Dhaka ০৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বন্দর থানা এলাকায় আত্মসাথের ৫০ কার্টুন ক্রোকারিজ পণ্য ও গাড়ি উদ্ধার: আটক -২ মাগুরায় জেলা তথ্য অফিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, উন্নয়ন বিষয়ক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপেক্ষিত ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা,উপজেলা ছাত্রসেনার স্মারকলিপি পেশ রাসিক প্রশাসকের নির্দেশে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীবান্ধব বেঞ্চ স্থাপন মনপুরায় সাবমেরিন ক্যাবলে বিদ্যুতের জন্য ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিসট্রিবিউশন এর মহাপরিকল্পনা সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ধানের হাটে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য সিরাজগঞ্জে শাশুড়ীর পরকীয়ার বলি হলেন পুত্রবধু মেঘে ঢাকা পাহাড়ের স্বর্গরাজ্য: পর্যটনের রোমাঞ্চকর দিগন্তে পার্বত্য কন্যা বান্দরবান লামায় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন অগ্রগতির ওপর প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত নিয়ম না মেনেই চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, সময়ের আগেই গেটে ঝুললো তালা

লক্ষীপুরে মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধ: আইনজীবীর বিরুদ্ধে থানায় মারধরের অভিযোগ

কামরুল হাসান সদর লক্ষীপুর প্রতিনিধি: লক্ষীপুর সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের চরলামছি নতুন জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. ফারুক হোসেন পরান লক্ষীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, লক্ষীপুর জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আমির হোসেন মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহ প্রকাশ করলে স্থানীয় মুসল্লিরা তাকে প্রত্যাখ্যান করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১ মে বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে চর লামছি নতুন জামে মসজিদের ভেতরে ফারুক হোসেনের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় ফারুক হোসেন পরান বাদী হয়ে অ্যাডভোকেট আমির হোসেন (৩০), মো. মাসুদ আলম ফরহাদ (৩৫) ও মো. শিবলু (২৫)-কে বিবাদী করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, পরবর্তীতে একই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে মসজিদের সামনে পুনরায় তাকে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  নাগরপুরে অবৈধ মাটি পরিবহন, ৩ ট্রাফি ট্রাক জব্দ

 

 

আহত ফারুক হোসেন লক্ষীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রেজিস্টার অনুযায়ী তার চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, জুমার নামাজের পর মসজিদ কমিটির পদ নিয়ে বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট আমির হোসেন। তিনি দাবি করেন, ফারুক হোসেনের কাছে তার প্রায় ১৮ লাখ টাকা পাওনা ১ লাখ টাকা ক্ষমা করা হয় বাকি ১৭ লাখ টাকার মধ্যে ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও আর ৭ লাখ টাকা এখনো পরিশোধ করেনি এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যা মসজিদ কমিটি সংক্রান্ত বিরোধ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। লক্ষীপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান পাটোয়ারী বলেন, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। কোনো আইনজীবী অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে সমিতির পক্ষ থেকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে জলাবদ্ধতা শীর্ষক সেমিনারে ডা. শাহাদাত হোসেন

 

লক্ষীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজিব জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে মারধরের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে স্থানীয়ভাবে মসজিদ কমিটির সভাপতি এবং এডভোকেট আমির হোসেনের বড় ভাই এডভোকেট মুরাদ হোসেন মিলে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে মাটিচাপা অবস্থায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বন্দর থানা এলাকায় আত্মসাথের ৫০ কার্টুন ক্রোকারিজ পণ্য ও গাড়ি উদ্ধার: আটক -২

লক্ষীপুরে মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধ: আইনজীবীর বিরুদ্ধে থানায় মারধরের অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০৮:১৫:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

কামরুল হাসান সদর লক্ষীপুর প্রতিনিধি: লক্ষীপুর সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের চরলামছি নতুন জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. ফারুক হোসেন পরান লক্ষীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, লক্ষীপুর জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আমির হোসেন মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহ প্রকাশ করলে স্থানীয় মুসল্লিরা তাকে প্রত্যাখ্যান করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১ মে বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে চর লামছি নতুন জামে মসজিদের ভেতরে ফারুক হোসেনের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় ফারুক হোসেন পরান বাদী হয়ে অ্যাডভোকেট আমির হোসেন (৩০), মো. মাসুদ আলম ফরহাদ (৩৫) ও মো. শিবলু (২৫)-কে বিবাদী করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, পরবর্তীতে একই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে মসজিদের সামনে পুনরায় তাকে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  কাউনিয়ায় তাজ এগ্রো খামারে কুরবানির জন্য প্রস্তুত ৮০টি গরু

 

 

আহত ফারুক হোসেন লক্ষীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রেজিস্টার অনুযায়ী তার চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, জুমার নামাজের পর মসজিদ কমিটির পদ নিয়ে বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট আমির হোসেন। তিনি দাবি করেন, ফারুক হোসেনের কাছে তার প্রায় ১৮ লাখ টাকা পাওনা ১ লাখ টাকা ক্ষমা করা হয় বাকি ১৭ লাখ টাকার মধ্যে ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও আর ৭ লাখ টাকা এখনো পরিশোধ করেনি এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যা মসজিদ কমিটি সংক্রান্ত বিরোধ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। লক্ষীপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান পাটোয়ারী বলেন, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। কোনো আইনজীবী অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে সমিতির পক্ষ থেকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

আরও পড়ুনঃ  গ্রিন কার্ডের জন্য প্রতারণা ও নির্যাতন: মার্কিন দূতাবাসে প্রবাসীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর অভিযোগ

 

লক্ষীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজিব জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে মারধরের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে স্থানীয়ভাবে মসজিদ কমিটির সভাপতি এবং এডভোকেট আমির হোসেনের বড় ভাই এডভোকেট মুরাদ হোসেন মিলে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  সিরাজগঞ্জে শাশুড়ীর পরকীয়ার বলি হলেন পুত্রবধু