Dhaka ০৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারাদেশের ন্যায় নীলফামারীতে বৃক্ষ রোপন লালপুরে মহিষের খামারের বর্জ্যে রাস্তা বেহাল: চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী দৈনিক আজকের জনবানীতে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে পৌর কর্তৃপক্ষ, অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার নির্দেশ টেকনাফে র‌্যাবের অভিযান, মালয়েশিয়া পাচারের আগে ৫ ভিকটিম উদ্ধার রাজশাহীর বাঘায় গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে ১ জনের মৃত্যু, গুরুতর আহত ১ জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে, কাঁদছে নবাবগঞ্জ ১০৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা ডিবি দক্ষিণ পুলিশ ভেদরগঞ্জে সচেতন মা, আপনি সেরা মা—শ্রেষ্ঠ অভিভাবক পুরস্কার ২০২৬ ধামইরহাটে মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন গণতন্ত্রের ভিত্তিতে রচিত আল-কুরআনবিরোধী সংবিধানই সমাজ ও রাষ্ট্রের মূল সমস্যা: ইসলামী সমাজ

ফেরির অভাবে সন্ন্যাসী-কলারোণ ঘাট এখন মরণফাঁদ, জীবনঝুঁকিতে চার উপজেলার মানুষ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১১:০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ২৫৪ সময় দেখুন

মাহাদী হাসান অন্তর, মোড়েলগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার সন্ন্যাসী ঘাট এবং পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলার কলারোণ ঘাটের মধ্যে দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চার উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। প্রতিদিন জীবনঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌযান ও ট্রলারে পাঙ্গুচি নদী পার হতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা।

বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলাকে বিভক্ত করেছে পানগুচি নদী। এই নদীর ওপর অবস্থিত কলারোণ-সন্ন্যাসী ঘাট ছিল বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা ও মোংলা উপজেলা এবং পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলার মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই নৌপথ ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। চার উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র।

আরও পড়ুনঃ  দেবিদ্বারে “আমার গ্রাম- আমার দায়িত্ব” সংগঠনের উদ্যোগে ২টি টিউবওয়েল স্হাপন

ফেরি বন্ধ থাকায় বর্তমানে যাত্রীদের একমাত্র ভরসা ছোট নৌকা ও ট্রলার। ত্রিমোহনায় অবস্থিত হওয়ায় নদীটিতে সারা বছরই প্রবল স্রোত বিরাজ করে। ফলে নদী পারাপারের সময় নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা আতঙ্কে থাকেন। সামান্য বৈরী আবহাওয়াতেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহী-দুর্গাপুর যোগাযোগের একমাত্র সড়কে খানাখন্দ হাঁটুঞ্জলে চরম দুর্ভোগ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ৪ আগস্ট তৎকালীন সংসদ সদস্য আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর উদ্যোগে এ নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু হয়। কিন্তু ২০০৭ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরে ঘাটের অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ১৯ বছর, কিন্তু ফেরি পুনরায় চালুর কার্যকর কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর বিভিন্ন মহল থেকে ফেরি চালুর আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে প্রতিদিনই চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

আরও পড়ুনঃ  আটোয়ারীতে অনুমোদনহীন তোয়াউমুন বেকারি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে শিশু খাদ্য

এ বিষয়ে বাগেরহাট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, বিষয়টি পিরোজপুর সড়ক বিভাগের আওতাধীন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী এক বছরের মধ্যে ফেরি চলাচল পুনরায় চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কলারোণ-সন্ন্যাসী নৌপথে ফেরি চালু করা হোক। তাদের মতে, ফেরি চালু হলে চার উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং নিরাপদ ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারাদেশের ন্যায় নীলফামারীতে বৃক্ষ রোপন

ফেরির অভাবে সন্ন্যাসী-কলারোণ ঘাট এখন মরণফাঁদ, জীবনঝুঁকিতে চার উপজেলার মানুষ

আপডেটের সময়: ১১:০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

মাহাদী হাসান অন্তর, মোড়েলগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার সন্ন্যাসী ঘাট এবং পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলার কলারোণ ঘাটের মধ্যে দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চার উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। প্রতিদিন জীবনঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌযান ও ট্রলারে পাঙ্গুচি নদী পার হতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা।

বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলাকে বিভক্ত করেছে পানগুচি নদী। এই নদীর ওপর অবস্থিত কলারোণ-সন্ন্যাসী ঘাট ছিল বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা ও মোংলা উপজেলা এবং পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলার মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই নৌপথ ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। চার উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র।

আরও পড়ুনঃ  আটোয়ারীতে ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উৎসব যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন

ফেরি বন্ধ থাকায় বর্তমানে যাত্রীদের একমাত্র ভরসা ছোট নৌকা ও ট্রলার। ত্রিমোহনায় অবস্থিত হওয়ায় নদীটিতে সারা বছরই প্রবল স্রোত বিরাজ করে। ফলে নদী পারাপারের সময় নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা আতঙ্কে থাকেন। সামান্য বৈরী আবহাওয়াতেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  কুলিয়ারচরের গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউপি নির্বাচনে আলোচনার শীর্ষে আলমগীর হোসেন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ৪ আগস্ট তৎকালীন সংসদ সদস্য আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর উদ্যোগে এ নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু হয়। কিন্তু ২০০৭ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরে ঘাটের অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ১৯ বছর, কিন্তু ফেরি পুনরায় চালুর কার্যকর কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর বিভিন্ন মহল থেকে ফেরি চালুর আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে প্রতিদিনই চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

আরও পড়ুনঃ  আটোয়ারীতে অনুমোদনহীন তোয়াউমুন বেকারি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে শিশু খাদ্য

এ বিষয়ে বাগেরহাট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, বিষয়টি পিরোজপুর সড়ক বিভাগের আওতাধীন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী এক বছরের মধ্যে ফেরি চলাচল পুনরায় চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কলারোণ-সন্ন্যাসী নৌপথে ফেরি চালু করা হোক। তাদের মতে, ফেরি চালু হলে চার উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং নিরাপদ ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।