Dhaka ০৯:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বিদ্যুৎ গেলেই অন্ধকারে কুলাউড়া৫০ শয্যা হাসপাতাল ফরিদগঞ্জে ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়ার বদলি জনিত বিদায় সংবর্ধনা উলিপুর সরকারি কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত নবগঠিত সিলেট জেলা যুবদল কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে জৈন্তাপুরে আনন্দ মিছিল শরীয়তপুর জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটির বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আনন্দ মিছিল চৌরাট শিবপুর বরেন্দ্র ডিগ্রী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন বরণ সুবর্ণচরে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ সমাবেশ ৬ দফা দাবিতে গ্রাহকদের বিক্ষোভ লালপুর ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের উদ্বোধনী ক্লাস অনুষ্ঠিত ধামইরহাট ঐতিহ্যবাহী জগদল আদিবাসী স্কুল ও কলেজে একাদশ শ্রেণীর অরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত চিলমারীতে গোলাম হাবিব মহিলা ডিগ্রী কলেজ ওরিয়েন্টেশন- ২৬ অনুষ্ঠিত

কাউনিয়ায় আমনের বাম্পার ফলনের আশা

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৪:১৯:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৩ সময় দেখুন

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি: সবুজে ছেয়ে গেছে রংপুরের কাউনিয়ার বিস্তীর্ণ আমনখেত। কোনো কোনো জমিতে ধানের শিষ বের হয়েছে, আবার কোথাও শিষের দানা পুষ্ট হতে শুরু করেছে। আগাম জাতসহ বিভিন্ন জাতের আমন ধান এখন পরিপক্বতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায় আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো পরিচর্যা ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চাষাবাদ করায় এবার ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন কৃষকেরা। তবে ধান ঘরে তোলার আগমুহূর্তে মাজরা পোকা, বাদামি গাছফড়িংসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকার আক্রমণের শঙ্কায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ আমনখেতের ধানগাছ সতেজ ও সবল। অনেক জমিতে ভালো শিষ এসেছে। কোনো কোনো জমিতে ধানের দানা পুষ্ট হওয়ার দৃশ্যও চোখে পড়ছে। মাঠজুড়ে ধানের সবুজের সঙ্গে কোথাও কোথাও ফুটে উঠেছে সোনালি আভা। কৃষকেরা বলছেন, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া ও ধানের অবস্থা অনুকূলে থাকায় আশানুরূপ ফলনের আশা করছেন তাঁরা।

আরও পড়ুনঃ  দেবিদ্বারে আত্মহত্যার চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় মা ও ভাতিজিকে খুন

 

 

তবে ধান কাটার আগ পর্যন্ত রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ কাটছে না। কৃষকদের আশঙ্কা, শেষ সময়ে মাজরা পোকা, বাদামি গাছফড়িং বা অন্য কোনো ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ হলে এত দিনের শ্রম ও বিনিয়োগ হুমকির মুখে পড়তে পারে। এতে শুধু ফলন কমার আশঙ্কাই নয়, বাড়তে পারে বালাইনাশক ও অতিরিক্ত পরিচর্যার খরচও। কৃষকেরা জানান, মৌসুমের শুরু থেকেই জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ, সেচ, আগাছা দমনসহ প্রয়োজনীয় পরিচর্যায় তাঁরা গুরুত্ব দিয়েছেন। উপজেলা কৃষি দপ্তরের পরামর্শ অনুসরণ করে অনেক কৃষক সময়মতো বিভিন্ন কৃষি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। ফলে অনুকূল আবহাওয়ার সঙ্গে যথাযথ পরিচর্যার সমন্বয়ে অধিকাংশ জমিতেই ধানের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। বালাপাড়া ইউনিয়নের হরিশ্বর গ্রামের কৃষক আফসার আলী বলেন, “গত বছর ধানের অবস্থা শুরুতে খুব ভালো ছিল। কিন্তু শেষের দিকে মাজরা পোকা, বাদামি গাছফড়িংসহ বিভিন্ন পোকার আক্রমণে খেতের ক্ষতি হয়েছিল। এবার কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে ধান আবাদ করেছি।

আরও পড়ুনঃ  আব্দুর রহমান ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণীর নবীন বরণ ও ওরিয়েন্টেশন ক্লাস অনুষ্ঠিত

 

 

এখন ধানের অবস্থা ভালো। ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছি। তবে শেষ সময়ে পোকার আক্রমণ নিয়ে চিন্তা হচ্ছে। এত দিনের পরিশ্রম যেন নষ্ট না হয়। একই গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, “গত বছর প্রথম দিকে খেত খুব ভালো হয়েছিল। কিন্তু শেষের দিকে পোকার আক্রমণের কারণে পুরো খেত নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এবার ধানের অবস্থা ভালো। তারপরও ধান ঘরে না তোলা পর্যন্ত ভয় কাটছে না। শেষ সময়ে কোনো পোকা বা রোগ হলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সালাহউদ্দিন জানান, চলতি মৌসুমে আগাম আমনসহ উপজেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৪৭০ হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে। মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কমরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন কৃষককে নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন এছাড়াও উপজেলা কৃষি অফিস সার্বক্ষণিক কৃষকের পাশে রয়েছে ।

আরও পড়ুনঃ  নজিপুর পৌরসভা মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন বিষয়ক পরামর্শকরণ-৩ সেমিনার অনুষ্ঠিত

 

 

