Dhaka ০৯:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কর্তৃপক্ষের অপেক্ষা নয়, স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কারে ছাত্রদল নেতা রাফা পটিয়ায় তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ বিষয়ক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত : তথ্যই শক্তি-জানবো, জানাবো মির্জাপুরে ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু বদলগাছীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার ঠাকুরগাঁওয়ে বিএসএফের পুশইন ঠেকাতে রাতভর সীমান্ত পাহারায় বিজিবি ও গ্রামবাসী ঢাকা দক্ষিণ সিটির উচ্ছেদ অভিযান: কাকরাইল থেকে আরামবাগ পর্যন্ত ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত কাউনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই স্টার্টআপ ও সায়েন্স প্রজেক্ট প্রদর্শনীর উদ্বোধন করলেন ডা. জুবাইদা ফরিদপুরে ৫১ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার নগরকান্দায় ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ বৃদ্ধ আটক

ভাতা নয়, মৃত্যুর পূর্বে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চান মুক্তিযোদ্ধা সুভাস চন্দ্র বসু

নিজস্ব প্রতিবেদক

মুক্তিযুদ্ধ করেছি দেশের জন্য, মানুষের স্বাধীনতার জন্য। জীবনের এই শেষ সময়ে এসে কোনো ভাতা কিংবা সরকারি সুযোগ-সুবিধা চাই না। শুধু চাই, রাষ্ট্র যেন আমাকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তাহলে মৃত্যুর পরও আমার সন্তানরা গর্ব করে বলতে পারবে-তাদের বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।

আবেগঘন কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা এবং বর্তমানে বরিশাল নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন বাজার টেম্পুস্ট্যান্ড এলাকায় বসবাসরত সুভাস চন্দ্র বসু। বয়স প্রায় ৮০ ছুঁইছুঁই। বার্ধক্য ও শারীরিক নানা জটিলতায় আজ তিনি অনেকটাই শয্যাশায়ী। তবুও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতি তার ভালোবাসা এবং মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এখনো অটুট।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশমাতৃকার ডাকে সাড়া দিয়ে জীবনবাজি রেখে সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণ করেন সুভাস চন্দ্র বসু। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য হওয়ায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিশেষ নজরদারি ও ঝুঁকির মধ্যেও তিনি যুদ্ধের ময়দান থেকে পিছু হটেননি। দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি নিজের জীবন, পরিবার ও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করে যুদ্ধ করেছেন বিভিন্ন এলাকায়।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

সুভাস চন্দ্র বসুর পরিবার জানায়, যুদ্ধ শেষে স্বাধীন দেশে ফিরে এলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি নীরবে জীবনযাপন করেছেন। কখনো ব্যক্তিগত সুবিধা কিংবা আর্থিক লাভের আশায় নিজেকে সামনে আনেননি। তবে জীবনের শেষ সময়ে এসে তার একমাত্র চাওয়া-রাষ্ট্র যেন তাকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আইনগত স্বীকৃতি প্রদান করে।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা) মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করেন সুভাস চন্দ্র বসু। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুনরায় সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য-প্রমাণসহ নতুন করে আবেদন জমা দেওয়া হয়।

আবেদনের সঙ্গে জমা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ নথির মধ্যে রয়েছে-১) অনলাইনকৃত আবেদনপত্র (ডিপি নং- ১২৬৮০৬৩),২) জেলা কমান্ডারের প্রত্যয়নপত্র,৩) থানা কমান্ডারের প্রত্যয়নপত্র,৪) বিডিআর সদস্য শাহ কর্তৃক প্রদানকৃত প্রশিক্ষণ সনদপত্র,৫) ইউনিয়ন কমান্ডারের প্রত্যয়নপত্র,৬) পক্ষে সন্তান উৎপল বসুর ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র।

আরও পড়ুনঃ  ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাইয়ে গ্রেফতার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

এছাড়াও যুদ্ধকালীন সহযোদ্ধা হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন মো. আ. আউয়াল, মো. আতাউর রহমান, মো. শাহজাহানসহ একাধিক ব্যক্তি। তারা প্রত্যেকে সুভাস চন্দ্র বসুর মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আপিল করতে বিলম্ব হওয়ার পেছনেও ছিল বাস্তব ও মানবিক কারণ। একদিকে নিজের জরুরি চিকিৎসাজনিত কারণে দেশের বাইরে অবস্থান, অন্যদিকে তার মায়ের ফুসফুসের ক্যান্সারের চিকিৎসা নিয়ে দীর্ঘ সময় ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। এসব কারণেই সময়মতো প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

সুভাস চন্দ্র বসুর একাধিক স্বজন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, তিনি কখনো টাকার জন্য যুদ্ধ করেননি। এখনো কোনো ভাতা বা আর্থিক সুবিধার দাবি করছেন না। একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়াটাই তার জীবনের শেষ চাওয়া। তিনি আজ মৃত্যুশয্যায়। আমরা চাই, জীবিত অবস্থাতেই তিনি যেন এই স্বীকৃতি দেখে যেতে পারেন।স্থানীয় সচেতন মহলও মনে করছেন, একজন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধার প্রতি মানবিক ও সম্মানজনক আচরণ রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। তারা বলছেন, জমা দেওয়া কাগজপত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সুভাস চন্দ্র বসুকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা উচিত।

