স্মৃতি সংসদ, মিঠেখালি আজ কবির গ্রামের বাড়ি মোংলার মিঠেখালিতে সকাল ৯টায় শোভাযাত্রা সহকারে সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল এবং দোয়ার আয়োজন করেছে। সকাল ১০টায় মিঠেখালী রুদ্রের বাড়িতে স্মরনসভার আয়োজন করা হয়েছে। স্মরনসভা শেষে রুদ্রের কবিতা ও গান পরিবেশিত হবে।

আরও পড়ুনঃ  “আনন্দের মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষা, শিক্ষার মাধ্যমে আলোকিত ভবিষ্যৎ গঠনে চট্টগ্রাম মডেল স্কুল

অকাল প্রয়াত এই কবি তার কাব্যযাত্রায় যুগপৎ ধারণ করেছেন দ্রোহ ও প্রেম, স্বপ্ন ও সংগ্রামের শিল্পভাষ্য। ‘জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরোনো শকুন’ এই নির্মম সত্য অবলোকনের পাশাপাশি ততোধিক স্পর্ধায় তিনি উচ্চারণ করেছেন ‘ভুল মানুষের কাছে নতজানু নই’। যাবতীয় অসাম্য, শোষণ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অনমনীয় অবস্থান তাঁকে পরিণত করেছে ‘তারুণ্যের দীপ্ত প্রতীক’-এ। একই সঙ্গে তাঁর কাব্যের আরেক প্রান্তর জুড়ে রয়েছে স্বপ্ন, প্রেম ও সুন্দরের মগ্নতা। দেশ ও জাতির সংকটে রুদ্রের কবিতা হয়ে উঠেছে তারুণ্যের হাতিয়ার।

মাত্র ৩৫ বছরের (১৯৫৬-১৯৯১) স্বল্পায়ু জীবনে তিনি সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য এবং ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ সহ অর্ধ শতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন। পরবর্তীকালে এ গানটির জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি প্রদত্ত ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন।‘উপদ্রুত উপকূল’ ও ‘ফিরে চাই স্বর্নগ্রাম’ কাব্যগ্রন্থ দুটির জন্য ‘সংস্কৃতি সংসদ’ থেকে পরপর দু’বছর ‘মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করেন।

আরও পড়ুনঃ  ঈদগাঁও বাজারে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য: ডিসি সড়কে জনদুর্ভোগ চরমে

প্রসঙ্গত, মাত্র ৩৫ বছরের নাতিদীর্ঘ জীবন-সীমায় রুদ্র রচনা করেন সাতটি কাব্যগ্রন্থ-‘উপদ্রুত উপকূল’ (১৯৭৯), ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’ (১৯৮১), ‘মানুষের মানচিত্র’(১৯৮৪), ‘ছোবল’ (১৯৮৭), ‘গল্প’ (১৯৮৭) ‘দিয়েছিলে সকল আকাশ’ (১৯৮৮) এবং ‘মৌলিক মুখোশ’(১৯৯০)। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী পরিস্থিতিকে অবলম্বন করে তিনি ‘বিষ বিরিক্ষের বীজ’ নামে একটি কাব্যনাট্যও রচনা করেন। এছাড়া তিনি বেশ কিছু গল্প লিখেছেন।

আরও পড়ুনঃ  শ্রীপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে নতুন অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত হওয়ায় সস্তিতে এলাকাবাসী

তার রচিত ও সুরারোপিত ‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’- গানটি দুই বাংলায় অসম্ভব জনপ্রিয়। ১৯৮৭ সালে তসলিমা নাসরীনের সাথে বিচ্ছেদের পর মোংলায় বসে তিনি এ গানটি রচনা ও সুরারোপ করেন। পরবর্তীকালে এ গানটির জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি প্রদত্ত ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করেন।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

‎গাজীপুরে তেল উৎপাদনকারী কারখানায় আগুন, আধ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস

