
মাসুদ রানা মাসুম, পার্বত্য ব্যুরো
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রুমা উপজেলায় সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামূলক ‘ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট’ (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির চাল বিতরণে উপকারভোগীদের সঞ্চয়ের টাকা কেটে রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কার্ডে মাসিক সঞ্চয় ২২০ টাকা লিপিবদ্ধ করা হলেও, দুস্থ নারীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ২৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রতি উপকারভোগীর কাছ থেকে কেটে রাখা এই অতিরিক্ত ৩০ টাকা সরকারি কোনো তহবিলে জমা হচ্ছে না বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। সরেজমিনে রুমা এলাকার বেশ কয়েকজন ভিডব্লিউবি কার্ডধারীর সাথে কথা বলে এবং তাদের বিতরণ কার্ড পর্যালোচনা করে এই অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে।
কার্ডধারীদের দেওয়া তথ্য ও সংগৃহীত ছবিতে দেখা যায় যে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রতি মাসেই খাদ্যশস্য বিতরণের তারিখে উপকারভোগীর সঞ্চয় কলামে ‘২২০/-‘ টাকা স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে এবং পাশে সংশ্লিষ্টদের স্বাক্ষর ও টিপসই রয়েছে। তবে ভুক্তভোগী নারীদের অভিযোগ, চাল নেওয়ার সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ২৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। কার্ডে কম লেখার বিষয়ে জানতে চাইলে মাঠপর্যায়ের দায়িত্বশীলরা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রুমা সদর ইউনিয়নের এক ভুক্তভোগী নারী বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, সরকারের দেওয়া ৩০ কেজি চাল আমাদের বড় সম্বল। চাল নেওয়ার সময় আমাদের কাছ থেকে ঠিকই ২৫০ টাকা নেওয়া হয়, কিন্তু কার্ডে তোলার সময় কেন ২২০ টাকা লেখা হয় তা আমরা জানি না। প্রতি মাসে আমাদের মতো শত শত নারীর কাছ থেকে এভাবে ৩০ টাকা করে কেটে রাখা হচ্ছে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি ইউনিয়নে যদি ৫০০ জন ভিডব্লিউবি গ্রাহক থাকেন, তবে প্রতি মাসে গ্রাহকদের অজান্তেই প্রায় ১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পুরো উপজেলা জুড়ে এই হিসাব করলে লোপাট হওয়া টাকার অঙ্কটা অনেক বড় দাঁড়ায়। সাধারণ কার্ডধারীদের প্রশ্ন— সরকারের নিয়মের বাইরে গিয়ে এই ৩০ টাকা কেটে রাখার পেছনে কার হাত রয়েছে? এটি কি স্থানীয় সিন্ডিকেটের কারসাজি নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে? এই বিষয়ে জানতে চাইলে রুমা উপজেলার সচেতন মহল ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানান, সরকারি নীতিমালায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে উপকারভোগীদের নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা সঞ্চয় রাখার কথা, যা চক্র শেষে লভ্যাংশসহ ফেরত দেওয়া হয়। কিন্তু কার্ডের হিসাবের সাথে বাস্তব আদায়ের এই অমিল সম্পূর্ণ বেআইনি এবং চরম অনিয়ম। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, এই বিপুল পরিমাণ টাকার ঘাটতির বিষয়টি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত, যাতে দুস্থ নারীরা তাদের হকের টাকা সম্পূর্ণ ফিরে পান। (চলবে….)
প্রতিবেদকের নাম 

