আরও পড়ুনঃ  বাজেটে দাম কমবে যেসব পণ্যের

তাদের মতে, এটি শুধু একজন মানুষের স্বীকৃতির বিষয় নয়, বরং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান অক্ষুণ্ন রাখারও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে সুভাস চন্দ্র বসুর একটাই আকুতি-স্বাধীনতার জন্য যে যুদ্ধ করেছিলেন, সেই স্বাধীন দেশের রাষ্ট্র যেন তাকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। যেন মৃত্যুর আগে অন্তত এই তৃপ্তি নিয়ে চোখ বন্ধ করতে পারেন যে, তার আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

কর্তৃপক্ষের অপেক্ষা নয়, স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কারে ছাত্রদল নেতা রাফা

ভাতা নয়, মৃত্যুর পূর্বে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চান মুক্তিযোদ্ধা সুভাস চন্দ্র বসু

আপডেটের সময়: ০৭:০০:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

মুক্তিযুদ্ধ করেছি দেশের জন্য, মানুষের স্বাধীনতার জন্য। জীবনের এই শেষ সময়ে এসে কোনো ভাতা কিংবা সরকারি সুযোগ-সুবিধা চাই না। শুধু চাই, রাষ্ট্র যেন আমাকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তাহলে মৃত্যুর পরও আমার সন্তানরা গর্ব করে বলতে পারবে-তাদের বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।

আবেগঘন কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা এবং বর্তমানে বরিশাল নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন বাজার টেম্পুস্ট্যান্ড এলাকায় বসবাসরত সুভাস চন্দ্র বসু। বয়স প্রায় ৮০ ছুঁইছুঁই। বার্ধক্য ও শারীরিক নানা জটিলতায় আজ তিনি অনেকটাই শয্যাশায়ী। তবুও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতি তার ভালোবাসা এবং মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এখনো অটুট।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশমাতৃকার ডাকে সাড়া দিয়ে জীবনবাজি রেখে সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণ করেন সুভাস চন্দ্র বসু। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য হওয়ায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিশেষ নজরদারি ও ঝুঁকির মধ্যেও তিনি যুদ্ধের ময়দান থেকে পিছু হটেননি। দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি নিজের জীবন, পরিবার ও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করে যুদ্ধ করেছেন বিভিন্ন এলাকায়।

আরও পড়ুনঃ  ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাইয়ে গ্রেফতার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

সুভাস চন্দ্র বসুর পরিবার জানায়, যুদ্ধ শেষে স্বাধীন দেশে ফিরে এলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি নীরবে জীবনযাপন করেছেন। কখনো ব্যক্তিগত সুবিধা কিংবা আর্থিক লাভের আশায় নিজেকে সামনে আনেননি। তবে জীবনের শেষ সময়ে এসে তার একমাত্র চাওয়া-রাষ্ট্র যেন তাকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আইনগত স্বীকৃতি প্রদান করে।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা) মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করেন সুভাস চন্দ্র বসু। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুনরায় সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য-প্রমাণসহ নতুন করে আবেদন জমা দেওয়া হয়।

আবেদনের সঙ্গে জমা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ নথির মধ্যে রয়েছে-১) অনলাইনকৃত আবেদনপত্র (ডিপি নং- ১২৬৮০৬৩),২) জেলা কমান্ডারের প্রত্যয়নপত্র,৩) থানা কমান্ডারের প্রত্যয়নপত্র,৪) বিডিআর সদস্য শাহ কর্তৃক প্রদানকৃত প্রশিক্ষণ সনদপত্র,৫) ইউনিয়ন কমান্ডারের প্রত্যয়নপত্র,৬) পক্ষে সন্তান উৎপল বসুর ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

এছাড়াও যুদ্ধকালীন সহযোদ্ধা হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন মো. আ. আউয়াল, মো. আতাউর রহমান, মো. শাহজাহানসহ একাধিক ব্যক্তি। তারা প্রত্যেকে সুভাস চন্দ্র বসুর মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আপিল করতে বিলম্ব হওয়ার পেছনেও ছিল বাস্তব ও মানবিক কারণ। একদিকে নিজের জরুরি চিকিৎসাজনিত কারণে দেশের বাইরে অবস্থান, অন্যদিকে তার মায়ের ফুসফুসের ক্যান্সারের চিকিৎসা নিয়ে দীর্ঘ সময় ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। এসব কারণেই সময়মতো প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

সুভাস চন্দ্র বসুর একাধিক স্বজন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, তিনি কখনো টাকার জন্য যুদ্ধ করেননি। এখনো কোনো ভাতা বা আর্থিক সুবিধার দাবি করছেন না। একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়াটাই তার জীবনের শেষ চাওয়া। তিনি আজ মৃত্যুশয্যায়। আমরা চাই, জীবিত অবস্থাতেই তিনি যেন এই স্বীকৃতি দেখে যেতে পারেন।স্থানীয় সচেতন মহলও মনে করছেন, একজন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধার প্রতি মানবিক ও সম্মানজনক আচরণ রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। তারা বলছেন, জমা দেওয়া কাগজপত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সুভাস চন্দ্র বসুকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা উচিত।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়ায় হচ্ছে ফ্লাইং একাডেমি সাধারণের সন্তানরাও হবে পাইলট: আফরোজা খানম

তাদের মতে, এটি শুধু একজন মানুষের স্বীকৃতির বিষয় নয়, বরং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান অক্ষুণ্ন রাখারও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে সুভাস চন্দ্র বসুর একটাই আকুতি-স্বাধীনতার জন্য যে যুদ্ধ করেছিলেন, সেই স্বাধীন দেশের রাষ্ট্র যেন তাকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। যেন মৃত্যুর আগে অন্তত এই তৃপ্তি নিয়ে চোখ বন্ধ করতে পারেন যে, তার আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি।