Dhaka ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঈশ্বরদীতে দিন দুপুরে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভীতি প্রদর্শন ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউলকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির বিশেষ সম্মাননা ধুনটের সোনাহাটায় বাংলাদেশ এক্সটেনশন এডুকেশন সার্ভিসেস (বিজ) এনজিওর ৪১৫তম শাখা’র উদ্বোধন জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে মাদক সেবনের দায়ে, চার যুবকের কারাদণ্ড বাসন থানায় অভিযোগ লিখতে নির্দিষ্ট দোকানে পাঠানোর অভিযোগ বান্দরবানে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে ইটভাটা মালিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: মনপুরার ইউএনও’র বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরই সুখবর: পাকুন্দিয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদে জোড়া সেতু নির্মাণের নির্দেশ মাদকের বিরুদ্ধে বাবুছড়ায় পুলিশের সঙ্গে জনতার পদযাত্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পোশাক বাণিজ্য ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ

বাসন থানায় অভিযোগ লিখতে নির্দিষ্ট দোকানে পাঠানোর অভিযোগ

এসকে শুভ গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি: গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) কিংবা লিখিত অভিযোগ দিতে গিয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে অভিযোগ লিখিয়ে নেওয়ার জন্য সাধারণ সেবা গ্রহীতাদের চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, থানার বাইরে চায়ের দোকান ও কম্পিউটারের দোকানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কথিত ‘অভিযোগ লেখার সিন্ডিকেট’। আর এ কাজে থানার ভেতরের কিছু সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন একাধিক সেবা গ্রহীতা। অনুসন্ধানে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, থানায় দায়িত্ব পালনকারী কিছু সেন্ট্রি অভিযোগকারীদের নির্দিষ্ট কয়েকটি দোকানে পাঠিয়ে দেন। সেখানে অভিযোগ লিখিয়ে নিতে গুনতে হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত অভিযোগকারীদের দাবি, নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে অভিযোগ না লিখালে থানায় অভিযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বাসন থানায় কর্মরত এএসআই আওলাদ (বিপি-৮৩০৪০০২০৩৩)। তাঁর আত্মীয়স্বজন পরিচয়ে আবু বক্কর সিদ্দিক নামে এক ব্যক্তি থানার পাশে চায়ের দোকানে এবং সাকিব নামে আরেক ব্যক্তি ‘বিসমিল্লাহ কম্পিউটার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ লেখার কাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


‎তাদের মাধ্যমে অভিযোগ লেখার ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে এবং এর সঙ্গে থানার কিছু সদস্যের আর্থিক লেনদেন রয়েছে—এমন গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। থানায় অভিযোগ করতে আসা সাধারণ মানুষ অনেক সময় পারিবারিক বিরোধ, জমি-জমা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আর্থিক লেনদেন কিংবা অন্যান্য সংবেদনশীল বিষয় উল্লেখ করেন। এসব তথ্য অভিযোগকারীর ব্যক্তিগত বিষয় হওয়ায় এগুলোর গোপনীয়তা রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু থানার গুরুত্বপূর্ণ কোনো অভিযোগ যদি থানার বাইরে একটি চায়ের দোকানে বসে লেখা হয়, তাহলে ওই অভিযোগের তথ্য কতটা গোপন থাকে—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের অভিযোগ, খোলা পরিবেশে বসে অভিযোগ লেখার সময় অভিযোগকারীর ব্যক্তিগত তথ্য অনিচ্ছাকৃতভাবে অন্যদের সামনে প্রকাশ হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে পারিবারিক বিরোধ, নারী নির্যাতন, জমি নিয়ে বিরোধ কিংবা আর্থিক লেনদেনের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় এ ধরনের পরিস্থিতি অভিযোগকারীর জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  "রুপালি মৎস্যে সমৃদ্ধির স্বপ্ন " পত্নীতলায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ শুরু


‎একাধিক সেবা গ্রহীতার ভাষ্য, থানায় প্রবেশের পর অভিযোগ লেখার জন্য কোথায় যেতে হবে—সে বিষয়ে তারা নির্দিষ্ট ব্যক্তির নির্দেশনা পান। এরপর সংশ্লিষ্ট দোকানে গিয়ে অভিযোগ লিখিয়ে টাকা দিতে হয়। অভিযোগ লেখার বিনিময়ে কত টাকা নেওয়া হয়—এ বিষয়ে জানতে চাইলে চায়ের দোকানে ‘তাকওয়া কম্পিউটার’-এর রাইটার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “যার কাছে যেমন নিতে পারি, ২০০ থেকে ৩০০ টাকা অভিযোগ লিখতে নিয়ে থাকি রাইটারের এই বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে, থানায় অভিযোগ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবার সঙ্গে যুক্ত অভিযোগ লেখার জন্য বাইরে বসে কেন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে টাকা দিতে হবে? আর এই অর্থ নেওয়ার কোনো নির্ধারিত হার না থাকলে, তা কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে? আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো এই অর্থের কোনো অংশ কি থানার ভেতরের কারও কাছে পৌঁছায়? অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া এবং লেনদেনের বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুনঃ  লালমোহনে অটোরিকশার চাপায় ৭ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু


