Dhaka ১১:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণভোটের গণরায় পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধন নয়: ১১ দলীয় ঐক্য

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৭:০১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৫ সময় দেখুন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গণভোটে জনগণের দেওয়া গণরায় পাশ কাটিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা। তারা বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত এবং গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করতে হবে। আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে এ অবস্থান তুলে ধরা হয়। বিএনপি সরকারের উদ্যোগে জাতীয় সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত সাংবিধানিক সংস্কার এবং তা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণের মতামত নেওয়া হয় ওই গণভোটে। সরকারি গেজেট অনুযায়ী, বৈধ ভোটের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে। তিনি আরও বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ শুধু কয়েকটি বিচ্ছিন্ন সংস্কার প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানাননি; বরং সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠানকেও অনুমোদন দিয়েছেন। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও কার্যক্রম শুরুর পরিবর্তে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে জনগণের সরাসরি দেওয়া সাংবিধানিক ‘ম্যান্ডেটকে’ পাশ কাটানো হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  বান্দরবানে দুই দশকেও প্রতিষ্ঠা হয়নি পারিবারিক আদালত

 

জোটটির মতে, জনগণের ম্যান্ডেটের বিকল্প কোনো সংসদীয় বিশেষ কমিটি হতে পারে না। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদকে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা দিলেও সেই ক্ষমতা সীমাহীন নয়। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায়ে প্রতিষ্ঠিত নীতিও বিবেচনায় নিতে হবে। তাদের দাবি, সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কার করা হলে ভবিষ্যতে তা নিয়ে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। জুলাই জাতীয় সনদে সংবিধান সংস্কার, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা ও ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, একই ব্যক্তির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিচারব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণসহ বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

আরও পড়ুনঃ  একক লড়াই স্থানীয় নির্বাচনে কতটা প্রস্তুত এনসিপি

 

১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার কার্যকর করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কারের উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তারা। এ ছাড়া নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়ে পরিষদ কার্যকর করার দাবি ছাড়াও জনগণের সরাসরি ভোটে প্রকাশিত সাংবিধানিক ম্যান্ডেটকে সম্মান করা এবং জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। এসময় ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ ৬ দফা দাবি জানিয়ে বলা হয়, গণভোটে জনগণের প্রদত্ত রায়কে যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত এবং গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।

আরও পড়ুনঃ  ট্রাম্পের মুখের ওপর ‘না দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা

 

গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নের বর্তমান উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করছি। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিষদকে কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি। জনগণের সম্মতি ও গণভোটের ম্যান্ডেটকে পাশ কাটিয়ে একতরফাভাবে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো-সংশ্লিষ্ট পরিবর্তন আনার উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক সংস্কারকে জনগণের প্রত্যাশা, গণভোটের রায় এবং রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা মনে করি, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙক্ষা, জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটে প্রকাশিত জনগণের রায়-এই তিনটির প্রতি সম্মান দেখানোই বর্তমান সাংবিধানিক মতপার্থক্য নিরসনের গণতান্ত্রিক পথ। জনগণের ভোট কোনো দলের রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী গ্রহণ বা উপেক্ষা করার বিষয় নয়। গণরায়ের প্রতি সম্মান দেখানোই গণতন্ত্রের মূল দাবি। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান প্রমুখ।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

গণভোটের গণরায় পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধন নয়: ১১ দলীয় ঐক্য

আপডেটের সময়: ০৭:০১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গণভোটে জনগণের দেওয়া গণরায় পাশ কাটিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা। তারা বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত এবং গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করতে হবে। আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে এ অবস্থান তুলে ধরা হয়। বিএনপি সরকারের উদ্যোগে জাতীয় সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত সাংবিধানিক সংস্কার এবং তা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণের মতামত নেওয়া হয় ওই গণভোটে। সরকারি গেজেট অনুযায়ী, বৈধ ভোটের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে। তিনি আরও বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ শুধু কয়েকটি বিচ্ছিন্ন সংস্কার প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানাননি; বরং সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠানকেও অনুমোদন দিয়েছেন। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও কার্যক্রম শুরুর পরিবর্তে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে জনগণের সরাসরি দেওয়া সাংবিধানিক ‘ম্যান্ডেটকে’ পাশ কাটানো হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  ট্রাম্পের মুখের ওপর ‘না দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা

 

জোটটির মতে, জনগণের ম্যান্ডেটের বিকল্প কোনো সংসদীয় বিশেষ কমিটি হতে পারে না। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদকে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা দিলেও সেই ক্ষমতা সীমাহীন নয়। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায়ে প্রতিষ্ঠিত নীতিও বিবেচনায় নিতে হবে। তাদের দাবি, সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কার করা হলে ভবিষ্যতে তা নিয়ে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। জুলাই জাতীয় সনদে সংবিধান সংস্কার, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা ও ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, একই ব্যক্তির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিচারব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণসহ বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

আরও পড়ুনঃ  কেরানীগঞ্জ তেঘরিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত: তৃণমূলকে শক্তিশালী করার আহ্বান

 

১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার কার্যকর করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কারের উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তারা। এ ছাড়া নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়ে পরিষদ কার্যকর করার দাবি ছাড়াও জনগণের সরাসরি ভোটে প্রকাশিত সাংবিধানিক ম্যান্ডেটকে সম্মান করা এবং জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। এসময় ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ ৬ দফা দাবি জানিয়ে বলা হয়, গণভোটে জনগণের প্রদত্ত রায়কে যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত এবং গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।

আরও পড়ুনঃ  গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো ইচ্ছা নেই: তথ্যমন্ত্রী

 

গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নের বর্তমান উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করছি। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিষদকে কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি। জনগণের সম্মতি ও গণভোটের ম্যান্ডেটকে পাশ কাটিয়ে একতরফাভাবে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো-সংশ্লিষ্ট পরিবর্তন আনার উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক সংস্কারকে জনগণের প্রত্যাশা, গণভোটের রায় এবং রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা মনে করি, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙক্ষা, জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটে প্রকাশিত জনগণের রায়-এই তিনটির প্রতি সম্মান দেখানোই বর্তমান সাংবিধানিক মতপার্থক্য নিরসনের গণতান্ত্রিক পথ। জনগণের ভোট কোনো দলের রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী গ্রহণ বা উপেক্ষা করার বিষয় নয়। গণরায়ের প্রতি সম্মান দেখানোই গণতন্ত্রের মূল দাবি। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান প্রমুখ।