
এন এস. ফারুক, উপজেলা প্রতিনিধি তারাগঞ্জ, রংপুর
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে ঝড়ে বাসা থেকে পড়ে যাওয়া একটি অসহায় শালিক পাখির ছানাকে উদ্ধার করে অনন্য মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় পাখিপ্রেমী খলিলুর রহমান। রাতে ঝড়ে আক্রান্ত পাখিটিকে উদ্ধার করে পরম মমতায় দিনের মধ্যেই সেবা-শুশ্রূষা দিয়ে সুস্থ করার পর তিনি সেটিকে আবার মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রাতে তারাগঞ্জ উপজেলায় হালকা ঝড় হয়, সেখানকার একটি গাছ থেকে শালিক পাখির বাসাটি ভেঙে নিচে পড়ে যায়। সকালের মধ্যেই খলিলুর রহমান মাটিতে পড়ে থাকা পাখির ছানাটিকে দেখতে পান। তীব্র ঠাণ্ডা, আঘাত ও আতঙ্কে পাখিটি তখন প্রায় নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল।
ব্যক্তিগত ব্যস্ততা সরিয়ে রেখে তাৎক্ষণিকভাবে খলিলুর রহমান পাখিটিকে উদ্ধার করেন। তিনি পরম মমতায় পাখিটিকে উষ্ণতা দেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। নিবিড় সেবা-যত্নে রাখার পর দিনের মধ্যেই শালিক ছানাটি ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ সুস্থ ও চঞ্চল হয়ে ওঠে।
পাখিটি পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর খলিলুর রহমান সেটিকে উপজেলা পরিষদের সামনের খোলা প্রাঙ্গণে নিয়ে যান এবং নিজের হাত থেকে মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করেন। ডানা মেলে পাখিটি আবার প্রকৃতির বুকে ফিরে যায়।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, “পাখিরা প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঝড়-তুফানে অবলা এই প্রাণীরা সবচেয়ে বেশি অসহায় হয়ে পড়ে। সকালে যখন শালিক পাখিটিকে এই অবস্থায় দেখি, তখন মানবিকতার খাতিরেই ওকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। পাখিটি যখন সুস্থ হয়ে আকাশে উড়ে গেল, সেই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”
খলিলুর রহমানের এই মানবিক উদ্যোগের কথা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। পরিবেশবাদীরা বলছেন, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতির প্রতি এমন ভালোবাসা সমাজের সবার জন্য এক দারুণ অনুকরণীয় বার্তা।
প্রতিবেদকের নাম 


