‎সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো—দায়িত্বরত সেন্ট্রিরা অভিযোগকারীদের নির্দিষ্ট দোকানে পাঠান এবং অভিযোগ লেখার বিনিময়ে নেওয়া অর্থ থেকে কমিশন ভাগাভাগি করা হয়। একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, থানার ভেতরের কিছু সদস্যের নির্দেশনা ছাড়া বাইরে থেকে এভাবে নিয়মিতভাবে অভিযোগ লেখার কাজ পরিচালনা করা কঠিন। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে চলছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে কমিশন ভাগাভাগির অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সিসিটিভি ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট সময়ের ডিউটি রোস্টার, অভিযোগকারীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট দোকানগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। থানায় কোনো নাগরিক অভিযোগ করতে গেলে তাকে নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত দোকানে পাঠানো হচ্ছে কি না—এ বিষয়টিও তদন্তের দাবি রাখে। কারণ একজন নাগরিক থানায় গিয়ে নিজের বক্তব্য লিখিতভাবে দিতে চাইলে তাকে কেন বাইরের কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভর করতে হবে—এ প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  ​নাগেশ্বরীতে উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদ্বোধন ও পুরস্কার প্রদান


‎যদি অভিযোগ লেখার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা দোকানকে অনানুষ্ঠানিকভাবে বাধ্যতামূলক করা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি নাগরিক সেবা প্রদানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত। অভিযোগকারীদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ—তাদের ব্যক্তিগত তথ্য। একজন মানুষ থানায় এসে কোনো ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিবেশী কিংবা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগের মধ্যে থাকতে পারে মোবাইল নম্বর, ঠিকানা, পারিবারিক তথ্য, আর্থিক লেনদেন, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা সম্ভাব্য অপরাধের বিস্তারিত তথ্য। এসব তথ্য যদি থানার বাইরে চায়ের দোকান বা কম্পিউটার দোকানে বসে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে লেখা হয়, তাহলে তথ্যের গোপনীয়তা কতটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। অভিযোগের বিষয়ে বাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশ্ন এখন আরও তীব্র বাসন থানায় অভিযোগ করতে গেলে সাধারণ মানুষ কি সত্যিই পুলিশের কাছ থেকে নাগরিক সেবা পাচ্ছেন, নাকি একটি অদৃশ্য নিয়ন্ত্রিত ‘অভিযোগ লেখার সিন্ডিকেট’-এর কাছে বাধ্য হচ্ছেন?

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ঈশ্বরদীতে দিন দুপুরে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভীতি প্রদর্শন

বাসন থানায় অভিযোগ লিখতে নির্দিষ্ট দোকানে পাঠানোর অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০৯:১৫:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

এসকে শুভ গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি: গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) কিংবা লিখিত অভিযোগ দিতে গিয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে অভিযোগ লিখিয়ে নেওয়ার জন্য সাধারণ সেবা গ্রহীতাদের চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, থানার বাইরে চায়ের দোকান ও কম্পিউটারের দোকানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কথিত ‘অভিযোগ লেখার সিন্ডিকেট’। আর এ কাজে থানার ভেতরের কিছু সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন একাধিক সেবা গ্রহীতা। অনুসন্ধানে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, থানায় দায়িত্ব পালনকারী কিছু সেন্ট্রি অভিযোগকারীদের নির্দিষ্ট কয়েকটি দোকানে পাঠিয়ে দেন। সেখানে অভিযোগ লিখিয়ে নিতে গুনতে হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত অভিযোগকারীদের দাবি, নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে অভিযোগ না লিখালে থানায় অভিযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বাসন থানায় কর্মরত এএসআই আওলাদ (বিপি-৮৩০৪০০২০৩৩)। তাঁর আত্মীয়স্বজন পরিচয়ে আবু বক্কর সিদ্দিক নামে এক ব্যক্তি থানার পাশে চায়ের দোকানে এবং সাকিব নামে আরেক ব্যক্তি ‘বিসমিল্লাহ কম্পিউটার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ লেখার কাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


