
মাহাদী হাসান অন্তর, মোড়েলগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার সন্ন্যাসী ঘাট এবং পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলার কলারোণ ঘাটের মধ্যে দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চার উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। প্রতিদিন জীবনঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌযান ও ট্রলারে পাঙ্গুচি নদী পার হতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা।
বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলাকে বিভক্ত করেছে পানগুচি নদী। এই নদীর ওপর অবস্থিত কলারোণ-সন্ন্যাসী ঘাট ছিল বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা ও মোংলা উপজেলা এবং পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলার মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই নৌপথ ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। চার উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র।
ফেরি বন্ধ থাকায় বর্তমানে যাত্রীদের একমাত্র ভরসা ছোট নৌকা ও ট্রলার। ত্রিমোহনায় অবস্থিত হওয়ায় নদীটিতে সারা বছরই প্রবল স্রোত বিরাজ করে। ফলে নদী পারাপারের সময় নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা আতঙ্কে থাকেন। সামান্য বৈরী আবহাওয়াতেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ৪ আগস্ট তৎকালীন সংসদ সদস্য আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর উদ্যোগে এ নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু হয়। কিন্তু ২০০৭ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরে ঘাটের অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ১৯ বছর, কিন্তু ফেরি পুনরায় চালুর কার্যকর কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর বিভিন্ন মহল থেকে ফেরি চালুর আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে প্রতিদিনই চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, বিষয়টি পিরোজপুর সড়ক বিভাগের আওতাধীন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী এক বছরের মধ্যে ফেরি চলাচল পুনরায় চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কলারোণ-সন্ন্যাসী নৌপথে ফেরি চালু করা হোক। তাদের মতে, ফেরি চালু হলে চার উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং নিরাপদ ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।
প্রতিবেদকের নাম 



















