
মোঃ রমজান আলী আটোয়ারী উপজেলা (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বাড়াতে এবং শিশুদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। আজ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সরজমিনে দেখা যায় নিয়মিত ডিম, কলা, পাউরুটি, দুধ ও বিস্কুট পেয়ে আনন্দিত ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা। পুষ্টিকর এসব খাবার পেয়ে শিশুদের মধ্যে যেমন তৈরি হচ্ছে বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ, তেমনি তাদের শারীরিক গঠন ও চেহারাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আটোয়ারী উপজেলার ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ১০ হাজার ৩২৮ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী এসব পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
সকালবেলা বিদ্যালয়ে এসে ক্লাসের পাশাপাশি কখন খাবার দেওয়া হবে, সেই অপেক্ষায় থাকে অনেক শিক্ষার্থী। খাবার বিতরণের সময় ছোটদের মধ্যে দেখা যায় বাড়তি উচ্ছ্বাস। ডিম, কলা, পাউরুটি, দুধ ও বিস্কুটের মতো খাবার পেয়ে আনন্দের সঙ্গে তা খেয়ে নেয় তারা। শিক্ষকরা বলছেন, আগে অনেক শিক্ষার্থী নানা কারণে বিদ্যালয়ে অনিয়মিত থাকলেও স্কুল ফিডিং চালুর পর তাদের উপস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের শিশুদের জন্য বিদ্যালয়ে পাওয়া এসব খাবার বাড়তি উৎসাহ তৈরি করছে। এতে একদিকে যেমন শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়তা হচ্ছে, অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রতি তাদের আগ্রহও বাড়ছে। আটোয়ারীর কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, খাবার বিতরণের সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়। শিক্ষকরা সুশৃঙ্খলভাবে শিশুদের হাতে খাবার তুলে দেন। শিশুরাও আনন্দের সঙ্গে খাবার গ্রহণ করে।
অভিভাবকদের কয়েকজন জানান, পরিবারের সীমিত আয়ের কারণে প্রতিদিন সন্তানদের জন্য পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ে নিয়মিত ডিম, দুধ, কলা, পাউরুটি ও বিস্কুট পাওয়ায় তারা স্বস্তি বোধ করছেন। তাদের মতে, শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি পুষ্টির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় কর্মসূচিটি পরিবারগুলোর জন্যও সহায়ক হয়ে উঠেছে। এক শিক্ষার্থী আনন্দ প্রকাশ করে বলে, স্কুলে এসে পড়াশোনা করি, আবার খাবারও পাই। ডিম, কলা আর দুধ পেতে আমাদের খুব ভালো লাগে। শিক্ষকদের মতে, একটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পুষ্টিকর খাবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষুধার্ত অবস্থায় শিশুর পক্ষে শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার পেলে শিশুরা তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয় থাকে এবং পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পায়।
সচেতন মহল মনে করছে, প্রাথমিক পর্যায়ের শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা, ঝরে পড়ার প্রবণতা কমানো এবং পুষ্টির ঘাটতি পূরণে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে খাবারের মান, পরিমাণ ও নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। আটোয়ারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। নিয়মিতভাবে কর্মসূচি পরিচালিত হলে এর সুফল দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের শিক্ষা ও শারীরিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, আটোয়ারীর প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং এখন শুধু শিশুদের ক্ষুধা মেটানোর কর্মসূচি নয়; এটি হয়ে উঠছে বিদ্যালয়মুখী করার পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টি ও সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করার একটি কার্যকর উদ্যোগ। প্রতিদিন খাবার হাতে পেয়ে ছোট ছোট মুখে যে হাসি ফুটছে, তাতেই যেন প্রতিফলিত হচ্ছে কর্মসূচিটির গুরুত্ব।
প্রতিবেদকের নাম 








