
:মোঃ আছিরুল ইসলাম, হিলি, হাকিমপুর, উপজেলা প্রতিনিধি: চলতি মৌসুমের তীব্র ও অসহনীয় গরমে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষের প্রাণ। আর এই তীব্র তাপদাহের মধ্যেই হাকিমপুর ও আশপাশের এলাকায় শুরু হয়েছে দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর নজিরবিহীন লোডশেডিংয়ের অত্যাচার। গত ১৪ই জুন রাত ১২টা থেকে ১৫ই জুন রাত ১২টা পর্যন্ত—২৪ ঘণ্টার হিসাবে হাকিমপুর বাসী ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুতহীন অবস্থায় কাটিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই অমানবিক রূপ নিয়েছে যে, গড়ে প্রতি ১ ঘণ্টা পর পরই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতের এমন চরম অব্যবস্থাপনায় হাকিমপুরের জনজীবন এখন পুরোপুরি দুর্বিষহ।গ্রীষ্মের এই তীব্র গরমে যেখানে ঘরের ভেতরে টিকে থাকা দায়, সেখানে প্রতি এক ঘণ্টা পর পর লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন আকাশচুম্বী। ১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরের ১ ঘণ্টা পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতের এই চোর-পুলিশ খেলার কারণে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন শিশু,বৃদ্ধ এবং অসুস্থ মানুষেরা। তীব্র গরমে রাতের পর রাত মানুষ দুচোখের পাতা এক করতে পারছে না, যার প্রভাব পড়ছে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর।
১ ঘণ্টা পর পর এই লোডশেডিংয়ের কারণে হাকিমপুরের ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প কলকারখানা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা পুরোপুরি লাটে ওঠেছে। বিদ্যুৎ যাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট শিডিউল বা নিয়ম নেই। কোনো কাজ শুরু করতে না করতেই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, ফলে স্থির হয়ে পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতি। বিশেষ করে ডিজিটাল ও অনলাইন ভিত্তিক কাজ এবং জরুরি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন চরম সংকটের মুখে।এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ‘দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২’ যেন গ্রাহকদের এই চরম কষ্টের কথা আমলেই নিচ্ছে না। কোনো ঘোষণা বা পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই ২৪ ঘণ্টার অর্ধেকটা সময় সাধারণ মানুষকে অন্ধকারে রেখে পল্লী বিদ্যুৎ কী ধরনের সেবা দিচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিবেদকের নাম 



