আজ কবি রুদ্রের ৩৫তম মুত্যুবার্ষীকি

আপডেটের সময়: ০৪:২০:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

শেখ রাফসান, মোংলা প্রতিনিধিঃ

তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’র আজ(রবিবার) ৩৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী। বাংলাদেশের কবিতায় অবিসস্মরণীয় এই কবির শিল্পমগ্ন উচ্চারণ তাকে দিয়েছে সত্তরের অন্যতম কবি-স্বীকৃতি। ১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি মারা যান। মৃত্যুর দীর্ঘ ৩৩ বছর পর ২০২৪ সালে কবি একুশে পদকে ভূষিত হন।

দিনটির স্মরণে রুদ্র স্মৃতি সংসদ, মিঠেখালি আজ কবির গ্রামের বাড়ি মোংলার মিঠেখালিতে সকাল ৯টায় শোভাযাত্রা সহকারে সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল এবং দোয়ার আয়োজন করেছে। সকাল ১০টায় মিঠেখালী রুদ্রের বাড়িতে স্মরনসভার আয়োজন করা হয়েছে। স্মরনসভা শেষে রুদ্রের কবিতা ও গান পরিবেশিত হবে।

আরও পড়ুনঃ  ঈদগাঁও বাজারে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য: ডিসি সড়কে জনদুর্ভোগ চরমে

অকাল প্রয়াত এই কবি তার কাব্যযাত্রায় যুগপৎ ধারণ করেছেন দ্রোহ ও প্রেম, স্বপ্ন ও সংগ্রামের শিল্পভাষ্য। ‘জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরোনো শকুন’ এই নির্মম সত্য অবলোকনের পাশাপাশি ততোধিক স্পর্ধায় তিনি উচ্চারণ করেছেন ‘ভুল মানুষের কাছে নতজানু নই’। যাবতীয় অসাম্য, শোষণ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অনমনীয় অবস্থান তাঁকে পরিণত করেছে ‘তারুণ্যের দীপ্ত প্রতীক’-এ। একই সঙ্গে তাঁর কাব্যের আরেক প্রান্তর জুড়ে রয়েছে স্বপ্ন, প্রেম ও সুন্দরের মগ্নতা। দেশ ও জাতির সংকটে রুদ্রের কবিতা হয়ে উঠেছে তারুণ্যের হাতিয়ার।

মাত্র ৩৫ বছরের (১৯৫৬-১৯৯১) স্বল্পায়ু জীবনে তিনি সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য এবং ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ সহ অর্ধ শতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন। পরবর্তীকালে এ গানটির জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি প্রদত্ত ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন।‘উপদ্রুত উপকূল’ ও ‘ফিরে চাই স্বর্নগ্রাম’ কাব্যগ্রন্থ দুটির জন্য ‘সংস্কৃতি সংসদ’ থেকে পরপর দু’বছর ‘মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করেন।

আরও পড়ুনঃ  “আনন্দের মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষা, শিক্ষার মাধ্যমে আলোকিত ভবিষ্যৎ গঠনে চট্টগ্রাম মডেল স্কুল

প্রসঙ্গত, মাত্র ৩৫ বছরের নাতিদীর্ঘ জীবন-সীমায় রুদ্র রচনা করেন সাতটি কাব্যগ্রন্থ-‘উপদ্রুত উপকূল’ (১৯৭৯), ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’ (১৯৮১), ‘মানুষের মানচিত্র’(১৯৮৪), ‘ছোবল’ (১৯৮৭), ‘গল্প’ (১৯৮৭) ‘দিয়েছিলে সকল আকাশ’ (১৯৮৮) এবং ‘মৌলিক মুখোশ’(১৯৯০)। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী পরিস্থিতিকে অবলম্বন করে তিনি ‘বিষ বিরিক্ষের বীজ’ নামে একটি কাব্যনাট্যও রচনা করেন। এছাড়া তিনি বেশ কিছু গল্প লিখেছেন।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচির কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

তার রচিত ও সুরারোপিত ‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’- গানটি দুই বাংলায় অসম্ভব জনপ্রিয়। ১৯৮৭ সালে তসলিমা নাসরীনের সাথে বিচ্ছেদের পর মোংলায় বসে তিনি এ গানটি রচনা ও সুরারোপ করেন। পরবর্তীকালে এ গানটির জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি প্রদত্ত ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করেন।