Dhaka ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোবাইল ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে পিটিয়ে হত্যা করা: পুলিশ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৩:৩৮:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২০ সময় দেখুন

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুল ছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। একটি মোবাইল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তাকে পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ চারজন অভিযুক্তকে আটক করেছে। আজ রোববার দুপুর আড়াইটায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের ছেলে। পুলিশ সুপার বলেন, গত শুক্রবার বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্ত তুহিন লালমাই পাহাড়ের ‘সানন্দা’ নামক স্থানে চারপাশে পাহাড় ঘেরা নির্জন জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে যায়। ঘটনাটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  পদ্মায় হঠাৎ জলোচ্ছ্বাস: ২০ নৌকাডুবি, শহররক্ষা বাঁধে ধস, আহত ১৫

 

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন স্বীকার করে যে, অপ্রতিমের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করেই তাকে ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন জানায়, এ ঘটনার পেছনে ফাহাদ এবং কামরুল নামে তার আরও দুই বন্ধু জড়িত ছিল। পরবর্তীতে পুলিশ ফাহাদ ও কামরুলকে হেফাজতে নেয়। প্রাথমিক তদন্ত ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে অপ্রতিম বাধা দেয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মৃত্যু নিশ্চিত হলে তুহিন তার মোবাইলটি নিয়ে সহযোগীদের সঙ্গে এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। পরদিন শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সিয়াম নামে আরও এক তরুণকে আটক করে তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পুলিশ সুপারের ভাষ্য, গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তুহিনের (১৯) বাবার নাম নূর আলম। তিনি নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সানন্দা এলাকার বাসিন্দা।

আরও পড়ুনঃ  এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের হাত ধরে উদ্বোধন হচ্ছে ধুনটে ৬ কোটি টাকার আধুনিক প্রশাসনিক ভবন:

 

তুহিন কুমিল্লা সিটি কলেজ থেকে একাদশ শ্রেণিতে ফেল করে ঝরে পড়েছেন। মোফাজ্জেল হোসেন ফাহাদ (১৫) একই ওয়ার্ডের সালমানপুর এলাকার (মেম্বার বাড়ি) বাসিন্দা। সে ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মো. কামরুল হাসানের (১৮) বাড়ি দক্ষিণ উপজেলার হাতিগাড়া গ্রামে এবং মো. সিয়াম (১৯) একই উপজেলার এলাহীপুর গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো পিসিআর (পূর্ব অপরাধের রেকর্ড) পাওয়া যায়নি। ইতোমধ্যে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অপর আসামি সিয়ামের সম্পৃক্ততা যাচাই এবং তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  নাটোর লালপুরে পুকুরে ডুবে দুই ভাই-বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

মোবাইল ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে পিটিয়ে হত্যা করা: পুলিশ

আপডেটের সময়: ০৩:৩৮:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুল ছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। একটি মোবাইল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তাকে পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ চারজন অভিযুক্তকে আটক করেছে। আজ রোববার দুপুর আড়াইটায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের ছেলে। পুলিশ সুপার বলেন, গত শুক্রবার বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্ত তুহিন লালমাই পাহাড়ের ‘সানন্দা’ নামক স্থানে চারপাশে পাহাড় ঘেরা নির্জন জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে যায়। ঘটনাটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়া টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাচিত সভাপতি মোহন আখন্দ, সাধারণ সম্পাদক মেহেরুল সুজন

 

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন স্বীকার করে যে, অপ্রতিমের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করেই তাকে ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন জানায়, এ ঘটনার পেছনে ফাহাদ এবং কামরুল নামে তার আরও দুই বন্ধু জড়িত ছিল। পরবর্তীতে পুলিশ ফাহাদ ও কামরুলকে হেফাজতে নেয়। প্রাথমিক তদন্ত ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে অপ্রতিম বাধা দেয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মৃত্যু নিশ্চিত হলে তুহিন তার মোবাইলটি নিয়ে সহযোগীদের সঙ্গে এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। পরদিন শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সিয়াম নামে আরও এক তরুণকে আটক করে তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পুলিশ সুপারের ভাষ্য, গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তুহিনের (১৯) বাবার নাম নূর আলম। তিনি নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সানন্দা এলাকার বাসিন্দা।

আরও পড়ুনঃ  সুবর্ণচরে তালিমুল কোরআন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ক্বিরাত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

 

তুহিন কুমিল্লা সিটি কলেজ থেকে একাদশ শ্রেণিতে ফেল করে ঝরে পড়েছেন। মোফাজ্জেল হোসেন ফাহাদ (১৫) একই ওয়ার্ডের সালমানপুর এলাকার (মেম্বার বাড়ি) বাসিন্দা। সে ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মো. কামরুল হাসানের (১৮) বাড়ি দক্ষিণ উপজেলার হাতিগাড়া গ্রামে এবং মো. সিয়াম (১৯) একই উপজেলার এলাহীপুর গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো পিসিআর (পূর্ব অপরাধের রেকর্ড) পাওয়া যায়নি। ইতোমধ্যে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অপর আসামি সিয়ামের সম্পৃক্ততা যাচাই এবং তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  নাটোর লালপুরে পুকুরে ডুবে দুই ভাই-বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু