
অপু দাস, রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে হঠাৎ ধেয়ে আসা প্রবল ঝড় এবং আকস্মিক জলোচ্ছ্বাসের মতো তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গতকাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে কোনো পূর্বাবাস ছাড়াই পশ্চিম দিক থেকে আসা এই ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে পদ্মাপাড়ের জনজীবন। এতে অন্তত ২০টি নৌকা ডুবে গেছে, ধস নেমেছে শহররক্ষা বাঁধে এবং নৌকা রক্ষা করতে গিয়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন মাঝি।পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে ভারত থেকে আসা উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পদ্মার পানি দ্রুত বাড়ছিল। এর মধ্যে গতকাল রাতে হঠাৎ প্রচন্ড বেগে ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়। তীব্র বাতাসের কারণে নদীতে হঠাৎ ১০ থেকে ১৫ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসের মতো বিশাল বিশাল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়।তছনছ ৫০টিরও বেশি নৌকা, আহত ১৫ঝড়ের সময় শ্রীরামপুর ও টি-বাঁধ সংলগ্ন নদীর পাড়ে নোঙর করে রাখা প্রায় ২০টি নৌকা সঙ্গে সঙ্গে ডুবে যায়। ঢেউয়ের প্রচণ্ড আঘাতে আরও ৩০টির বেশি নৌকা দুমড়েমুচড়ে ও ওলটপালট হয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উত্তাল নদীর হাত থেকে নিজেদের উপার্জনের একমাত্র সম্বল নৌকাগুলো রক্ষা করতে গিয়ে ঢেউয়ের ধাক্কায় অন্তত ১৫ জন স্থানীয় মাঝি ও শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।শহরের টি-বাঁধে ধস, দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাপদ্মার এই অস্বাভাবিক পানির তোড় এবং বড় বড় ঢেউয়ের সরাসরি আঘাতে শ্রীরামপুর এলাকায় রাজশাহী শহররক্ষা বাঁধের সিসি ব্লকে ধস নেমেছে। বাঁধের প্রায় শতমিটার এলাকার সিসি ব্লক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় শহরটি নতুন করে ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে।পরিস্থিতি বিবেচনা করে আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড নিরাপত্তার স্বার্থে শ্রীরামপুর এলাকার ‘টি-বাঁধ’ ও ‘টি-গ্রোয়েন’ এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে নদীপাড়ের অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।চরাঞ্চলে চরম আতঙ্কপদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পবা উপজেলার চর খিদিরপুর, খানপুর ও মিডল চরসহ বিভিন্ন নিচু চরাঞ্চলের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি আগেই প্লাবিত হয়েছিল। তার ওপর গতকাল রাতের এই আকস্মিক তাণ্ডব চরের কয়েক হাজার পানিবন্দী মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। আজ সকাল থেকে স্থানীয় মাঝিরা নদী থেকে তাদের ডুবন্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত নৌকাগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন কর্মকর্তা জানান, বাঁধের ধসে যাওয়া অংশে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে। নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি থাকায় সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