‎তাদের মাধ্যমে অভিযোগ লেখার ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে এবং এর সঙ্গে থানার কিছু সদস্যের আর্থিক লেনদেন রয়েছে—এমন গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। থানায় অভিযোগ করতে আসা সাধারণ মানুষ অনেক সময় পারিবারিক বিরোধ, জমি-জমা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আর্থিক লেনদেন কিংবা অন্যান্য সংবেদনশীল বিষয় উল্লেখ করেন। এসব তথ্য অভিযোগকারীর ব্যক্তিগত বিষয় হওয়ায় এগুলোর গোপনীয়তা রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু থানার গুরুত্বপূর্ণ কোনো অভিযোগ যদি থানার বাইরে একটি চায়ের দোকানে বসে লেখা হয়, তাহলে ওই অভিযোগের তথ্য কতটা গোপন থাকে—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের অভিযোগ, খোলা পরিবেশে বসে অভিযোগ লেখার সময় অভিযোগকারীর ব্যক্তিগত তথ্য অনিচ্ছাকৃতভাবে অন্যদের সামনে প্রকাশ হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে পারিবারিক বিরোধ, নারী নির্যাতন, জমি নিয়ে বিরোধ কিংবা আর্থিক লেনদেনের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় এ ধরনের পরিস্থিতি অভিযোগকারীর জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  "রুপালি মৎস্যে সমৃদ্ধির স্বপ্ন " পত্নীতলায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ শুরু


‎একাধিক সেবা গ্রহীতার ভাষ্য, থানায় প্রবেশের পর অভিযোগ লেখার জন্য কোথায় যেতে হবে—সে বিষয়ে তারা নির্দিষ্ট ব্যক্তির নির্দেশনা পান। এরপর সংশ্লিষ্ট দোকানে গিয়ে অভিযোগ লিখিয়ে টাকা দিতে হয়। অভিযোগ লেখার বিনিময়ে কত টাকা নেওয়া হয়—এ বিষয়ে জানতে চাইলে চায়ের দোকানে ‘তাকওয়া কম্পিউটার’-এর রাইটার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “যার কাছে যেমন নিতে পারি, ২০০ থেকে ৩০০ টাকা অভিযোগ লিখতে নিয়ে থাকি রাইটারের এই বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে, থানায় অভিযোগ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবার সঙ্গে যুক্ত অভিযোগ লেখার জন্য বাইরে বসে কেন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে টাকা দিতে হবে? আর এই অর্থ নেওয়ার কোনো নির্ধারিত হার না থাকলে, তা কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে? আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো এই অর্থের কোনো অংশ কি থানার ভেতরের কারও কাছে পৌঁছায়? অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া এবং লেনদেনের বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুনঃ  চকরিয়ায় বাস-লেগুনা সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৪ জনের, আহত ৫


‎সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো—দায়িত্বরত সেন্ট্রিরা অভিযোগকারীদের নির্দিষ্ট দোকানে পাঠান এবং অভিযোগ লেখার বিনিময়ে নেওয়া অর্থ থেকে কমিশন ভাগাভাগি করা হয়। একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, থানার ভেতরের কিছু সদস্যের নির্দেশনা ছাড়া বাইরে থেকে এভাবে নিয়মিতভাবে অভিযোগ লেখার কাজ পরিচালনা করা কঠিন। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে চলছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে কমিশন ভাগাভাগির অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সিসিটিভি ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট সময়ের ডিউটি রোস্টার, অভিযোগকারীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট দোকানগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। থানায় কোনো নাগরিক অভিযোগ করতে গেলে তাকে নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত দোকানে পাঠানো হচ্ছে কি না—এ বিষয়টিও তদন্তের দাবি রাখে। কারণ একজন নাগরিক থানায় গিয়ে নিজের বক্তব্য লিখিতভাবে দিতে চাইলে তাকে কেন বাইরের কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভর করতে হবে—এ প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  লালমোহনে অটোরিকশার চাপায় ৭ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু


‎যদি অভিযোগ লেখার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা দোকানকে অনানুষ্ঠানিকভাবে বাধ্যতামূলক করা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি নাগরিক সেবা প্রদানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত। অভিযোগকারীদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ—তাদের ব্যক্তিগত তথ্য। একজন মানুষ থানায় এসে কোনো ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিবেশী কিংবা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগের মধ্যে থাকতে পারে মোবাইল নম্বর, ঠিকানা, পারিবারিক তথ্য, আর্থিক লেনদেন, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা সম্ভাব্য অপরাধের বিস্তারিত তথ্য। এসব তথ্য যদি থানার বাইরে চায়ের দোকান বা কম্পিউটার দোকানে বসে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে লেখা হয়, তাহলে তথ্যের গোপনীয়তা কতটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। অভিযোগের বিষয়ে বাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশ্ন এখন আরও তীব্র বাসন থানায় অভিযোগ করতে গেলে সাধারণ মানুষ কি সত্যিই পুলিশের কাছ থেকে নাগরিক সেবা পাচ্ছেন, নাকি একটি অদৃশ্য নিয়ন্ত্রিত ‘অভিযোগ লেখার সিন্ডিকেট’-এর কাছে বাধ্য হচ্ছেন?