তিনি আরও বলেন কোনো জমিতে রোগবালাই বা পোকার সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের অথবা উপজেলা কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সমস্যার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে। কৃষকদের অতিরিক্ত বালাইনাশক প্রয়োগই পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায় নয়। নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণ, সঠিক সময়ে পোকার উপস্থিতি শনাক্ত করা এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করাই কার্যকর পদ্ধতি। এতে একদিকে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে, অন্যদিকে কৃষিজমির উপকারী জীববৈচিত্র্যও সুরক্ষিত থাকবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বিদ্যুৎ গেলেই অন্ধকারে কুলাউড়া৫০ শয্যা হাসপাতাল

কাউনিয়ায় আমনের বাম্পার ফলনের আশা

আপডেটের সময়: ০৪:১৯:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি: সবুজে ছেয়ে গেছে রংপুরের কাউনিয়ার বিস্তীর্ণ আমনখেত। কোনো কোনো জমিতে ধানের শিষ বের হয়েছে, আবার কোথাও শিষের দানা পুষ্ট হতে শুরু করেছে। আগাম জাতসহ বিভিন্ন জাতের আমন ধান এখন পরিপক্বতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায় আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো পরিচর্যা ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চাষাবাদ করায় এবার ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন কৃষকেরা। তবে ধান ঘরে তোলার আগমুহূর্তে মাজরা পোকা, বাদামি গাছফড়িংসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকার আক্রমণের শঙ্কায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ আমনখেতের ধানগাছ সতেজ ও সবল। অনেক জমিতে ভালো শিষ এসেছে। কোনো কোনো জমিতে ধানের দানা পুষ্ট হওয়ার দৃশ্যও চোখে পড়ছে। মাঠজুড়ে ধানের সবুজের সঙ্গে কোথাও কোথাও ফুটে উঠেছে সোনালি আভা। কৃষকেরা বলছেন, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া ও ধানের অবস্থা অনুকূলে থাকায় আশানুরূপ ফলনের আশা করছেন তাঁরা।

আরও পড়ুনঃ  হাত পায়ের রগ অবশ,চিকিৎসার খরচ জোগাতে পারছেন না ক্ষেতলালের কাউছারের পরিবার

 

 

তবে ধান কাটার আগ পর্যন্ত রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ কাটছে না। কৃষকদের আশঙ্কা, শেষ সময়ে মাজরা পোকা, বাদামি গাছফড়িং বা অন্য কোনো ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ হলে এত দিনের শ্রম ও বিনিয়োগ হুমকির মুখে পড়তে পারে। এতে শুধু ফলন কমার আশঙ্কাই নয়, বাড়তে পারে বালাইনাশক ও অতিরিক্ত পরিচর্যার খরচও। কৃষকেরা জানান, মৌসুমের শুরু থেকেই জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ, সেচ, আগাছা দমনসহ প্রয়োজনীয় পরিচর্যায় তাঁরা গুরুত্ব দিয়েছেন। উপজেলা কৃষি দপ্তরের পরামর্শ অনুসরণ করে অনেক কৃষক সময়মতো বিভিন্ন কৃষি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। ফলে অনুকূল আবহাওয়ার সঙ্গে যথাযথ পরিচর্যার সমন্বয়ে অধিকাংশ জমিতেই ধানের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। বালাপাড়া ইউনিয়নের হরিশ্বর গ্রামের কৃষক আফসার আলী বলেন, “গত বছর ধানের অবস্থা শুরুতে খুব ভালো ছিল। কিন্তু শেষের দিকে মাজরা পোকা, বাদামি গাছফড়িংসহ বিভিন্ন পোকার আক্রমণে খেতের ক্ষতি হয়েছিল। এবার কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে ধান আবাদ করেছি।

আরও পড়ুনঃ  আব্দুর রহমান ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণীর নবীন বরণ ও ওরিয়েন্টেশন ক্লাস অনুষ্ঠিত

 

 

এখন ধানের অবস্থা ভালো। ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছি। তবে শেষ সময়ে পোকার আক্রমণ নিয়ে চিন্তা হচ্ছে। এত দিনের পরিশ্রম যেন নষ্ট না হয়। একই গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, “গত বছর প্রথম দিকে খেত খুব ভালো হয়েছিল। কিন্তু শেষের দিকে পোকার আক্রমণের কারণে পুরো খেত নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এবার ধানের অবস্থা ভালো। তারপরও ধান ঘরে না তোলা পর্যন্ত ভয় কাটছে না। শেষ সময়ে কোনো পোকা বা রোগ হলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সালাহউদ্দিন জানান, চলতি মৌসুমে আগাম আমনসহ উপজেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৪৭০ হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে। মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কমরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন কৃষককে নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন এছাড়াও উপজেলা কৃষি অফিস সার্বক্ষণিক কৃষকের পাশে রয়েছে ।

আরও পড়ুনঃ  মাদারগঞ্জে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার উদ্যোগে, ৩০৭ কেজি মাছের পোনা অবমুক্তকরণ....

 

 

তিনি আরও বলেন কোনো জমিতে রোগবালাই বা পোকার সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের অথবা উপজেলা কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সমস্যার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে। কৃষকদের অতিরিক্ত বালাইনাশক প্রয়োগই পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায় নয়। নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণ, সঠিক সময়ে পোকার উপস্থিতি শনাক্ত করা এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করাই কার্যকর পদ্ধতি। এতে একদিকে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে, অন্যদিকে কৃষিজমির উপকারী জীববৈচিত্র্যও সুরক্ষিত থাকবে।